না’গঞ্জের বন্দরে ভোটের মাঠে বহিস্কৃত বিএনপি ও জাপা নেতার লড়াই - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:২২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

না’গঞ্জের বন্দরে ভোটের মাঠে বহিস্কৃত বিএনপি ও জাপা নেতার লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ৫, ২০২৪ ৫:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ৫, ২০২৪ ৫:০০ অপরাহ্ণ

 

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ প্রথম ধাপের নির্বাচন। ওইদিন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ভোট গ্রহণ। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিন জন প্রার্থী। তারা হলেন, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ (দোয়াত কলম), নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রæপের যুগ্ম আহবায়ক ও বহিস্কৃত দুই বারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল (চিংড়ি মাছ) ও মুছাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি কুখ্যাত রাজাকার মৃত রফিকের পুত্র মাকসুদ হোসেন (আনারস)।
এই তিন প্রার্থীর পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তিন প্রার্থীই ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ বহু বছর ধরে তারা ওসমান পরিবারের ইশারা ইঙ্গিতেই রাজনীতি করে আসছেন। বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সাথে এই তিনজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরে ওপেন সিক্রেট। কিন্তু নির্বাচনে তিনজনই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থেকে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন সেলিম ওসমান। যদিও নানাভাবে তিনি চেষ্টা তদবির করেছেন সমঝোতার ভিত্তিতে একজন প্রার্থী দিতে। এবং সেই প্রার্থীকে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত করানোর। সকল হুমকি ধামকি ও মামলা উপেক্ষা করে দুই প্রার্থী (মুকুল-মাকসুদ) তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় ওসমান পরিবারের সমর্থিত প্রার্থীর ঘুম হারাম। তিনি রীতিমত চিন্তিত। রাজাকার পুত্রের দুই হাতে টাকা বিতরণ তাকে এই চিন্তায় ফেলেছে। অন্যদিকে আরেক প্রার্থী নিরবে বিএনপি এবং এন্টি ওসমান পরিবারের সমর্থন নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। যদিও তিনি বিএনপি থেকে বহিস্কৃত।
রবিবার (৫ মে) সরেজমিনে বন্দর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটারা সুষ্ঠু নির্বাচন দাবী করে জানান, তারা যেন কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিতে পারেন। জয়ের ব্যাপারে তিনজন প্রার্থী আশাবাদী। শাহী মসজিদ এলাকার ভোটার আবদুর রশিদ, হান্নান সরকার, আবুল কালাম সহ অনেক ভোটার বলেন, নির্বাচনে লড়াই হবে বিএনপির থেকে বহিস্কৃত দুই বারের নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও জাপা নেতা রাজাকার পুত্র মাকসুদের সাথে।
তবে, গতবার রশীদকে ছাড় দিলেও এবার বেশ শক্তভাবেই মাঠে নেমেছেন বিএনপির সাবেক নেতা আতাউর রহমান মুকুল। তিনি এ উপজেলায় পরপর দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। মাঠপর্যায়ে তার বেশ সমর্থনও রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ ঘেঁষা কর্মকাÐের কারণে গত ৩০ ডিসেম্বর জেলার ৬ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এই তালিকায় মুকুলও রয়েছেন। যদিও ভোটের মাঠে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি তার। বরং ভোটের মাঠে তার অবস্থার বেশ শক্ত বলে দাবি তার। আতাউর রহমান মুকুল বলেন, দল এবং ব্যক্তিগত দুইভাবেই আমি মাঠে আছি। আমি এই উপজেলায় জনগণের ভোটে দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তখনও যেমন সব দলের লোক আমাকে ভোট দিয়েছে, এবারও দেবে। জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির মাকসুদ হোসেন তার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ মুকুলের। যদিও এই বিষয়ে মাকসুদ হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ রশিদ বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনও ষড়যন্ত্র করছে। রাজাকারের উত্তরসূরীরা এখন ক্ষমতার মসনদে বসতে চায়। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে তারা দামী দামী গাড়ি নিয়ে মহড়া দেয়। যারা এই লাল সবুজের পতাকাকে কলংকিত করেছে তারা আজ ক্ষমতা চায়। এই স্বাধীন বাংলায় এটা কি মেনে নেয়া যায়। এদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। মুক্তিকামী বাঙ্গালী স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিরা জেগে উঠুন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের বর্জন করবে।
বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা আবু জাফর বলেন, গতবার তো আমরা চেয়ারম্যান কাউরে ভোট দিতে পারি নাই। বিনা ভোটেই চেয়ারম্যান হইছেন রশীদ সাহেব। এবার অন্তত ভোট হচ্ছে, তবে তা সুষ্ঠু হবে কী-না তা এখনও বলা যাইতেছে না।
মুছাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সবজি বিক্রেতা মো. কামাল হোসেন বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ায় এই ইউনিয়নের ভোটের হিসাবে মাকসুদ হোসেনের পাল্লা ভারী। অন্য এলাকার কথা জানি না। কিন্তু মাকসুদ ভাই মুছাপুরের মানুষের পাশে ছিল। লোকজন তারেই ভোট দিব।
কলাগাছিয়া ইউনিয়নের তরুণ ভোটার ফয়সাল হোসেন বলেন, “আমরা চাই একজন ভালো জনপ্রতিনিধি। গত কয়েক বছরে উপজেলার এলাকাগুলোতে রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ শিক্ষা, চিকিৎসা খাতে তেমন কাজ হয়নি। তাছাড়া বন্দরে চোর-ডাকাতের উৎপাতও খুব বেশি। এলাকার উন্নয়ন আর মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব যেই প্রার্থী নিবেন, ভোটাররা তাকেই ভোট দেবেন।
নির্বাচনী মাঠে তার টার্গেট বিএনপির ভোট। কিন্তু যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সেখানে বিএনপির ভোট কতটা টানতে পারবেন তা দেখার বিষয়। যদিও শুক্রবার (৩ মে) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি হুশিয়ারী দিয়েছেন, বন্দর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেবে না। যদি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত খান বলেছেন, বন্দর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আতাউর রহমান মুকুল। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন নাগরিকরা বলেছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে ফলাফল পাল্টে দেয়ার সুযোগ বন্দরে না হওয়ার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে সা¤প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে। সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে লড়াইটা শেষ পর্যন্ত ত্রি-মুখীই হবে। কারণ নির্বাচনের মাঠে তিন প্রার্থীর ভোটের নানা অংক কষছেন ভোটাররা। সবমিলিয়ে ৮ মে শেষ হাসি কে হাসবেন তা দেখার অপেক্ষায় বন্দরবাসী।
উল্লেখ্য, মদনপুর, ধামগড়, মুছাপুর, বন্দর ও কলাগাছিয়া ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদ গঠিত। মোট ৫৪টি ভোট কেন্দ্রে। মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৭ হাজার ৫০০, নারী ভোটার ৬৪ হাজার ৬২।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ