দেশে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র দিয়েছেন জিয়াউর রহমান : ড. মঈন খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৫৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র দিয়েছেন জিয়াউর রহমান : ড. মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মার্চ ২৯, ২০২৩ ৭:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মার্চ ২৯, ২০২৩ ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

 

বাংলাদেশে সত্যিকারের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র জিয়াউর রহমান দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি স্বল্প সময়ে কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন। ধ্বংসপ্রায় জাতিকে বিশ্বের বুকে নতুনভাবে পরিচিতি দিয়েছেন। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জিয়াউর রহমানের ছবি ছাপা হয়েছিল। তার সততার বিরল গুণের কারণেই টাইম ম্যাগাজিন তাকে নিয়ে প্রচ্ছন এঁকেছিল।

মঈন খান বলেন, বিএনপি দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে। আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে। কেননা বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশে চলে। তারা সরকারের নির্দেশেই বিএনপিকে সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সুতরাং যে নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশে চলে তাদের অধীনে কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে?

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) রিসার্চ সেল কর্তৃক নির্মিত ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরাসরি অস্ত্র হাতে বীরত্বপূর্ণ ঘটনার আলেখ্য ‘রণাঙ্গনে জিয়া’শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। জেডআরএফ’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তবে জেডআরএফ’র রিসার্চ সেলের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান অসুস্থতাজনিত কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘রনাঙ্গণে জিয়া’শীর্ষক ডকুমেন্টারিতে অল্পকথায় জিয়াউর রহমানের জীবনী তুলে ধরা হয়েছে; যা খুবই চমৎকার। তবে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বলতে গেলে দিনের পর দিন রাতের পর রাত গেলেও শেষ হবে না। জিয়াউর রহমান যুদ্ধের সময় এককভাবে নিজেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন। যখন দেশের কোটি কোটি মানুষ দিশেহারা ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঢাকা বা আশপাশের গ্রামে-গঞ্জে অনেক তরুণ যুবক তার স্বাধীনতার ঘোষণা নিজ কানে শুনেছিলেন। তাদের জিজ্ঞেস করলেই সত্যতা পাওয়া যাবে। জিয়াউর রহমান কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দিশেহারা জাতিকে জাগ্রত করে যুদ্ধের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি সম্মুখসমরে যুদ্ধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, রনাঙ্গণের জিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে পুনর্গঠন বা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে আরও ডকুমেন্টারি বানাবেন এটা আমার পরামর্শ। কেননা তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা এবং যুদ্ধ করেননি। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশে রূপান্তর করেছিলেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ পরবর্তী ’৭২-’৭৫ সালে যে সময় গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল কায়েম করা হলো তখনো তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ওই সময় চরম অত্যাচর নির্যাতন নিপীড়ন চলছিল।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আজকে অনেকেই বলে থাকেন—বিএনপির জন্ম নাকি ক্যান্টনমেন্টে। তর্কের খাতিরে মানলাম বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। যদিও সেটা বাস্তব সত্য নয়। আমরা তো জানি বিশ্বের সামরিক শাসকরা গণতন্ত্র হত্যা করেন। আওয়ামী লীগের জন্ম তো ক্যান্টনমেন্টে হয়নি। যারা গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে। তারা কেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করল? তাহলে বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান কী সেটা করেছিলেন? সুতরাং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য নতুন প্রজন্মকে জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে বাংলাদেশে আবারও বাকশাল কায়েম করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে কেন? অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য। সেজন্যই আমরা লড়াই সংগ্রাম করেছিলাম। অথচ বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণ হলো কোথায়? যেখানে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও লাখ লাখ মানুষ জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন।

মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তাতে গণতন্ত্র তিরোহিত। দুর্নীতি এবং অর্থনীতি বিশৃঙ্খলার বিস্তার ঘটেছে। ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়েছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কতগুণ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ৩ হাজার টাকার জিনিস এখন ৫ হাজার টাকা হয়েছে। আজকে এ ধরনের বৈষম্যের বিষয়গুলো নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে।

জেডআরএফের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ সেলের আহ্বায়ক ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ডা. এ এস হায়দার পারভেজ, প্রকৌশলী মাহবুব আলস, অধ্যাপক ড. মো. আবু জাফর খান, আমিরুল ইসলাম কাগজী, প্রকৌশলী মো. হানিফ, প্রকৌশলী এ কে এম জহিরুল ইসলাম, হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খান ও প্রকৗশলী এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ