প্রমাণিত হলো হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার“মা” খালেদা জিয়া - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:২০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রমাণিত হলো হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার“মা” খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২ ৮:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৩ ৮:১৩ অপরাহ্ণ

 

আব্দুল আজিজ
ধর্মের ঢোল আপনি বাজে, সত্য কখনো চাপা থাকে না। গণতন্ত্রের “মা” দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যে হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারই আজ্ঞাবহ আদালতের মিথ্যা ফরমায়েশি রায়ে ৭৩ বছরের একজন বৃদ্ধ মহিলা বিনা অপরাধে জেলে কাটছেন তার প্রমাণ আজ নিজে হাসিনা লন্ডন সফর কালে অকপটে বলে ফেলেছেন একটি ফোন আলাপ এখন ভাইরাল। হাসিনার কথা শুনে সারা বিশ্ববাসী অবাক, স¤প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনা তার এক বিশেষ নেতাকে ফোন করে বলছে হোটেলে যেন নেতাকর্মীরা বেশি না আসে, দু-একজন আসলে আসতে পারে। হোটেল ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আর বিএনপিকে বলে দিবেন- তারেক রহমান যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে তার মা কোনদিনও মুক্তি পাবে না। এ থেকেই বোঝা যায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কলকাঠি সরকার নাড়াচাড়া করছেন। প্রমাণিত হলো দেশ নেত্রী গণতন্ত্রের “মা” বেগম খালেদা জিয়া সহ জিয়া পরিবার হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। একজন প্রধানমন্ত্রী যদি হোটেল ভাড়া পাবেন না কেন? তিনিতো ভিআইপি পার্সন হোটেল ভাড়া না পাওয়ার কারণ কী? এতেই প্রতীয়মান হয় জিয়া পরিবারের উপর জুলুম নির্যাতনের জন্য শুধু বাংলাদেশের জনগণ না বিশ্ববাসী হাসিনার উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশে এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান। গুম-খুন, লুটপাট, আত্মসাৎ ও দখলের মহাসমারোহে গণতন্ত্রকে বন্দি করা হয়েছে।

বন্দি করা হয়েছে গণতন্ত্রস্বীকৃত বিরোধী দলের অধিকার, কথা বলা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে। সারাদেশ আজ বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে। দুঃশাসনের বিষাক্ত বলয়ে বন্দি দেশবাসী। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার কোপানলে এক চরম নিষ্ঠুর অবিচারের শিকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রতি চলছে ভয়াবহ এবং নজিরবিহীন অমানবিক আচরণ। দীর্ঘ তিনযুগ ধরে যিনি দেশে গণতন্ত্র আর সুশাসন কায়েম করার জন্য সংগ্রাম করে আসছিলেন যিনি তার প্রতি বিরুদ্ধে কেন এ কোন ধরণের বিচার? খালেদা জিয়া তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন। একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরউত্তম ও মহান স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী। একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি ৭৩ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধ মহিলা তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি স্বামীহারা সন্তান হারা, ২৯ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি হারা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে পড়ে পরিবার পরিজন সন্তান স্বজনদের কাছ থেকে দূরে। তাঁর আপনজন দেশের জনগণ। এমন একজন নেত্রীকে জনমানবহীন এক নির্জন কারাগারে এক ভ‚তুড়ে পরিবেশে একটি স্যাঁতসেঁতে ভবনেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই ভবনটি পরিত্যক্ত হবার কিছুদিন আগেও এই কারাগারে অনেকের ফাঁসির দÐ কার্যকর করা হয়েছে। আর সেখানেই একাকী রাখা হয়েছে দেশনেত্রীকে। তিনি ছাড়া আর একজন বন্দিও সেখানে নেই। একজন নারী হিসেবে সামান্য মর্যাদাও কী তার প্রাপ্য ছিল না? এ কী নির্দয় ব্যবহার!
খালেদা জিয়ার প্রতি এই নির্মমতায় দেশের মানুষ আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। বাংলাদেশের হৃদয়ই যেন ভেঙ্গে গেছে। মানুষের অন্তর কেঁদে উঠছে। নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আজ শুধু একজন ব্যক্তি খালেদা জিয়াকেই বন্দি করা হয়নি, বন্দি করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। বন্দি করা হয়েছে মানুষের ভালোবাসাকে। বন্দি করা হয়েছে জাতির বিবেককে।
বরিশালে (৮ ফেব্রæয়ারি ) এক জনসভায় দম্ভের সঙ্গেই উচ্চারণ করেন, “কাথায় আজ খালেদা জিয়া?”দেশপ্রেমিক সিরাজ সিকদারকে খুন করার পর চুয়াত্তর সালে সংসদে দাড়িয়ে শেখ মুজিব দম্ভ করে বলেছিল “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার?” গণতন্ত্র হত্যাকারী পিতা শেখ মুজিবের মতো শেখ হাসিনা একইরকম দম্ভোক্তি করে বিকৃত সুখ অনুভব করে উল্লাসে মেতে উঠেছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে জনগণের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি করেনি। ’ বাংলাদেশের মানুষ তার এই কথা একশভাগ বিশ্বাস করেছে।
হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার হয় না অথচ মাত্র দুই কোটি টাকা নিয়ে এত হুলুস্থুল। শেখ হাসিনার নামে ১৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পনের মামলা দলীয় বিচারপতিদের দিয়ে গায়েব করে ফেলা হয়েছে। তবে জনগণ সব জানে। খালেদা জিয়ার গগনচুম্বি জনপ্রিয়তায় নিদ্রাহীন হাসিনার অবিশ্বাস্য নির্মম জুলুমের শিকার বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এখন প্রতিটি মানুষের প্রাণোৎসারিত সবটুকু সহানুভ‚তি, আবেগ, ভালোবাসা অকাতরে উপচে পড়ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়া হয়ে জনগণের প্রাণাধিক প্রিয়।

ইতোমধ্যে এক অভাবনীয়, অভুতপূর্ব জনপ্রিয়তার অনুসঙ্গে গণমানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন একজন মাতৃমূর্তিরূপি খালেদা জিয়া। দলের কর্মী সমর্থকই নয়, মানবতাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের তিনি এখন ‘মা’। মানুষের হৃদয়ে এখন মায়ের আসন। ‘মা’ এখন কারারুদ্ধ। মা’য়ের অপমানে ডুকরে কাঁদছে বাংলাদেশ। কারাবন্দি ‘মা’ খালেদা জিয়ার শক্তি এখন অকল্পনীয়। অসামান্য অনন্য উজ্জ্বল মাতৃমূর্তিতে যেই উচ্চতায় বেগম জিয়া পৌঁছেছেন, অনেক রাজনীতিকের ভাগ্যেই এমন ভালোবাসা জোটে না।

লেখকঃ প্রধান সম্পাদক
জনতার আওয়াজ ডটকম

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ