গণতন্ত্রকামী নিরস্ত্র মানুষের উপর সশস্ত্র হামলা!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২ ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২ ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিশি রাতের ভোটে ক্ষমতা দখল করা আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটোয়া বাহিনীর নানা বাধাবিপত্তি হামলা-মামলা সত্ত্বেও বিএনপি ঢাকার বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে নয়টি সমাবেশ করেছে। কোনো সংঘাত সংঘর্স করেনি বিএনপি। একই ধারাবাহিকতায় পূর্ব ঘোষিত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশের শান্তিপূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিএনপি। কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ বানচালের জন্য ‘মহানাটক’ মঞ্চস্থ করলো সরকার। যে “মহনাটকের শুটিংয়ে”র মাধ্যমে বিজয়ের মাসে নিরস্ত্র গণতন্ত্রকামী মানুষের রক্তে রঞ্জিত হলো ঢাকার রাজপথ।
বুধবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২২, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উপর অবৈধ সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ প্রশাসন বর্বরোচিত অতর্কিত হামলা চালায়।
মহান বিজয়ের মাসে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার বদলে এক দলীয় আচরণের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী সাধারণ মানুষের উপর ন্যাক্কারজনক এই হামলা করে।
এই হামলায় নয়াপল্টনে পুলিশের গুলিতে মকবুল আহমদ নামে বিএনপির এক কর্মীর মৃত্যু হয়। বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহম্মেদ, চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ তিন শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যদিও গত কয়ক দিন ধরেই সরকার ও প্রশাসনের উগ্র আচরণের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বিরোধী দলের সভা সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাঁধা না দেয়ার আহ্বান জানায়। সরকারের শীর্ষ মহল থেকেও সমাবেশে বাঁধা না দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু গতকাল ৭ ডিসেম্বর নিরস্ত্র নয়াপল্টনে পুলিশের নারকীয় তান্ডব সভ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো।
এই ঘটনা দেশের স্বাধীন মর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি নির্মম সহিংসতা। কোনো সভ্য দেশে এটা হতে পারে না। স্বাধীনতার ৫২ বছরে এসে বিরোধী দলের সমাবেশের মতো স্বাভাবিক বিষয়কে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যেভাবে ধরপাকড় করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। হামলা-মামলা ও গুলি করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে তা অকল্পনীয়।
বিষয়টি এমন যে, অবৈধ সরকার জোর করে দেশ শাসন করতে গিয়ে সংবিধানের অযুহাত তুলে সংবিধানের লঙ্ঘন। মানবাধিকার ক্ষুন্ন করছে। বিরোধী দলের রাজনীতি করার পরিবেশ নষ্ট করছে। একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতে অনির্বাচিত এই সরকার সাধারণ মুক্তিকামী জনতার ওপর শেষ মরণকামড় দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এবং বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস ভিন্ন। জণগনের অধিকার হরণ করে, বন্দুকের নল ঠেকিয়ে মসনদ টিকিয়ে রাখতে পারেনি। এবারও পারবে না।
রাজপথই বাতলে দেবে সমাধান সূত্র।
ড. মোর্শেদ হাসান খান
সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল
মহাসচিব, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ
জনতার আওয়াজ/আ আ