দেশে একাত্তরকে ভুলিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:২৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশে একাত্তরকে ভুলিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২১, ২০২৫ ৯:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২১, ২০২৫ ৯:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশে একাত্তরকে ভুলিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সম্মানে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব এই আহ্বান জানান। এদিন বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা উলু ধ্বনি এবং ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং তারেক রহমান হাত নেড়ে এই অভিবাদনের জবাব দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের কথা বার বার স্মরণ করতে চাই। এজন্য চাই যে, ১৯৭১ সাল আমাকে একটা স্বাধীন দেশ দিয়েছিল, ভৌ-খন্ড দিয়েছিল, আমাকে একটা স্বাধীন সত্ত্বা দিয়েছিল এবং সেজন্য আজকে আমার অস্তিত্ব আছে, আমি টিকে আছি। আমি স্মরণ করতে চাই ’২৪ জুলাই-আগস্টের শহীদদেরকে, কারণ তারা আমাদেরকে একটা গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এই দুইটা জিনিসই আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আজকে একটা প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা আছে একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার… এটার বিরুদ্ধে আমাদেরকে সমস্ত বাংলাদেশের নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ২৪ জুলাই-আগস্ট যেভাবে সত্য, ঠিক একইভাবে সত্য কিন্তু একাত্তরের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন কে? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা।

ফখরুল বলেন, আজকে নতুন করে একটা কথা উঠেছে, ষড়যন্ত্র চলছে যে আপনার বাংলাদেশে এখানে এক ধরনের উগ্রবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। এই উগ্রবাদকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। তাহলে বাংলাদেশের যে আত্মা, সেই অস্তিত্ব রক্ষা পাবে না। এই কথাটা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে। আমি কথাটা আজকে এজন্য আরও বেশি করে বলছি যে, এখানে আপনাদের সকলকে বিভাজন-ভিত্তিক রাজনীতি কেউ করবেন না। অতীতে যা হয়েছে হয়েছে। এখন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য, বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখার জন্য, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, বাংলাদেশকে আরও উন্নত করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৫ বছর যারা আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের ভোট নিয়ে আমাদের শাসন করেছেন, তারা ১৫ বছর আমাদের বন্ধু হিসেবে মনে করেননি। তারা মনে করেছেন প্রজা হিসেবে আমাদের উপর অত্যাচার করেছেন, নির্যাতন করেছেন, দেশের সমস্ত সম্পদ লুন্ঠন করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমি কয়েকদিন আগে চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলাম। ব্যাংককে গিয়ে আমি আমার বন্ধুদের কাছে শুনলাম, ওখানে এখন ব্যাংককের সবচাইতে অভিজাত এলাকাগুলোতে বাড়ি ভাড়ার ধুম পড়েছে। সেই বাড়িগুলো ভাড়া করছেন সব আওয়ামী লীগের বিতাড়িত নেতৃবৃন্দ। তারা একটি গাড়ি কিনছেন, সেই গাড়িগুলো ২ কোটি–৩ কোটি টাকার কম নয়। এসব টাকা কোত্থেকে এসেছে? দেশের সম্পদ তারা পাচার করেছে।

তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন, এটা নতুন করে বলার কিছু নয়। শুধু এটুকু বলতে চাই যে, আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশের সম্পদ লুন্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে। প্রায় ৮৮ লক্ষ কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে। দেশের সম্পদ বলতে আর কিছু নেই, সব পাচার হয়ে গেছে। আমাকে একজন অর্থনীতিবিদ জিজ্ঞেস করেছিলেন, দেখে শুনে মনে হচ্ছে যে, এর পরে তোমরাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, জনগণ তোমাদের উপরে আস্থা রাখবে। তাহলে দেশ চালাবে কোথা থেকে? কারণ টাকা তো সব পাচার হয়ে গেছে। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতির অবস্থা কতটা করুণ করেছে, সেটিই আমি আপনাদের বললাম।

অসাম্প্রদায়িক একটি ‘রেইনবো রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপি তথা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লক্ষ্য। ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে’ গঠনে সকলকে ঐক্য হওয়ার আহ্বানও দেন বিএনপি মহাসচিব।

গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, কোনো শক্তি, কোনো ষড়যন্ত্রকারী—সে দিল্লিতে হোক, কলকাতায় হোক বা বাংলাদেশের মাটিতে হোক—আমরা কোনো ষড়যন্ত্রকারীকে সহ্য করব না। সঠিক সময়ে এই নির্বাচন হবে। জুলাই সনদের নামে নানা রকম চক্রান্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকটি দলকে আমরা হুশিয়ার করছি। জুলাই সনদ হবে সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে। নতুন করে কেউ ষড়যন্ত্র করে দেশকে ভিন্ন অবস্থানে নিয়ে যাবে না।

তিনি বলেন, নতুন প্রেক্ষাপটে জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফা যেটা দিয়েছেন, আমি বলি, এটাই হচ্ছে আমাদের জাতীয় সনদ। এর ভিত্তিতে আগামী বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। যেগুলো অভাব-অভিযোগ আছে, আজকে রামু থেকে শুরু করে গঙ্গাচড়া পর্যন্ত কোন একটি ঘটনার বিচার হয়নি। আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এলে, প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ধর্ম বিষয়ক সহসম্পাদক অমলেন্দু দাস অপুর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিজন কান্তি সরকার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অপর্ণা রায় দাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য রনেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, নিপুণ রায় চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের তপন চন্দ্র মজুমদার, এসএন তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্য, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের জয়দেব জয়, হিন্দু মহাজোটের সুশান্ত চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ইনকনের প্রভু বিমলা প্রসাদ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল বারী ড্যানি, জন গোমেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ