চেতনার দোকান খুলে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা করেছে লুটপাটের বাণিজ্য! - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চেতনার দোকান খুলে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা করেছে লুটপাটের বাণিজ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৫ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৫ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেমন লুটপাটে মেতে উঠেছিল, তেমনি সেই লুটপাটে পিছিয়ে ছিল না দলটির কথিত বুদ্ধিজীবীরাও। ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের নামে লুটপাট করেছেন আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ কথিত বুদ্ধিজীবীরা। সাড়ে ২৩ কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ না করেই তুলে নিয়েছেন ১৩ কোটি টাকা। এই দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে জামুকা’র তদন্ত প্রতিবেদনে।
জামুকার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যেসব আওয়ামী বুদ্ধিজীবীর প্রতিষ্ঠান নামমাত্র গবেষণা করে যে সাত কোটি (৬ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার ৮৬১) টাকা উত্তোলন করেছে, সেগুলো হলো-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামালের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেকটিভ (আরডিসি) চারটি গবেষণার জন্য নিয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৬ টাকা; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসাইনের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ২টি গবেষণার জন্য ১ কোটি ৩ লাখ ৭ হাজার ৩৯৭ টাকা; উন্নয়ন সমন্বয় এর কর্ণধার (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর) অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান ২টি গবেষণার জন্য ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩৪ টাকা। অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন এর গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র ৪টি প্রতিবেদনের জন্য ১ কোটি ৬৭ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩৭ টাকা; বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১টি গবেষণার বিপরীতে নিয়েছে ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৩২৯ টাকা। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. এমরান জাহান। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদের প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পার্লামেন্টারি স্টাডিজ (সিপিএস) ১টি গবেষণা প্রতিবেদনের জন্য নিয়েছে ৭৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান প্রাগমেটিক কনসালটেন্সি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (পিসিআরসি) ২টি গবেষণা প্রতিবেদন করেছে। এর জন্য নিয়েছে ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮ টাকা। এই ১৬টি গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ছিল সর্বমোট ১২ কোটি ৪৭ লাখ ১৫ হাজার ৩৩০ টাকা। ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে সর্বমোট ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার ৮৬১ টাকা।
প্রতিবেদন থেকে বোঝাই যাচ্ছে, কাজ না করে হরিলুট করতেই এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের নামে যেনতেন গবেষণা আর দলীয় প্রভাবে টাকাও তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত ও নতুন নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করা; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয়নি। বরং এসব গবেষণার অধিকাংশই পূর্বের কোনো তথ্য থেকে কপি-পেস্ট করা হয়েছে। দেখা গেছে, এতে গবেষকরা নিজেদের ইতঃপূর্বে প্রকাশিত তথ্য ও লেখা অধিকমাত্রায় আবার প্রতিস্থাপন করেছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে ইতিহাসের অনেক সত্যকে তো বাদ দেওয়া হয়েছেই, এসব গবেষণায় শুধু ব্যক্তি ও সুনির্দিষ্ট একটি দলকে গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছে।
বস্তুত, প্রকল্পের নামে সারা দেশে যে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে, দলীয়করণ হয়েছে এটি তারই অংশ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ