গুম-খুনের শিকার হাজার নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:১৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গুম-খুনের শিকার হাজার নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১২, ২০২৩ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১২, ২০২৩ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা গুম-খুন, পঙ্গু ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারে ঈদ উপহার দিচ্ছে বিএনপি। সারা দেশে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব নেতাকর্মীর পরিবারকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১০ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে সহায়তা করে আসছেন। তবে ঈদ উপলক্ষে বাড়তি কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১০-১২ জনের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতারা আগামীকাল থেকে গুম-খুনের শিকার বাকি পরিবারের বাড়িতে সশরীরে গিয়ে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল করছেন। তারাও নিজ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা দিচ্ছেন। এদিকে নতুন করে হাতিরঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী অপুর সন্ধান পাচ্ছে না বিএনপি। গতকাল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পরিবারে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে সারা দেশে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঈদের আগেই এসব উপহার সামগ্রী সারা দেশে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে পৌঁছানো হবে। গুম-খুনের শিকার পরিবারের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছে ১৫৫টি, খুলনা বিভাগে ১৯২টি, চট্টগ্রামে ৩৪০টি, রাজশাহীতে ১৩০টি, রংপুরে ৭৫টি, সিলেটে ২৭টি, বরিশালে ৭৭টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৫টি পরিবার।

বিএনপির নেতারা জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলের অসংখ্য নেতাকর্মী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকেই কারাগারে রয়েছেন। এসব নেতাকর্মীর পরিবারগুলো নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। যে কারণে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করে আসছেন। বরাবরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে তিনি সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপির ৬০০ নেতাকর্মীকে গুম ও সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এখনো কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও অনেক শীর্ষ নেতা কারাবন্দি। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ২২ আগস্ট থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করি, তখন থেকে পুলিশের গুলিতে ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের ১৭ জন ভাই শহীদ হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতার জন্য অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তবুও কারও মধ্যে হতাশা দেখিনি। আরও উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। যত অত্যাচার আসুক, নির্যাতন-নিপীড়ন আসুক, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান ভয়াবহ দানব সরকারকে হটিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার প্রতিটি নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্যাতিত প্রতিটি পরিবারের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে।

জানা গেছে, প্রতিবার শাড়ি, লুঙ্গি, জায়নামাজ, তসবিহ, আতর, টুপি, খেজুর, কিশমিশ, বাদাম, পোলাওয়ের চাল, দুধ, চিনি, লাচ্ছা সেমাই, গুঁড়া দুধ, বাচ্চাদের জন্য চকলেট, বিস্কুট প্রভৃতি কার্টুনে ভরে দেওয়া হতো। কিন্তু এবার কার্টুনের পরিবর্তে নগদ অর্থ ও ঈদ উপলক্ষে কিছু নিত্যপণ্য উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বাক্ষর সংবলিত ঈদ ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা কার্ড দেওয়া হবে।

এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও দিনকালের বিশেষ প্রতিনিধি আতিকুর রহমান রুমন। তিনি কালবেলাকে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। আজ বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় নেতারা উপহার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাদের বাড়িতে সশরীরে গিয়ে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেবেন।

২০১৭ সালের ১১ জুলাই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের গুম হওয়া ২৫ জন নেতাকর্মীর নাম সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে নিখোঁজ নেতাকর্মীদের তালিকা চাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সূত্র উল্লেখ করে গুম হওয়া নেতাকর্মীদের নাম-পরিচয় তুলে ধরে বলেছিলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৫ জন গুম হয়েছেন (বর্তমানে এই সংখ্যা সহস্রাধিক)। তাদের মধ্যে ২৫২ জনের এখন পর্যন্ত হদিস পাওয়া যায়নি। ৩৯ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, ২৭ জন বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পেয়েছেন।

রিজভী সে সময় যেসব নিখোঁজ নেতার নাম বলেছিলেন, তার মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম, সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হীরু, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজ, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল সভাপতি আমিনুল ইসলাম জাকির, তেজগাঁও থানা বিএনপির নেতা সাজেদুল হক সুমন, সাজেদুলের খালাতো ভাই জাহিদুল করিম, নাখালপাড়ার আবদুল কাদের ভূঁইয়া ও মাজহারুল ইসলাম রাসেল, মুগদাপাড়ার আসাদুজ্জামান রানা, উত্তর বাড্ডার আল আমিন, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি এ এম আদনান চৌধুরী ও কাওসার আহমেদ, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব হাসান, ছাত্রদল নেতা খালিদ হাসান, সম্রাট মোল্লা, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল, চঞ্চল, নিজাম উদ্দিন মুন্না, তরিকুল ইসলাম ঝন্টু, কাজি ফরহাদ, সেলিম রেজা পিন্টু, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুম গুম হয়েছেন।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি বাড়ি থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে মুখোশধারী অপহরণকারীরা চোখ বেঁধে গুপ্তস্থানে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৬৩ দিন অজ্ঞাত স্থানে নিখোঁজ থাকার পর একই বছরের ১১ মে সালাহউদ্দিন আহমেদকে সর্বপ্রথম মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ লিংক মাঠে পাওয়া যায়। তখন থেকে নির্বাসিত অবস্থায় দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিলং শহরের বিষ্ণপুরে ‘সানরাইজ গেস্ট হাউস’ নামের একটি দোতলা ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছেন। দীর্ঘ এই সময়ে মামলা পরিচালনা শেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শিলংয়ের আদালত ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আপিলের রায়েও বেকসুর খালাস পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। এখন শুধু তার দেশে ফেরার অপেক্ষা।

এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল কালবেলাকে বলেন, তার এলাকায় যেসব নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারসহ অসহায় মানুষকে সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার ১৫টি ইউনিয়নে সমন্বিতভাবে মোট ৫টি ইফতার মাহফিল করবেন। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে ইফতার মাহফিল করছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে খুলনায় গ্রেপ্তারকৃত দল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের পরিবারকে ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। ইতোমধ্যে খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা দিনব্যাপী মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের ১৫ নেতার বাড়িতে গিয়ে তার এ উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেন, যা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান রকিবুল ইসলাম বকুল। পঞ্চগড়-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ আরেফিন। এ ছাড়া ৫৩ জন নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি আছেন। নির্যাতনের শিকার এসব নেতাকর্মী ছাড়াও তার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন নেতাকর্মীর পরিবারকে সাধ্যমতো সহায়তা দেওয়া হবে। নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তাফা-ই-জামান সেলিম দলের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সহায়তা করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইফতার মাহফিলও হয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে গুম খুনের শিকার নেতাকর্মীদের সহায়তা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার এক হাজারের মতো নেতাকর্মীর পরিবারে সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতা যার যার নির্বাচনী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পরিবারে গিয়ে সহায়তা দিয়ে আসছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ