ফেসবুকে প্রেম, সুনামগঞ্জ থেকে কিশোর বগুড়ায় - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:২৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফেসবুকে প্রেম, সুনামগঞ্জ থেকে কিশোর বগুড়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ১৯, ২০২২ ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ১৯, ২০২২ ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ

 

শাজাহানপুর সংবাদদাতা
ফেসবুকে প্রেম, সুনামগঞ্জ থেকে কিশোরকে বগুড়ায় এনে স্বামী পরিত্যক্তার সাথে বিয়ে – ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে পরিচয় ও চ্যাটিং। এরপর প্রেম। এরই সূত্র ধরে সুনামগঞ্জ থেকে বগুড়ায় ডেকে এনে এক কিশোরের সাথে বিয়ে দিয়েছে স্বামী পরিত্যক্তা তিন সন্তানের এক জননীকে।

শনিবার বগুড়ার আশেকপুর ইউনিয়নের পারতেখুর এলাকাবাসী সূত্রে এ ঘটনার কথা জানা গেছে।

কিশোর জয়নাল (১৭) সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজারগাও গ্রামের ইবরাহিম হোসেনের ছেলে। স্বামী পরিত্যাক্তা সখিনা বেগমের (৪০) ১২, ৯ ও ছয় বছর বয়সী ছেলে-মেয়ে রয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সখিনার চাল-চলনে অসন্তুষ্ট হয়ে কিছু দিন আগে স্বামী তাকে ফেলে চলে যায়। এরপর থেকে তিনি ফেসবুক ও ভিডিও কলে বিভিন্ন ছেলের সাথে প্রেম করতেন। ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ওই ছেলেকে প্রেমের প্রলোভনে ডেকে আনে সখিনা। এরপর লোকজনকে হাত করে দুই লাখ টাকা কাবিন ধরে বিয়ে পড়িয়ে দেয়।

কাবিননামায় দেখা যায়, নিজ এলাকা আশেকপুরের কাজির বাইরে অন্য এলাকা শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের বীরগ্রামের কাজি মুজাহিদকে দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। অভিভাবকহীন অপ্রাপ্ত বয়স্ক একটি ছেলের সাথে বিয়ের কাবিন বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কাজি কিছুই জানেন না বলে জানান।

সখিনা জানান, ফেসবুকে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক। তাকে বগুড়ায় আসতে বলায় সে উপজেলার মাঝিড়া বন্দরে আসে। সেখান থেকে নিয়ে এসে কিছু লোক বিয়ে পড়িয়ে দেয়।

কিশোর জয়নাল জানায়, সখিনার সাথে মোবাইলে পরিচয়। আমি জানি না তিনি তিন সন্তানের মা। আমাকে বগুড়ায় বেড়াতে আসতে বলে সখিনা। পরে কিছু লোক বাড়িতে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেয়। আমি এখন বাড়িতে যেতে চাই কিন্তু যেতে দিচ্ছে না।

এ ঘটনায় ৯৯৯ ফোন দিলে শাজাহানপুর থানার এসআই সাদ্দাম হোসেন, এসআই শামীম আহমেদ ও এসআই আবদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তবে কিশোরকে উদ্ধার না করে তারা ফেরত আসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, যেহেতু বিয়ে হয়েছে সে ক্ষেত্রে কিছুই করার নেই।

এ বিষয়ে বগুড়া আদালতের আইনজীবী রহিমা খাতুন মেরী বলেন, দেশের আইনে ছেলেদের বিয়ের বয়স ২২ ও মেয়েদের ১৮ বছর। এক্ষেত্রে ছেলেটির বয়স কম ও নাবালক। তাই আইনের দৃষ্টিতে এ বিয়ে অবৈধ। তিন সন্তানের মা অবশ্যই সাবালক। তিনি অবশ্যই নাবালক একটি ছেলেকে প্রলোভন না দিলে এতো দুর আসেনি। তাই ছেলেটিকে উদ্ধার করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ