জলবায়ু তহবিলের ন্যায্য হিস্যা ও দ্রুত অর্থ ছাড়ের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:২৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জলবায়ু তহবিলের ন্যায্য হিস্যা ও দ্রুত অর্থ ছাড়ের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত

তুরস্কের আন্তালিয়ায় আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে দেশটির হাতায় শহরে অনুষ্ঠিত ‘তুরস্কের পথে কপ৩১: সহনশীল নগর’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ শনিবার সম্পন্ন হয়েছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

শুক্র ও শনিবার (৮ ও ৯ মে) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রীরা অংশ নেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুর্যোগ সহনশীল ও টেকসই নগর গঠন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা। উদ্বোধনী অধিবেশনে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানান।

সম্মেলনের এক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তুরস্কের পরিবেশ মন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তুরস্কের মন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান ও মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ উন্নয়নে আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সীমিত হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তিনি জানান, আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ একটি বিশেষ এজেন্ডা উপস্থাপন করবে, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তিনি দ্রুত একটি ‘ফোকাল পার্সন’ বা সমন্বয়ক নিয়োগের কথাও জানান।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। তবে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থছাড় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে উন্নত দেশগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের প্রথম দিনে মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। মালদ্বীপের পক্ষ থেকে চারা উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করা হলে বাংলাদেশ তাদের আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানায়।

অন্যদিকে সম্মেলনের শেষ দিনে কসোভোর পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রী। এ সময় কসোভো আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করলে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক এবং ‘হাতায় ঘোষণা’ প্রকাশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগ সহনশীল নগর নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ