গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া,বরিশাল-১ আসনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চাপে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:০১, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া,বরিশাল-১ আসনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চাপে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২৫ ২:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২৫ ২:১১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসন। দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ‘আওয়ামী লীগের আসন’ হিসেবে বিবেচিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি জাতীয় নির্বাচনের তিনটিতেই জয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। শুধু ২০০১ সালের নির্বাচনে ব্যতিক্রম ঘটে। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে দল থেকে এবারও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন আলোচনার প্রধান বিষয়। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় স্বপন স্বস্তিতে নেই বলে জানায় দলীয় সূত্র। কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান এবং অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

স্থানীয় বিএনপির নেতারা মনে করেন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণেই অতীতে বারবার এই আসনে বিএনপিকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। কাজী গোলাম মাহবুবের মতো হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েও ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটি জয় পায়নি। নব্বইয়ের দশকের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা, ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন বিএনপিতে যোগ দেন। পরে তিনি দুই উপজেলার সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করে তোলেন। কিন্তু ১/১১–এর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত পেলে বিএনপি থেকে ছিটকে পড়েন।

২০০৯ সালে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহানকে গৌরনদী উপজেলা আহ্বায়ক করার পর বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে আকন কুদ্দুসুর রহমানও নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তোলেন। ফলে দলটি বর্তমানে তিনমুখী বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে।

৩ নভেম্বর সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণার পরে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে আকন কুদ্দুসুর রহমান ও আবদুস সোবাহানের অনুসারীরা। গত ১৯ নভেম্বর প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে দুই উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহানের অনুসারীরা। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।

তারা অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ও স্বপনের ক্যাডার বাহিনীর হাতে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়েছিল। হাজারও হিন্দু পরিবার পাশের জেলা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার রাধাশ্রীতে আশ্রয় নেয়, অনেকেই দেশ ছেড়ে যায়। জোট সরকারের সময়কার সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো আতঙ্কের কারণ বলে জানান তারা।

এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগে বরিশাল-১ আসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী। তারা হলেন জামায়াতের বরিশাল জেলা মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা কামরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মাদ রাসেল সরদার মেহেদী এবং এনসিপির মাজহারুল ইসলাম নিপুণ। তারা ২০০১ সালের ঘটনাকে সামনে এনে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সমর্থন জোরদারের চেষ্টা করছেন। দিচ্ছেন শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপিকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিরসন করতে হবে। নইলে বরিশাল-১ আসন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই বরিশাল-১ ও বরিশাল-২ এই দুই আসনেই নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে কেন্দ্রীয় নেতাদের সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আশির দশকে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে যুবদল এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।’

মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারকরা যা ভালো মনে করেছেন, তারা সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান সবাইকে মিলেমিশে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের নির্দেশ অবশ্যই সবাইকে মানতে হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ