ছোট্ট আবির জোড়া লাগাল মা-বাবার ভাঙা সংসার, আদালত চত্বরে বিয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, নভেম্বর ১, ২০২২ ৬:৪২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, নভেম্বর ১, ২০২২ ৬:৪২ অপরাহ্ণ

মায়ের করা মামলার আসামি বাবা। আদালতে এসেছেন দুজনই। এজলাসের সামনে দুই বছরের শিশু আবির সরদারের অবাধ ঘোরাঘুরি নজর কাড়ে বিচারকের। শিশুটির চলাফেরা দেখে এজলাসে থাকা বিচারক পরিচয় জানতে চান।
পরে ছেলের কথা বিবেচনা করে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই পুনরায় একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান তিনি। আইনজীবী ও আদালতের সকলের সমন্বয়ে উভয় পরিবার এক হয়ে আদালত চত্বরেই তাদের বিয়ে হয়। এমন বিরল ঘটনাটি ঘটে মাদারীপুরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে মাদারীপুরের ঘটমাঝি খাগদী এলাকার কুদ্দুস সরদারের ছেলে মো. মিলন সরদারের সাথে কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শওকত আলীর মেয়ে সুমি আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিলন ও সুমির সংসারে একটি ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন ধরে মিলন ও সুমির মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। শেষ তা পর্যন্ত বিচ্ছেদে গড়ায়। পরে সুমি বাদী হয়ে মাদারীপুর আদালতে মিলনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সুমির দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল গত সোমবার। ওই দিন মিলন ও সুমি এবং তাদের একমাত্র সন্তানসহ পরিবারের লোকজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণকালে ছোট্ট আবির এজলাসের ভেতরে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে। বিচারক ছেলেটির পরিচয় জানার পর সুমি আক্তার ও মিলন সরদারকে সন্তানের দিক বিবেচনা করে সংসার করার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী বাদী-বিবাদী ও তাদের উভয় পরিবার আপস-নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করে। উভয় পক্ষ ভুল সংশোধন করে পুনরায় সংসার করবেন বলে আদালতকে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। পরে তাদের পরিবারের সম্মতিতে গত সোমবার রাতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মিলন ও সুমি আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়েতে জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সকল বিচারক, উভয় পরিবারের লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আদালত চলাকালে জবানবন্দি নিচ্ছিলাম। সে সময় একটি শিশু এজলাসের ভেতরে দৌড়াদৌড়ি করছিল। পরে তার পরিচয় জানার পরে আমার কাছে অন্য রকম মনে হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি বাদী-বিবাদীকে বর্তমান অবস্থায় সংসার করতে প্রস্তাব দিই। উভয়েই সংসার করতে রাজি হওয়ায় ওই দিন আদালতের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় তাদের বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। ভেঙে যাওয়া একটি সংসার পুনরায় একত্র করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। ’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী দুজনই তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে সামান্য ভুল-বোঝাবুঝির কারণেই এমনটি হয়েছে। তাই সন্তানের কথা চিন্তা করে আবার তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি আমার কর্মজীবনের একটি ব্যতিক্রম বিয়ে। ’
জনতার আওয়াজ/আ আ