ডিএনসিসির মেয়র ও ভূমি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৩১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ডিএনসিসির মেয়র ও ভূমি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১১, ২০২২ ২:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১১, ২০২২ ২:০৬ অপরাহ্ণ

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৭৭১ সালের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পদ দখল ও অধিকার হরণ এবং মানবাধিকার লংঘন করার অভিযোগে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং ভূমি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এ সময় তারা সম্পত্তি রক্ষায় ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুর রহিমের মেয়ে নুরতাজ আরা ঐশি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে মিরপুর-১৪ এর ভাষানটেক থানার আওতাধীন ১৫০ বিঘা জমির নিয়ে ভাষানটেক প্রকল্পের কাজ করে আসছে নর্থ-সাউথ প্রপার্টি ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম। ১৯৯৮ সালে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি শুরুর পর থেকেই সরকারের ভিতরের একটি অংশ সবসময়ই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করে আসছে। এমনকি প্রকল্পটির সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করার মিশনে নেমেছে। এর পিছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। এগুলো হলো- প্রথমত, সরকারি টাকা ছাড়াই প্রকল্প, এটা কিভাবে সম্ভব। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তারা মনে করে বাংলাদেশের সরকারি টাকায় যে সকল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাজারো অনিয়ম-দুর্নীতি বিদ্যমান রয়েছে। বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং সরকারি টাকায় প্রকল্প করার পরিকল্পনাকে নিরুৎসাহিত করবে। যার ফলে একটি নতুন দিনের সূচনা হবে।

দ্বিতীয়ত দেশের কমবেশি ৩০ শতাংশ মানুষ ভাষানটেক প্রকল্পের সফলতার কারনে সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তাতে বস্তিবাসী জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিকভাবে যে পরিবর্তন আসবে, তা রাজনৈতিক সরকারগুলো ভালো চোখে দেখছেনা। এর অন্তর্নিহিত কারণ হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো যে এতোদিন বস্তিবাসীকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করে আসছিল সেটা আর পারবেনা। রাজনৈতিক দলগুলো সহজ সরল বস্তিবাসীদের তাদের রাজনৈতিক মিটিং মিছিলে আর লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেনা। এই কারনে রাজনৈতিক সরকারগুলো চায়না যে বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়ন হোক। অপরদিকে বস্তিবাসীর জীবনমানের উন্নয়ন হলে রাজনীতির মাঠে তাদের কর্মী সংকট দেখা দিবে। এমনকি বস্তিকে কেন্দ্র করে যে অবৈধ মাদক ব্যবসা ও কর্মকান্ড চলছে। এসব বাসা থেকে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ অবৈধ যে উপার্জন করে আসছিল তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

রাজধানীর বিজয় সরণিস্থ কলমিলতা মার্কেটের প্রকৃত মালিক তার বাবা দাবি করে তিনি বলেন, আজ অবধি ডিএনসিসি ও তার পূর্বসূরিগণ পরস্পর পরস্পরের যোগসাজশে আইনের অপপ্রয়োগ করে মার্কেটটি জবর দখল করে রেখেছে। যদিও মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট আমাদেরকে দুই মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এক পর্যায়ে তৎকালীন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক কোর্টের আদেশ মেনে উক্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডিসি ঢাকাকে লিখিত প্রস্তাব পাঠান। ইতঃবসরে, মেয়র আনিস পরলোকগমন করেন। এই সুযোগকে ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম দুর্নীতির মানসিকতায় ডিসি ঢাকাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের চাহিদাপত্র না দিয়ে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ করছেন।

মেয়র আতিক কেন এই ক্ষতিপূরণ প্রদানে ও সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ পালনে অনীহা দেখাচ্ছেন? তার কারণ হচ্ছে-প্রথমত, আমার বাবা আলহাজ্ব আব্দুর রহিম ডিএনসিসির উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে আতিকের সাথে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতেও আমার বাবা পুনরায় নির্বাচন করবেন এই বিষয়টি মাথায় রেখে আতিকুল ইসলাম আমার পরিবারের লালমাটিয়ায় দুটি ফ্ল্যাট, সাভারের কলমা মৌজায় একটি বাগানবাড়ি অবৈধভাবে দখল ও নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। অন্যদিকে এযাবতকালে কলমিলতা বাজারে আমাদের পাওনা ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ হাজার কোটি টাকা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

দ্বিতীয় কারণটি হলো মেয়র আতিক ও ডিএনসিসির কর্মকর্তা- কর্মচারীগণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের একটি মোটা অংকের ঘুষ দাবি করছেন আমার বাবার কাছ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফার ভিত্তিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এই ৬ দফা হলো-

ক) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের বাঁধা সমূহ দূর করা এবং ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম কর্তৃক কলমিলতা বাজারের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নির্দেশ ও সেই নির্দেশ প্রতিপালনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বাধ্যকরা।

খ) ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক NSPDL এর চুক্তি বাতিল আদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা করা।

গ) ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রের দায়ে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহামান্য হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা।

ঘ) ভূমি মন্ত্রণালয় ও NSPDL এর মধ্যে যাবতীয় বিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি পত্রের ষষ্ঠ অধ্যয় ও ৬.১৫ ও ৬.১৭ ধারা ও মাননীয় হাইকোর্টের রিট পিটিশন ৭৭৯/২০১০ নম্বরে অবজারভেশন অনুযায়ী সালিশি বোর্ডের মাধ্যমে সমাধান করা।

৫) ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প সংক্রান্তে দুর্নীতি দমন কমিশন তথা দুদকের বন্ধ হওয়া তদন্ত কার্যক্রম পুনরায় চালু করা। সেইসঙ্গে ডিএনসিসি ও আতিকের বিরুদ্ধে গত ১৯/৫/২০১১ইং তারিখে দায়েরকৃত অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক জরুরী ভিত্তিতে প্রতিবেদন জাতির সামনে তুলে ধরা।

চ) শহীদ পরিবার হিসেবে আলহাজ্ব আব্দুর রহিম সাহেবের পরিবারবর্গের জানমাল ও সম্পদের সুরক্ষা প্রদান করা। একইসাথে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে ঐশির পরিবারকে প্রদান করা, এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ