জাজিরায় সড়কের মাঝেই বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে কাজ সম্পন্ন,দুর্ঘটনার শঙ্কা!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০২৪ ৪:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০২৪ ৪:১৫ অপরাহ্ণ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার লাউখোলা-গজনাইপুর ব্রিজের দুপাশের সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে ৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে । সরেজমিন গিয়ে উপজেলার লাউখোলা-গজনাইপুর ব্রিজের দুপাশের সড়কে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এতে যানবাহন চলাচলে ও পথচারীরা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও এলজিইডি একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন।
এলজিইডি,পল্লী বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জাজিরা উপজেলার অধীনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লাউখোলা থেকে গজনাইপুর চরধুপুড়িয়া যাতায়াতের জন্য নদীর উপর নতুন ব্রিজের কাজ শেষ হয় গত বছর। এরপর ব্রিজটির দুপাশের সড়কের কাজ ও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু নির্দেশনা ও বরাদ্দ না থাকায় সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে পল্লী বিদ্যুতের ৭টি খুঁটি থাকলে ও তা অপসারণ করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে খুঁটি রেখেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করে চলে যায়। গত বছরের ১১ নভেম্বর লাউখোলা বাজার-গজনাইপুর চরধুপুড়িয়ার ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উন্মুক্ত হওয়ার পর এ পথ দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু খুঁটি গুলো মরণ ফাঁদ হওয়া সত্তে¡ ও অপসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থী বলেন, এ সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশাগুলো প্রায় সময়ই খুঁটিগুলোর সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফলে অটোরিকশা বা গাড়িতে চড়ে স্কুলে যেতে ভয় করে। যেদিন একটু ক্লান্ত থাকি, সেদিন আর স্কুলে যাওয়া হয় না।
স্থানীয় ওয়াদুদ মিয়া বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই কাজ শেষ করা হয়েছে। কাজটি করার সময় আমরা বলেছিলাম সরিয়ে নিতে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাদের কথা শোনেনি। আমি নিজেও খুঁটির সঙ্গে আঘাত লেগে গুরুতর জখম হয়েছি। খুঁটির কারণে এখন প্রায় সময়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।
অটোরিকশাচালক বাবুল ও মতিউর রহমান বলেন, ব্রিজটি হওয়ায় আমাদের চলাচলে সুবিধা হয়েছে। কিন্তু ব্রিজের পাশেই সড়কের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো মরণ ফাঁদ। যেকোনো সময় একসঙ্গে কয়েকজনের প্রাণ হারাতে পারে এ খুঁটিগুলো।
মুলনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের সময় নির্বাচন চলমান ছিল। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই কাজ শেষ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। আমরা তাদের বলেছিলাম, তারা খুঁটিগুলো সরিয়ে নেয়নি। এ কারণে জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জাজিরা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমন মোল্লা বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে আমরা মৌখিক ভাবে জানালে তারা টাকা চায়। আমাদের টাকা দেওয়ার মতো কোনো বরাদ্দ নেই। একটা বৈদ্যুতিক খুঁটি ওঠাতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এত টাকা দিয়ে আপাতত আমরা খুঁটি সরাতে পারবো না।
শরীয়তপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোঃ আলতাপ হোসেন বলেন, সড়কে কাজ করার আগে বা পরে এলজিইডি কিংবা ঠিকাদারের পক্ষ থেকে খুঁটি সরাতে হবে এমন কোনো লিখিত আবেদন পাইনি। তাই এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
জনতার আওয়াজ/আ আ