জুলাইয়ের পক্ষ নেওয়ায় জনকণ্ঠের ২০ সাংবাদিককে অব্যাহতি, চলছে কর্মবিরতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৩, ২০২৫ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৩, ২০২৫ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই বিপ্লবের পক্ষে থাকা দৈনিক জনকণ্ঠের ২০ জন সাংবাদিককে হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় পত্রিকাটির সব ধরনের সংবাদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে পত্রিকাটির সাংবাদিকরা।
অব্যাহতি পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে প্ল্যানিং এডিটর জয়নাল আবেদীন শিশির, অ্যাডভাইজার (অনলাইন) সাবরিনা বিনতে আহমেদ, ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইস্রাফিল ফরায়েজী, অনলাইন চিফ ফুয়াদ হাসান, ডিজিটাল প্রধান নুরুজ্জামান, সিনিয়র রিপোর্টার আবদুর রহিম, সিকিউরিটি ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আহমেদ রয়েছেন।
জানা যায়, স্বৈরাচারের দোসর জনকণ্ঠ পত্রিকা আগস্ট উপলক্ষে গতকাল কালো রঙ ধারণ করেছিল। সম্পাদক শামিমা এ খান আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে পত্রিকার ফেসবুক এবং অনলাইনকে কালো রং করার নির্দেশ দেন। ১ আগস্ট রাত ১২টার পর থেকে ফেসবুকের সব ফটো কার্ডকে কালো করা হয়। তাৎক্ষণিক এর প্রতিবাদ জানায় জনকণ্ঠের অন্তত অর্ধশত সাংবাদিক-কর্মচারী। এ নিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই আজ (২ আগস্ট) দুপুরে ২০ সাংবাদিক-কর্মচারীকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পত্রিকার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি চলছে।
চাকরিচ্যুতির কারণ না না জানানো পর্যন্ত কোনো ধরনের কার্যক্রম চলবে না বলে জানিয়েছেন পত্রিকাটির সাংবাদিকরা।
পত্রিকার অ্যাডভাইজার (অনলাইন) সাবরিনা বিনতে আহমেদ বলেন, কী কারণে চাকরি থেকে অব্যাহত দেওয়া হয়েছে তার কারণ জানানো হয়নি। আমরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেব।
ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইস্রাফিল ফরায়েজী বলেন, অব্যাহতি কারণ সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত জনকণ্ঠের সব কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে।
প্ল্যানিং এডিটর জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এ পত্রিকায় যুক্ত হই। এরপর পত্রিকার রিপোর্টিংসহ অনলাইন গ্রুপে দেখতে পাই রহস্যজনক কিছু অজানা নাম। এবং তারাই পত্রিকাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। নাম্বারগুলো সব বিদেশি। আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা ধরনের নির্দেশনা দেন। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তি কারা কেউ জানে না। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাবো কারা বিদেশ থেকে এই পত্রিকাকে পরিচালনার নির্দেশনা দেন তা খুঁজে বের করতে।
সিনিয়র রিপোর্টার আবদুর রহিম বলেন, গতকাল দিবাগত রাত ১২টার পর সম্পাদক শামীমা এ খান আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে পত্রিকার অনলাইন এবং ফেসবুককে কালো করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি রাত ১২টার পর জনকণ্ঠের বেরিফাইড ফেসবুক এবং সকল ফটো কার্ডকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করেন। সারাদিন যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা চলে তখন আমি বিকাল ৫টায় সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলি। উনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ফেসবুকের রং কালোই থাকবে প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দিতে।
জনতার আওয়াজ/আ আ