দীপ্ত টিভির কর্মী খুন : যা বললেন বিএনপি নেতা রবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ১০:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ১০:১৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
রাজধানীর হাতিরঝিলে বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন হন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম (৩৪)। এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এর সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত প্লিজেন্ট প্রপার্টিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি।
রোববার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে রবিউল আলম রবি বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনীতির পাশাপাশি আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বর্তমানে প্লিজেন্ট প্রপার্টিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।
তিনি বলেন, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সব নিয়মনীতি মেনেই আমি ২০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। এই দীর্ঘ সময়ে কখনোই কোনো আবাসন প্রকল্পে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) আমার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নির্মিত রাজধানীর মহানগর প্রজেক্টে একটি ফ্ল্যাটের অর্ধেকাংশের মালিকানা নিয়ে তানজিল ইসলাম তামিম নামে একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বাড়ি নির্মাণের চুক্তির ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিএনপির এ নেতা বলেন, ওই জমির মালিক তিন জন। চুক্তি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করে তিন বছর আগেই জমির মালিক ও ক্রেতাদের সব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক জমির মালিক সাড়ে চারটা করে ফ্ল্যাট পাওয়ার কথা। আর অর্ধেক ফ্ল্যাট কোম্পানির কাছ থেকে কিনে প্রত্যেকে পাঁচটি করে ফ্ল্যাটের মালিকানা ভোগ করবেন। দুজন মালিক অর্ধাংশ ফ্ল্যাট কিনে নিলেও বাকি মালিক খুরশিদা আহমেদ অর্ধাংশ ফ্ল্যাট না কিনেই পাঁচটি ফ্ল্যাট তিন বছর ধরে জবরদখল করে আছেন।
রবিউল আলম রবি বলেন, এ ব্যাপারে কোম্পানি খুরশিদা আহমেদকে অর্ধাংশ ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ বা ফ্ল্যাটটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেয়। কিন্তু খুরশিদা আহমেদ কোনোটাই না করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় মহানগর সোসাইটি, পুলিশের ডিবি হেডকোয়ার্টার্স এবং পুলিশের ডিসি তেজগাঁও-এর কার্যালয়ে সালিশ বিচার বসান। আমার কোম্পানির প্রতিনিধিরা সালিশ মীমাংসা মেনে নিলেও খুরশিদা আহমেদ নিজেই তা অমান্য করেন। প্রায় এক মাস আগে খুরশিদা আহমেদের প্রতিনিধি তার স্বামী সুলতান আহমেদ প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজের কার্যালয়ে এসে জানান- অর্ধাংশ ফ্ল্যাট না কিনে তারা কোম্পানিকে বুঝিয়ে দেবেন। এরপরই কোম্পানি ওই অর্ধেক ফ্ল্যাট পাশের ফ্ল্যাট মালিক ফজলুর রহমানের কাছে বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু খুরশিদা আহমেদ ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে গড়িমসি করতে থাকেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এ সদস্য বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গত ১০ অক্টোবর আমার অজ্ঞাতেই কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল লতিফ দুজন সহকারীসহ ক্রেতা ফজলুর রহমানকে অর্ধেক ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে মহানগর প্রজেক্টে যান। সেখানে ফজলুর রহমান, তার দুই ছেলে এবং তাদের মেয়েজামাইও উপস্থিত ছিলেন। যা পরে আমি জানতে পারি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সেখানে গিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা দেখেন খুরশিদা আহমেদের লোকজন দরজা বন্ধ ফ্ল্যাটে ডেকোরেশনের কাজ করছেন। একপর্যায়ে ফ্ল্যাটের অর্ধাংশের ক্রেতা ফজলুর রহমান, তার দুই ছেলে ও মেয়ের জামাই মামুন এবং কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল লতিফ ও দুই সহকারীর সঙ্গে খুরশিদা আহমেদের দুই ছেলে, স্বামী এবং তাদের ফ্ল্যাটে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
জনতার আওয়াজ/আ আ