নাগরিক ঐক্যের গণস্বাক্ষর সরকার পতনের আন্দোলন চলতেই থাকবে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:২৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নাগরিক ঐক্যের গণস্বাক্ষর সরকার পতনের আন্দোলন চলতেই থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৪ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৪ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
সরকার পতনের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এই লড়াইকে আরও সংগঠিত, শক্তিশালী এবং বেগবান করতে হবে। এই লড়াইয়ে আমাদেরকে জিততে হবে। না জেতা পর্যন্ত আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে গণতন্ত্রের পক্ষে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।

সকাল সাড়ে ১১টায় ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না, গণতন্ত্রের পক্ষে গণস্বাক্ষর’ শীর্ষক এই কর্মসূচি পালিত হয়। টেবিলে বিছানো কাপড়ে রিকশাচালকসহ সর্বস্তরের মানুষজন ৭ই জানুয়ারির ভোটের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করেন। কর্মসূচি তৃতীয় দিনে শুরুর পর বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্যের মাঝে মাঝে গণসংগীত পরিবেশন করা হয়।

আন্দোলন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই লড়াই কাউকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিংবা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানোর লড়াই না। এই লড়াই আপনার, আমার অধিকার, গুরুত্ব ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই। এই লড়াই আমাদের জারি রাখতে হবে। এই লড়াইকে আরও সংগঠিত, শক্তিশালী এবং বেগবান করতে হবে।

এই লড়াইয়ে আমাদেরকে জিততে হবে। না জেতা পর্যন্ত আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না।
তিনি বলেন, এই গণস্বাক্ষরসহ অন্য কর্মসূচিগুলো আমাদের মূল লড়াইকে বেগবান করবে। কিন্তু এটা মূল লড়াই না। যারা মূল লড়াইকে বেগবান করার জন্য ঐক্যকে সমৃদ্ধ করছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতা দখলকারী সরকারের বিরুদ্ধে অনেক বড় বড় আন্দোলন করেছি। গণসভা, গণমিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশসহ লক্ষ লক্ষ মানুষের বিভিন্ন কর্মসূচি করেছি। কিন্তু এখন কেউ লজ্জাহীন হলে তো লজ্জা দেয়া যায় না। জনগণের প্রতিনিধি হয়ে যারা জনগণের সেবা করতে চান তারা হলেন রাজনীতিবিদ। আর জনগণের সমর্থন ছাড়াই যারা জনগণকে শাসন করতে চায় তারা তো গণবিরোধী শাসক। আমরা সেরকম একটি গণবিরোধী শাসক চক্রের অধীনে আছি।

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা বলেছি, এই সরকার ভুয়া। আমরা মানে কি? আমি একা না। দেশের কোটি কোটি মানুষ এই সরকারকে ভুয়া মনে করে। সাকিব আল হাসানের মতো এত আন্তর্জাতিক মানের এক নাম্বার ক্রিকেটার। উনি এখন বাংলাদেশের জনগণের কাছে ভুয়া হয়ে গেছেন। কারণ একটি ভুয়া নির্বাচনে ভুয়া এমপি হয়েছেন। আমি অনেক বড় খেলোয়াড়, নজর তো উপরে যাবে। নিচে কেন গেল? তাই মানুষও আপনাকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সরকার ভোট তো করে নাই। এই নির্বাচনে ভোটার ছিল একজন। তিনি ৩০০টা আসনে ভোট দিতে পারতেন। তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনি যাকে যাকে ভোট দিয়েছেন, তিনি জিতেছেন। বাকি কেউ জিততে পারে নাই। এরকম ভোট মানার কোনো প্রশ্ন আসে না। সরকারের উদ্দেশ্যে মান্না বলেন, আমাদের সভা ভেঙে দিতে পারেন। নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেন। গুম ও খুন তো অনেক দিন চলেছে। আন্দোলন তো থামাতে পারেন নাই। পারবেনও না। এই আন্দোলন চলতেই থাকবে। কারণ আমরা জানি, আপনারা পারবেন না। মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ওদিকে বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে “শহীদ জিয়া ও বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আজকে বাংলাদেশ কৃষি, তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যার ভিত্তি রচনা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি দেশের উন্নয়নে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। কৃষির সমৃদ্ধির জন্য তিনি খাল ও নদী পুনঃখনন ও গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করেন। উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি নানামুখী প্রকল্প নিয়েছিলেন। এভাবে আল্লাহর মেহেরবানীতে দেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পন্ন হয় এমনকি গিনিতে চাল রপ্তানি করা হয়েছিল। বাংলাদেশের উন্নয়নের শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই। তিনি বলেন, আজকে ক্ষমতাসীন সরকারের উচিত জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকা। কিন্তু তারা নির্লজ্জের মতো জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করছে। ঋণ দিয়ে তিনি গার্মেন্টস শিল্প চালু করেছিলেন। বেকারত্ব দূর করতে নানা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের ১৬ হাজার কর্মী পাঠিয়ে তিনি প্রথম প্রবাসী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ