খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে যুবদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:০১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে যুবদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩ ১১:৪২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩ ১১:৪২ অপরাহ্ণ

 

যুবদলের নবগঠিত কমিটিতে সীমাহীন দুর্নীতি, পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় অযোগ্যদের পদায়ন এবং ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন ও পদবঞ্চিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সামনে বিক্ষোভ করে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে তারা কমিটি বাতিলের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। তারা কমিটিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি তুলে ধরে নিষ্ক্রিয় ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদপ্রাপ্তদের পদ বাতিল করে ত্যাগী ও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কর্মীদের মূল কমিটির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিতরা নিয়মিত বিক্ষোভ মিছিল করছেন। কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দলের ঘোষিত সকল কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পালন করে আসছেন।

তাদের অভিযোগ, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দলের সক্রিয় নেতা কর্মীদেরকে বাদ দিয়ে যারা টাকা দিয়েছেন, অন্য অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন বা বাসার বাজার করে দিয়েছেন কিংবা তাদের দোকানের কর্মচারী ছিলেন তাদেরকে তিনি পদ দিয়েছেন।

দলের দুঃসময়ে যেখানে ত্যাগী, সাহসী ও যোগ্য কর্মীদের পদায়ন করা প্রয়োজন, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবেই দলটিকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে সভাপতির দিকে অভিযোগ করছে নেতাকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভুইয়া পিংকু, ইমাম হোসেন, নুরুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ দিপু, মাসুমুল হক মাসুম দলের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। শুধুমাত্র অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তাদের পদায়ন করা হয়েছে।
প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ভাতিজা পিংকু ফরিদপুরে ‘মুজিব শতবর্ষে’ সকল অনুষ্ঠানে স্পন্সর করে প্রধান অতিথি হিসেব অংশগ্রহণ করার রেকর্ড রয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান নিষ্ক্রিয়। সভাপতির কাছের লোক হিসেবে তাকে পদ দেয়া হয়েছে। সহ-সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিশু বিগত আট বছর ধরে আমেরিকা প্রবাসী। তাকে অর্থের বিনিময়ে পদ দেয়া হয়েছে। খনদকার মাহবুবুর রহমান মাহী সভাপতির ব্যক্তিগত কাজের লোক। এ কারণে তাকে পদ দেয়া হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাহবুব ওরফে কসমেটিক্স মাহবুবকে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদ দেয়া হয়েছে। বিগত কুড়ি বছরের অধিক সময় ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা তাজুল ইসলামকেও পদ দেয়া হয়েছে।

তারা দাবি করেন, ঘোষিত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান কোনোদিন কোনো পর্যায়ে রাজনীতির সাথে জড়িত না থেকেও শুধুমাত্র আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে প্রবাস থেকে এসেই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

সামসুজ্জোহা সুমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে ক্যাফে ক্যাম্পাস নামে রেস্টুরেন্টের মালিক। ব্যবসার কাজে ১০ বছর যাবত দলীয় কর্মকাণ্ড করেন না। টুকু-মুন্নার কমিটির পর সক্রিয় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যম্পাসে যেতে পারে না, সেখানে সুমন ছাত্রলীগের সহযোগিতায় ব্যবসা করে আসছেন ১০ বছর ধরে। শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কাতার প্রবাসী মামুনকেও বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সহ-সম্পাদক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক জোবায়দুর রহমান জনি বিগত এক যুগ ধরে দলের কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নেই তবু তাকেও আর্থিক সুবিধার কারণে পদ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান সোহেল, জিল্লুর রহমানদের অতীতে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তাদের সরাসরি যুবদলে পদ দেয়া হয়েছে। অথচ বলা হয়ে থাকে যুবদল হচ্ছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতাদের সংগঠন।

নাজমুল হুদা রাজু আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাল্টিমুড গ্রুপের কর্মচারী। ব্যক্তিগত কর্মচারী হওয়ার কারণে তাকেও পদ দেয়া হয়েছে। জোবায়দুর রহমান জনি গত ১০ বছরে বিএনপি বা কোনো অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত নয়। আমানুল্লাহ বিপুল সভাপতির অর্থের যোগানদার হওয়ায় তাকে পদ দেয়া হয়েছে। ইউনুস আলী রবি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-আইন সম্পাদক হয়েছেন। তিনি এখনো বরিশাল উত্তর জেলা ও মুলাদী উপজেলা বিএনপির সদস্য। তাকেও অর্থের বিনিময়ে পদ দেয়া হয়েছে।

দলের পদপ্রাপ্ত নিষ্ক্রিয় নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কামরুল হাসান তালুকদার সহ-সাধারণ সম্পাদক, খলিলুর রহমান সহ-সাধারণ সম্পাদক, এন এম আব্দুল্লা উজ্জ্বল, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আয়ুব খান, মুরাদ খান, শাখাওয়াত হোসেন চয়ন, মাইনুদ্দিন রুবেল, মিজানুর রহমান শিশির, জাহিদ হাসান, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, খন্দকার মাইনুদ্দিন খোকন, রফিক আহমেদ ডলার, রুহুল আমিন বাবলু, দুলাল হোসেন, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, মজিবুর রহমান সবুজসহ শতাধিক পদপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

সৈয়দ শহিদুল আলম টিটুকে সদস্য করা হয়েছে আশির দশকে সভাপতি টুকুর সাথে ঢাবি ছাত্রদলের সদস্য ছিল বলে। সভাপতির বন্ধু এই বিশেষ পরিচয়ে তাকেও পদ দেয়া হয়েছে। হুমায়ুন কবির শিপন নবগঠিত কমিটির সদস্য। অতীতে কোনোদিন রাজনীতি করেননি তিনি। সাধারণ সম্পাদক মুন্নার বন্ধুর ভাই। এ কারণে তাকে সদস্য করা হয়েছে। মাসুদুল হক নামের পাবনার এক ইউনিয়ন যুবদল কর্মীকে সদস্য করা হয়েছে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে। কামরুজ্জামান নান্নু, মো: জাহিদ হাসান নবগঠিত কমিটির সদস্য। অতীতে কোথাও কোনো পদ ছিলেন তিনি। সভাপতির বাসার কাজে ফাই ফরমাস খাটেন। তাদেরকেও পদ দেয়া হয়েছে। প্রিন্স আহমেদ এমরান সেক্রেটারি মুন্নার আত্মীয়, বেয়াই পরিচয়ে তাকে সহ-সম্পাদক করা হয়েছে। সানোয়ার হোসেন একটি পেস্টিসাইড কোম্পানি বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে খামার বাড়ি এলাকায় চাকরিরত।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, অনৈতিকভাবে পদায়ন করা এ সকল অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের যুবদলের নতুন কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দলের দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সাবেক যুবদল যুগ্ম সম্পাদক আলী আশরাফ, যুগ্ম সম্পাদক কামাল উদ্দিন, রিন্টু, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান দুলাল, আতিকুর রহমান আতিক, সামসুর রহমান, রফিকুল ইসলাম রতন, অ্যাভোকেট মাহতাব আলম, আব্দুল মমিন সবুজ, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর তাহের বাবু, রিয়াদ হোসেন উজ্জ্বল। সাবেক সদস্য শাহজাহান কবির শাহীন। ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি তারেক উজ জামান, আশরাফুর রহমান বাবু, শোয়েব খন্দকার, নুরুজ্জামান মুকিত লিংকন, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান। যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, এ বি এম মহসিন বিশ্বাস, মাহবুব সিকদার। সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান হাওলাদার, খোরশেদ আলম, শহিদুল ইসলাম মাসুদ সরকার, সাবেক সহ-সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মাসুম, রবিউল হাসান আরিফ, জিল্লুর রহমান কাজল, অ্যাভোকেট মশিউর রহমান রিয়াদ, অ্যাভোকেট সাইদুর রহমান মামুন। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য নাজমুল হাই রায়হান, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি রাশেদ খান, খন্দকার কাকন, এবাদুল হক পারভেজ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ