গ্রীষ্মের জাবি: গ্রীষ্মের ফুলে সেজেছে জাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, মে ৩০, ২০২৩ ৫:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুন ১০, ২০২৩ ৭:৪১ অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালেয়র (জাবি) ৭০০ একরের ক্যাম্পাস আজ গ্রীষ্মের গরমে ফুলের আবরণে রঙিন হয়ে উঠেছে। এখানে বসেছে লাল, হলুদ, বেগুনী, সাদা রঙের ফুলের মেলা। গ্রীষ্মের ফুলে রঙিন সাজে সেজেছে। এই সাজ দেখতে এ সময় উৎসুক মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে এই ক্যাম্পাস। ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক চিত্র। গ্রীষ্মের রঙিন ফুলের আকর্ষণ যেন গরমের প্রভাবকে হার মানায়। প্রতিটি অনুষদ, আবাসিক হল, শহিদ মিনার, মুন্নি চত্বর, মুরাদ চত্বর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, লেকের পাড়ে আজ শুধু জারুল-কৃষ্ণচূড়া-সোনালু ফুলের রাজত্ব।
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাস। প্রশাসনিক ভবন, পুরাতন কলা, মেয়েদের আবাসিক হল, অডিটোরিয়ামের সামনে ও পরিবহণ চত্বর থেকে রাঙ্গামাটি রাস্তার দুপাশে লাল গালিছা বিছানো। যেন লাল সবুজের বাংলার এক অপরূপ চিত্রায়ন ফুটে উঠেছে এখানে।

হিমু সাজার প্রতিযোগিতায় প্রকৃতিও পিছিয়ে নেই। সোনালু ফুলের হলুদ আভায় সারা ক্যাম্পাসে বসেছে হলুদিয়ার মেলা। সেই মেলায় প্রেমিক-প্রেমিকার ভিড় নেই। এ বছর সোনালু ফুলের মালায় স্মৃতিগুলো লুকিয়ে রাখার সুযোগ পায়নি।
বেগুনি রঙে রঙিন ক্যাম্পাসের লেকের পাড়গুলো। গরম আর জারুল ফুলের একই সাথে বসবাস। গরমের তীব্রতার সাথে সাথে বেগুনি রঙের মাত্রাও বাড়ে। জারুল দৃষ্টিনন্দন সোভায় মোহিত করে। মাঝে মাঝে জাবির লেকগুলোতে জারুল ও সোনালু ফুলের মিতালি যেন এক স্বর্গরাজ্য। এ ছাড়াও আছে জানা-অজানা নানান ফুলের বৈচিত্র্য।
জাপানের জাতীয় ফুল ক্যাসিয়া রেনিজেরার মন মাতানো সৌন্দর্য বিমহিত করে সবাইকে। এ ফুলে ছেয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষরাজি। শ্বেতশুভ্র ভিনদেশি এ প্রজাতির ফুলগাছের আদি নিবাস জাপান। এর স্নিগ্ধ রূপ ও রং বৈচিত্র্য থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়া কঠিন। ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘বার্মিজ পিংক ক্যাসিয়া’। বর্ষা ছাড়া মোটামুটি বছরের বেশির ভাগ সময়ই বৃক্ষটি পত্রহীন অবস্থায় থাকে। বৃষ্টির ছোয়া পেলেই নতুন পাতা গজায় আর গোলাপি ফুলগুলো ক্রমে সাদা হতে থাকে। এবার শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত।
গতবছর ঠিক এ সময় কৃষ্ণচূড়ার খোঁজে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা মামুনুর রেজা জানান, ‘জাবি ক্যাম্পাসের সাথে একাডেমিক সম্পর্ক না থাকলেও এখানকার প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক কেমন জানি একটা মায়াজালের মত।’
গ্রীষ্মের রোদ পড়া গরমেও গাছে কৃষ্ণচূড়া দেখেই যেনো নিমিষেই গায়ে একটা শীতল হাওয়া বয়ে যায়। কৃষ্ণচূড়া গাছে গাছে যেনো লাল রঙের মেলা।
জনতার আওয়াজ/আ আ