দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ, বহিষ্কার হচ্ছেন খোকন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:২০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ, বহিষ্কার হচ্ছেন খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৪ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৪ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বিষয়ে উদ্ধতপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিএনপির আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে অনুরোধ জানানো হবে। যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে। ব্যারিস্টার খোকন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি।

আজ শনিবার দুপুরে গুলশানস্থ বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ফোরামের এক জরুরি সভায় প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত ফোরামের একজন শীর্ষ আইনজীবী নেতা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তিনি (ব্যারিস্টার খোকন) দলের সমর্থণ নিয়ে সভাপতি পদে নির্বাচন করেছেন। দল ও ফোরামের বারণ সত্ত্বেও দায়িত্ব নিয়েছেন। তথাকথিত কিংস পার্টির লোকজনদের সমর্থণ নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি বিএনপি ও ফোরাম ভালোভাবে নেয়নি। যে কারণে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে অবহিত করে অনুরোধ জানানো হবে।’

বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিট শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

জানতে চাইলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজকের সভায় সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ ফোরামের সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা ও কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা আমাদের নিয়মিত বিষয়। ব্যারিস্টার খোকনকে ফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সভার কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা পাবলিকলি জানিয়ে দেওয়া হবে।’

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি-জামায়াতের সমর্থণে গঠিত নীল প্যানেলের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন। ওই দিন দায়িত্ব গ্রহণের আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারের দক্ষিণ হলে সমমনা আইনজীবীদের সমর্থন পেতে মতবিনিময়সভার আয়োজন করেন তিনি। তবে, এ সভায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবীদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

ব্যবসায়ীকে কুত্তার মতো পেটানোর হুমকি বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানের, অডিও ভাইরালব্যবসায়ীকে কুত্তার মতো পেটানোর হুমকি বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানের, অডিও ভাইরাল
সভায় ব্যারিস্টার খোকন শীর্ষ আইনজীবীদের ইঙ্গিত করে তাদের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন ফোরামের কয়েকজন আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়ী করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা (ফোরামের আইনজীবী) গণতন্ত্র ও ভোটের জন্য আন্দোলন করেন। কিন্তু আমার ঘরেই তো সমস্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন তাদের (সরকারপন্থী আইনজীবীদের) ওয়াকওভার চেয়েছিলেন? কারা এটা করল, কারা যোগসাজস করল, কেন করল সেই মুহূর্তে এটা উচিৎ হয়েছে কি না, আপনারা (সভায় উপস্থিত আইনজীবীরা) মতামত দিবেন।’

খোকন বলেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর দেখা গেল এ জে মোহাম্মদ আলী সাহেব, কায়সার কামাল একটা চিঠি দিলেন। আমরা যেন দায়িত্ব গ্রহণ না করি। কেন এ চিঠি দিলেন, কি কারণে দিলেন? ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করি। সচরাচর নির্বাচন বর্জন, ভোটের ফলাফল বর্জনের ঘোষণা শুনি। কিন্তু কখনো ভোট গণনা বর্জনের ঘোষণা শুনি নাই। কার স্বার্থে গণনা বর্জন করলেন আপনারা। সরকারকে ওয়কওভার দেওয়ার জন্য? আপনাদের সিদ্ধান্ত মানি। তবে, অসাধু উদ্দেশ্যে যদি হয়ে থাকে তাহলে আইনের দৃষ্টিতে এটা কোনো সিদ্ধান্তই (দায়িত্ব গ্রহণে বিরত) না।’

গত ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। ৯ মার্চ ঘোষিত ফলে সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির তিনটি সদস্যপদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের প্যানেল ‘নীল দলের’ প্রার্থীরা জয়ী হন। অন্যদিকে সম্পাদক, কোষাধক্ষ্যসহ ১০টি পদে জয়ী হন সরকারপন্থীরা। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ করেন সরকারবিরোধী আইনজীবীরা। নির্বাচনে মারামারিকে কেন্দ্র করে নীল দলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ বিএনপিপন্থি বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মার্চ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী এবং ফোরামের মহাসচিব ও দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ব্যারিস্টার খোকনসহ সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে জয়ী ফোরামের চারজনকে দায়িত্ব গ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ