ঢাকায় আমরা সমাবেশ করবই : মির্জা আলমগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, নভেম্বর ১৬, ২০২২ ৩:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, নভেম্বর ১৬, ২০২২ ৩:৪০ অপরাহ্ণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সমাবেশ আমরা করবই। অনুমতি না দিলেও আমরা সমাবেশ করব।’
বুধবার, নভেম্বর ১৬, ২০২২, সকালে দ্য ডেইলি স্টারকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমাবেশ আমরা করবই। অনুমতি না দিলেও আমরা সমাবেশ করব।
তিনি আরও বলেন, সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার অর্থ হবে, সরকার সমস্যা তৈরি করতে চায়। তারা চায় দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে। যদি সরকার অনুমতি না দেয়, এর জন্য যদি কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে তার পুরো দায় সরকারের।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অনেক আগে কর্মসূচীর তারিখ ঘোষণা করেছি, আগাম চিঠি দিয়েছি। সুতরাং, অনুমতি না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এখন পর্যন্ত যে কয়টি সমাবেশ করেছি, কোথাও আমাদের তরফ থেকে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। বরং সরকারের তরফ থেকে সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। তারা যা খুশি তাই করে যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দলকে দমন করতে এটা সরকারের পুরোনো কৌশল। গত ১৪ বছর ধরেই মিথ্যা মামলা, নাশকতার মামলা, গায়েবি মামলা দিয়ে গোটা বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে আওয়ামী লীগ সরকার দমন করছে। সারা দেশেই বিনা কারণে আমাদের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট খেতে গেছে, সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ঘরে ঘরে পুলিশি তল্লাশি করা হচ্ছে। তারা তো ছুতো খোঁজে। এখন বলছে সমাবেশ হলে নাশকতা হবে। এগুলো ভিত্তিহীন কথা, বিরোধী দল দমনের কৌশল মাত্র। আমার বিরুদ্ধেই তো নাশকতার মিথ্যা মামলা করেছে কমপক্ষে ৩০টি।
এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবৈধ সরকারকে তো অবৈধই বলতে হবে।সবাই বলবে। তবে ঢাকা দখলের মত কোনো কথা আমাদের দলের কোনো সিনিয়র নেতা কি কখনো বলেছি? রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক সময় অনেকে অনেক কিছুই বলে থাকেন। কিন্তু সেটাতো আর দলের সিদ্ধান্ত নয়। সেটাকে আমলে নেবেন কেন?’
মির্জা ফখরুল বলেন, এভাবে সবার সমাবেশের যোগ দেওয়া অপ্রত্যাশিত নয়, নতুন ধারা। বর্তমান রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, তারই প্রতিফলন এটা। গণতন্ত্রের জন্য, এই সরকারের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ কতটা মুখিয়ে আছে এটা তারই প্রতিফলন।
‘মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেভাবে সবাই সমাবেশে যোগ দিয়েছে, সেটা নিঃসন্দেহে গোটা জাতিকে অভিভূত করেছে। গণতন্ত্র, সাম্য, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতিফলন হয়েছে সমাবেশে। দেশের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অসহ্য হয়ে গেছে। নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম যেভাবে বেড়েছে, সমাজে ন্যায়বিচারের যে অভাব— সব মিলিয়ে মানুষ তো আর সহ্য করতে পারছে না।
বিএনপির চলমান কর্মসূচী ঢাকার সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানেই আমাদের সমাবেশ শেষ হবে না। ঢাকার এই সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচী, যৌথ আন্দোলন, দাবি-দাওয়া তুলে ধারতে চাই।
কার্টসি— দ্য ডেইলি স্টার
জনতার আওয়াজ/আ আ