জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬ ৬:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬ ৬:০৭ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং মানবতার প্রতি নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গত বুধবার মরক্কোর রাজধানী রাবাত-এ অনুষ্ঠিত ‘ফ্রাংকোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা’ বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদারে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
আধুনিক শান্তি তৎপরতায় উদীয়মান চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি অপপ্রচার, ডিজিটাল হয়রানি এবং সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও কার্যকর ও দূরদর্শী সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত কার্যপরিধি, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিশনপূর্ব প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্ব শান্তির সেবায় জীবন উৎসর্গকারী ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ মিশনে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণও ক্রমাগত বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের যে শান্তিকামী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে তা আরও সুসংহত হয়। সেই নীতিই আজও বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে পথ দেখাচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের চলমান উদ্যোগগুলোকেও তিনি টেকসই শান্তির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে ফ্রান্সে এই ফোরামের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
সম্মেলনে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সন্ধ্যায় শামা ওবায়েদ ‘গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশ নেন। সেখানে ‘জিওপলিটিক্স অব ফ্র্যাগমেন্টেশন: পাওয়ার, এস্কেলেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিঅর্ডারিং’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।
ওই অধিবেশনে তিনি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের কৌশলগত প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সূত্র: বাসস
জনতার আওয়াজ/আ আ