ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলে বড় শোডাউনের পরিকল্পনা বিএনপির - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলে বড় শোডাউনের পরিকল্পনা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২২ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২২ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

 

এমনিতেই হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত বিএনপি। সারা দেশে কয়েক হাজার নেতাকর্মী কারাবন্দি। অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরছাড়া। এমতাবস্থায় তাদের চাঙ্গা রাখতে তৃণমূলে যাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের লক্ষ্যে ১০ দফা সামনে রেখে আগামীকাল শনিবার জেলা ও মহানগরে গণমিছিল নিয়ে নব-উদ্যমে মাঠে নামছে বিএনপি। শিগগিরই আরও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ১০ দফা ও রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে প্রণীত ২৭ দফা রূপরেখা লিফলেট ও বুকলেট আকারে বিতরণ করা হবে। যা দেওয়া হবে সরকারের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও।

গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশে এই ১০ দফা ঘোষণা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল ঢাকা ছাড়া সারা দেশে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে গণমিছিল কর্মসূচি হওয়ার কথা। কিন্তু কাল ঢাকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন থাকায় ঢাকার কর্মসূচি পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেদিন ঢাকায় বড় শোডাউনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর। তবে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে শনিবার সারা দেশে গণমিছিল হবে।

এদিকে এ কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে দেশের বিভাগীয় শহর, বড় জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ১৯টি জেলায় যাবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ঢাকায় বড় শোডাউনের পরিকল্পনা : যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলে বড় আকারের শোডাউন করতে চায় বিএনপি। এ বিষয়ে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি প্রায় প্রতিদিনই যৌথসভা, সমন্বয় সভা ও প্রস্তুতি সভা করছে। একইভাবে দলটির প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা শুরু করেছেন।

ঢাকায় গণমিছিলের জন্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। মিছিলের রুট নির্ধারণের পর দু-এক দিনের মধ্যে মিছিলের অনুমতির জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপিকে চিঠি দেওয়া হবে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ জানান, তারা ঢাকার গণমিছিল অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। প্রত্যেক দায়িত্বশীল নেতাকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক জানান, এই লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে এরই মধ্যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। এখন শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ জনগণও ব্যাপকহারে তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

সিনিয়র নেতারা যাবেন ১৯ জেলায় : বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিল সফলের লক্ষ্যে ১৯ জেলা সফর করবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় নেতারা যেসব জেলা সফর করবেন, সেখানে প্রথমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন। এরপর গণমিছিলে অংশ নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এসব জায়গায় যাবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবরা। ইতোমধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যাবেন চট্টগ্রামে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যাবেন রাজশাহী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বরিশাল, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ময়মনসিংহ এবং ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান যাবেন সিলেট বিভাগে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে দমনপীড়ন, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতিসহ নানা আইনবহির্ভূত কাজ করার নজিরও আছে। এ ক্ষেত্রে শাসনব্যবস্থার কার্যকর পরিবর্তন আনতে গেলে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে। গত সোমবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব বিষয়ে একাধিক মতামত উঠে আসে। নেতাকর্মীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনাসহ করণীয় ঠিক করতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্তও নিয়েছে স্থায়ী কমিটি।

ওই বৈঠকে ১৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের বাইরে অন্যান্য জেলার যেসব নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন, তাদের গণমিছিল কর্মসূচি বাস্তবায়নে এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জেলার দায়িত্বশীল নেতারা সমন্বয় করে কাজ করবেন।

জানা যায়, তৃণমূল সফরে শুধু কর্মসূচি বাস্তবায়ন নয়, এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, মতবিনিময় করার কৌশলও নিয়েছে বিএনপি। এসব বৈঠকে দলের ঘোষিত ২৭ দফা রূপরেখা ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের ১০ দফা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে বলা হয়েছে। যাতে প্রত্যেক নেতাকর্মী দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও সচেষ্ট হতে পারেন।

বিতরণ করা হবে লিফলেট ও বুকলেট : এদিকে সরকার হটানোর লক্ষ্যে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফাকে লিফলেট ও রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে ঘোষিত ২৭ দফাকে বুকলেট আকারে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুটি বিষয়ে লিফলেট ও বুকলেট ছাপানোর কাজ চলছে। যা ২৫ ডিসেম্বর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচারক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিরোধী মতসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সবার কাছে এসব বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে ২৭ দফাকে সবার মধ্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড, যা ২৫ ডিসেম্বর থেকে বিতরণ করা হবে। মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচারক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিরোধী মতসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সবার কাছে এই রূপরেখার প্রচারণা চালানো হবে।

প্রিন্স আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাজে লাগানো হবে। ২৭ দফাকে প্রচারপত্র বানিয়ে এই রূপরেখা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা দিতে ৬৪ জেলায় কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

টিভি-টকশো ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক : এদিকে রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি ঘোষিত ২৭ দফা নিয়ে গত মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের উদ্যোগে এক সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, টকশোতে অংশ নেওয়া নেতা ও ব্যক্তিরাও অংশ নেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক প্রিন্স বলেন, যারা বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ করেন, তাদের নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। এই বৈঠকে ২৭ দফা রূপরেখা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, তারা জনগণকে বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারবেন।

দেওয়া হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব : এদিকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির যেসব মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক/সদস্য সচিব গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু এখনো কারামুক্ত হননি; সেসব জায়গায় গঠনতন্ত্র মতে পরবর্তী নেতাদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেমন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুস সালাম গত ৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার অবর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন নবীউল্লাহ নবী। এভাবে গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি মহানগর ও জেলা পর্যায়ে নতুন নেতাদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ