জুলাই সনদ আমাদের মতো করে শতভাগ বাস্তবায়ন করব - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৩৬, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই সনদ আমাদের মতো করে শতভাগ বাস্তবায়ন করব

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে বলে মনে করেন সরকারি দলের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি। তার মতে, জনস্বার্থে সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিচারের জন্য বিএনপি সরকার যেমন উদ্‌গ্রীব, তেমনি আমাদের অনাগ্রহও আছে। অনাগ্রহ এই অর্থে যে, আমরা চাই না প্রতিহিংসার বিচার হোক; বরং আইন অনুযায়ী তার যা শাস্তি হওয়া উচিত, ঠিক সেটাই যেন হয়।’

জুলাই আন্দোলনের আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি স্পষ্ট করে জানান, জুলাই সনদ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে, তবে সেটা বিএনপি তাদের মতো করে করবে। এছাড়া কার্যকর সংসদ, গণভোট, জুলাই সনদ ও গুম অধ্যাদেশসহ চলমান নানা ইস্যুতে সম্প্রতি ঢাকা পোস্টের সঙ্গে একান্ত কথা বলেছেন বরগুনা-২ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিএনপি শতভাগ বাস্তবায়ন করবে। গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে একটিতে আমাদের আপত্তি থাকলেও জনরায়কে সম্মান জানিয়ে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলাম। গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই সনদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এই সনদকে শতভাগ বাস্তবায়ন করব, তবে তা হবে আমাদের মতো করে

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা পোস্টের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরকারি দলের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি / ছবি- সংগৃহীত
ঢাকা পোস্ট: সংসদের প্রথম অধিবেশনে গণভোট ও গুম অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বেশ তর্ক-বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। চিফ হুইপ হিসেবে আপনি এই সংসদকে কতটা কার্যকর ও ফলপ্রসূ দেখতে চান?

নুরুল ইসলাম মনি: সংসদে তর্ক-বিতর্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক; এটি না হলে তো সংসদ প্রাণবন্ত হয় না। জাতীয় সব সমস্যার সমাধানের মূল কেন্দ্র হলো এই সংসদ। তাই এখানে সব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা ও বিতর্ক হবে— এটাই কাঙ্ক্ষিত।

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে রাষ্ট্রপতি যে আদেশটি জারি করেছিলেন, তা প্রচলিত কোনো আইন বা বিধির আওতায় পড়ে না। এই কারণেই আমরা বলছি— আইনগত ভিত্তিহীন কোনো আদেশ সংসদে পাস হতে পারে না। আমরা আইনপ্রণেতা হিসেবে বেআইনি কোনো কাজ করব না, করা উচিতও না।

তবে আমরা স্পষ্ট করে বলছি যে, জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় আমরা বাস্তবায়ন করব। আমাদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে সর্বপ্রথম এই সনদকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গণভোটে ৭২ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, যেখানে বিএনপির জনসমর্থন ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ আমাদের সমর্থনের কারণেই এই রায় এত বিশাল ব্যবধানে সফল হয়েছে। আমরা জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করব।

বর্তমানে সংসদকে একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত সময়মতো অধিবেশনে উপস্থিত থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা, সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংসদকে জাতীয় সমস্যার সমাধানের মূল কেন্দ্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা চলছে
গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে একটিতে আমাদের আপত্তি থাকলেও জনরায়কে সম্মান জানিয়ে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলাম। গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই সনদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এই সনদকে শতভাগ বাস্তবায়ন করব, তবে তা হবে আমাদের মতো করে। অনেকে কেবল বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা করেন, কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন ঢাকা পোস্টের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন / ঢাকা পোস্ট
ঢাকা পোস্ট: দীর্ঘ সময় পর বিএনপি এখন সংসদে ক্ষমতাসীন দল। আপনাদের প্রধান লক্ষ্য কী?

নুরুল ইসলাম মনি: আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়া, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সুসংহত করা।

ঢাকা পোস্ট: সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে কোনো পার্থক্য আছে কি?

নুরুল ইসলাম মনি: দল যখন সরকারে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই দলের চেয়ে সরকারের কাজের পরিধি বেড়ে যায়। আমরা জনগণের বিশাল জনমত নিয়ে সরকার গঠন করেছি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে। ক্ষমতায় বসার অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ইতোমধ্যে কৃষি ঋণ সহজীকরণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু এবং ধর্মীয় নেতাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিএনপি সরকার প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছে। সাবেক স্পিকারের জামিন লাভের ঘটনাটি আইনের শাসনের অনন্য দৃষ্টান্ত। আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি হিসেবে জনগণকে ভাগ করার সংস্কৃতি পরিহার করে একটি মানবিক ও ভীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার
আমরা দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করেছি। আমাদের সময়ে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেয়েছেন— এটি একটি বড় দৃষ্টান্ত। আমরা চাইলে তাকে আটকে রাখতে পারতাম, কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।


বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে সংসদকে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার— চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি / ছবি- সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা যেমন তার বিচারের জন্য উদ্‌গ্রীব, তেমনি আমাদের অনাগ্রহও আছে। অনাগ্রহ এই অর্থে যে, আমরা চাই না প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কিছু হোক; বরং দেশের প্রচলিত আইনে তার যা শাস্তি হওয়া উচিত, ঠিক তা-ই যেন হয়।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই দেশে বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করেছেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি— এসব বলে মানুষকে ভাগ করার সংস্কৃতি এখন আর নেই। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মানুষের মন থেকে ভয়ের সংস্কৃতি দূর করা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষ এখন ভয়মুক্ত পরিবেশে স্বপ্ন দেখতে শিখছে। একটি মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা এসেছি, তা বাস্তবায়নে বিএনপি বদ্ধপরিকর।

সরকার প্রতিহিংসামূলক কোনো বিচার চায় না। শেখ হাসিনার অপরাধের জন্য প্রচলিত আইনে যে শাস্তি হওয়া উচিত, সেটি নিশ্চিত করতেই সরকার আগ্রহী। কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছাড়াই স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং মানুষের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার

প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, আইনের শাসনে বিশ্বাসী বলেই সাবেক স্পিকার জামিন পেয়েছেন— চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি / ছবি- সংগৃহীত

ঢাকা পোস্ট: সংসদে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি, শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা বাড়াতে আপনি নতুন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি না?

নুরুল ইসলাম মনি: বর্তমানে সংসদের পরিবেশ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সদস্যদের উপস্থিতিও প্রায় শতভাগ। সংসদ এখন সত্যিই প্রাণবন্ত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সময়মতো সংসদে উপস্থিত থাকেন, যা সবার জন্য একটি বড় উদাহরণ। তার যোগ্য দিকনির্দেশনায় সংসদ এখন একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জনস্বার্থে সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখা, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি আমাদের নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা সেই আলোকেই সংসদকে আরও গতিশীল করার কাজ করছি।সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ