চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে অনেকটাই ধীরে চলতে চাই বিএনপির হাইকমান্ড - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে অনেকটাই ধীরে চলতে চাই বিএনপির হাইকমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৩ ২:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৩ ২:১৯ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি যার যার অবস্থানে অনড়। প্রতিদিনই পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক কৌশল। বিরোধী দলের কর্মসূচির দিনে সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনও পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকছে। ফলে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত শনিবার সারা দেশে জেলা পর্যায়ে পূর্বঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি করতে গিয়ে অন্তত ১৫ জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সরকারি দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত এবং শতাধিক আটক হয়েছেন। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও আহত হয়েছেন। এত হামলা, বাধা ও মামলার পরও দাবি আদায়ে রাজপথেই ফয়সালা খুঁজছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির নীতিনির্ধারক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তারা কোনো হামলা-মামলা ও রক্তচক্ষুকে ভয় পান না। বরং এসব মোকাবিলা করে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করবেন।

কয়েকটি জেলার নেতারা জানান, বিএনপির প্রধান ভরসা দেশের জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও বিভাগীয় গণসমাবেশে তার প্রমাণ সবাই দেখেছে। সুতরাং পিছু হটার সুযোগ তাদের নেই।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো ও দমন-নিপীড়ন বন্ধ এবং খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি, অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করছে বিএনপি। গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার বাইরে জেলা ও মহানগরে গণমিছিলের মধ্য দিয়ে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কারণে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর ওই কর্মসূচি পালিত হয়।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপির ১৫ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথমে ভোলায় পুলিশের গুলিতে দুই নেতা নিহত হওয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই আছে দলটি। কোনো কর্মসূচি ঘিরে যাতে বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে অতীতে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সরকার বা বিভিন্ন শক্তির প্রলোভনে পড়ে হটকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার খেসারত তারা পাচ্ছেন। কিন্তু এবার খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে অনেকটাই ধীরে চলতে চাই বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আগস্ট মাস থেকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচি করছি। ১৭ নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে রাজপথে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, রুহুল কবির রিজভী, মীর সরফত আলী সপু থেকে শুরু করে কয়েক হাজার নেতাকর্মী জেলে আছেন। এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

আলাপকালে বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, তারা সমমনা দলগুলোকে নিয়ে যখন আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই সরকার পুরোনো কায়দায় তাদের কর্মসূচিতে হামলা করছে। এভাবে উসকানি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে দমাতে চায়। বিএনপির অনেক নেতাকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে সরকার এ পথে হাঁটছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের চাপে রাখতে নতুন মামলা দিচ্ছে। অনেক নেতার পুরোনো মামলাগুলো সচল হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতারা মামলা ও সাজার ঝুঁকিতে আছেন। যদিও দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুনভাবে মামলা অব্যাহত আছে। কিন্তু এসব মামলা ও গ্রেপ্তারে ভীত নন দলটির নেতাকর্মীরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। তারা জেগে উঠছে। ইনশাআল্লাহ গায়ের জোরে অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক অবৈধ সরকারের পতন ঘটবে। এ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকব।

জানা যায়, এবারের আন্দোলন নিয়ে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। অবস্থা বুঝে পদক্ষেপ নেবেন তারা। দাবি আদায়ে সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন চলছে। হামলা-মামলা বা জেলের ভয়ে আন্দোলন থেকে কোনোমতেই পিছু হটবে না বিএনপি। এ বিষয়ে সারা দেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রায় দিনই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন।

জানতে চাইলে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমাদের শক্তি হচ্ছে দেশের জনগণ ও তৃণমূল। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা আগের চেয়ে এখন অত্যন্ত সাহসী ও শৃঙ্খল। দৃঢ় মনোবল নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পরিষ্কার কথা, মামলা যখন খেয়েছি আরও খাব। এভাবে বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। সুতরাং আমরা এখন ‘ডু অর ডাই’ অবস্থানে। পিছু হটার সুযোগ নেই।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, বিশ্বের কোনো স্বৈরশাসকই ফুলের বিছানা বিছিয়ে দেয় না যে, তাদের সরানো যাবে। স্বৈরাশাসকের চেহারা সবসময় দানবীয় হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা আরও ভয়াবহ। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ নিপীড়ন করছে। যত অত্যাচার করুক আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে নিয়ে মাঠে থাকব। অতীতে বিশ্বের কোনো স্বৈরাচার টিকতে পারেনি। হিটলার, মুসোলিনি, আইয়ুব ও এরশাদ টিকতে পারেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারও টিকতে পারবে না।

নেত্রকোনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, হামলা-মামলায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিপর্যস্ত। প্রতিনিয়ত হামলা-মামলা হচ্ছে। তবু তাদের দমানো যায়নি। কারণ, হামলা-মামলা ও অত্যাচার এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সুতরাং এবার যে কোনো মূল্যে তারা দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন সফল করতে বদ্ধপরিকর। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আজিজ বলেন, এখন পিছু হটার সুযোগ নেই। কত মামলা দেবে দিক। আমরা রাজপথে আছি এবং রাজপথেই দাবি আদায় করব।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার চাইছে বিএনপিকে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে। তবে তারা যে অপকৌশলই নিক আমাদের ভেবেচিন্তে এগোতে হবে। এই মুহূর্তে ইস্যুভিত্তিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, চলমান আন্দোলন সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি গত ডিসেম্বরে বিভাগভিত্তিক জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এখন প্রায় ৪ হাজার সাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে মূলত তারেক রহমান নেতাকর্মীদের একটিই বার্তা দিচ্ছেন ফয়সালা হবে রাজপথে। মানে দাবি আদায়ে আন্দোলনেই গুরুত্ব বিএনপির।

জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সারা দেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আর সরকারের রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না। তারা হামলা-মামলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সবাই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ