‘ফ্যাসিবাদের মূল ফুট সোলজার ছিল ছাত্রলীগ’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৪ ৩:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৪ ৩:০১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী পুরোনো। ফ্যাসিবাদের মূল ফুট সোলজার ছিল ছাত্রলীগ। আমরা চাই, প্রত্যেকটা শিক্ষাঙ্গন নিরাপদ হোক। ক্যাম্পাসগুলোতে যেন আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি না হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি। বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ আয়োজিত ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম বলেন, ছাত্রলীগের যে কাজকর্ম দেখছেন, সেটা দৃশ্যমান। সরকার বা আমরা চাই, প্রত্যেকটা শিক্ষাঙ্গন নিরাপদ হোক। তাতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা সুস্থভাবে শিক্ষা নিতে পারবে। তারা যেন পৃথিবীর যেকোন ছাত্রের সাথে নিজেকে তুলনা করতে পারে। এজন্য একটা সৃজনশীল সিচুয়েশন ক্যাম্পাসগুলোতে তৈরি করতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোতে যেন আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি না হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, আশা করি সামনে সরকারে যারা আসবে তারাও কাজ করবে। এক মহৎ আন্দোলন ক্যাম্পাস থেকে শুরু হলো। এর যে ব্যাপ্তি তা ধারণার বাইরে। এ আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল ছাত্রলীগ। তারা ছিলো ফ্যাসিবাদের মূল ফুট সোলজার। তারা ফ্যাসিবাদের বয়ান তৈরি করেছে। অনেকে ছাত্রলীগ করতো একটা চাকরির আশায়অ আমার চোখের সামনে গ্রামের যে ছেলেটা ছাত্রলীগ করে তার চাকরি হইছে। কিন্তু যে ছেলেটা পড়ুয়া ও জ্ঞানী তার চাকরি হয়নি। ছাত্রলীগের কর্মীদের চাকরি হয়েছে পুলিশে, গোয়েন্দা সংস্থায়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশকে নিরাপদ করতে হলে, শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ করতে হবে। এ বিষয় আমাদের সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের কমিশনগুলো হচ্ছে, রিফর্ম কমিশন হচ্ছে। আমরা যে বিতর্কের কথা বলছি সে বিতর্ক শুধু সংবিধান কিংবা পুলিশ কিংবা বিচার ব্যবস্থায় আটকে থাকলে চলবে না। এর বাইরে সামাজিক বিতর্কগুলো হওয়া উচিত যে, শিক্ষাজ্ঞনকে আমরা নিরাপদ কিভাবে করবো, কী করলে আরেকটা ছাত্রলীগ এ দেশে তৈরি হবে না সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। সেজন্য আমাদের বিতর্ক করতে হবে গ্রাম-গঞ্জে, প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ বিষয় আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। বলতে হবে না, আমরা এ ধরনের আরেকটা মনস্টার আমাদের স্যোসাইটিতে চাই না। বাংলাদেশ যেন নিরাপদ হয় এটা চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী পুরোনো তা আমরা অনেকেই জানি। সেই স্বাধীনতার আগে, এরপর ৭০-এর দিকে, এমনকি রক্ষী বাহিনীর অনেক কুক সুলজার ছিল ছাত্রলীগে। আমরা ইতিহাস যেন না ভুলে যাই, আমরা আমাদের শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ রাখতে চাই। যে ছেলেটা দুর্বল সেও যেন শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ থাকতে পারে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন সন্ত্রাসমুক্ত থাকে। সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি, আপনরাও চেষ্টা করুন।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে এ বিষয় বিতর্ক হোক। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আমাদের ছাত্ররা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেখিয়েছে যে, রাষ্ট্র কীভাবে মেরামত করতে হবে। এই রাষ্ট্র মেরামতেরই একটা বড় অংশ হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনের সন্ত্রাসকে আমাদের দূর করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামত শুধু মাত্র সংবিধান কিংবা বিচার ব্যবস্থা ঠিক করে হবে না। সমাজে যারা সন্ত্রাস করে তারা যাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না করতে পারে সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।
সেমিনারে একতার বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্লাবন তারিক বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ছাত্রলীগ দ্বারা অনেক অত্যাচার করেছে। এখন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে ধরে এনে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আমরা আমাদের নতুন বাংলাদেশকে নিরাপদে রাখতে চাই। আমরা সামনের দিকে কোনো প্রকার ভায়োলেন্স চাই না। এই বিপ্লব হয়েছে দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জহিরুল ইসলাম বাবর বলেন, বাংলাদেশ হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলো দ্বারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটেছে। বিশেষ করে ছাত্রলীগ বিগত সময় ধরে একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতায় ছিল। সেজন্য তারা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস কায়েম করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্ররাজনীতি চায় না। ছাত্রদের ভেতরে ট্রমা কাজ করছে। আন্ডারগ্রাউন্ড ছাত্র সংগঠনগুলোও এখন প্রকাশ্যে এসেছে। ছাত্র সংগঠনগুলো কীভাবে ক্যাম্পাসে কাজ করবে সে বিষয়ে তাদের ভাবধারা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সেমিনারে ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস সন্ত্রাস ছাত্ররাজনীতির অন্ধকারাচ্ছন্ন এক যুগ নামক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেছেন ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির পিএইচডি স্কলার শাহাদাৎ স্বাধীন।
প্রবন্ধে বলা হয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক গৌরব-উজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্রলীগের ইতিহাস মূলত খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও নানা অপকর্মের ইতিহাস। গত ১৫ বছর ধরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, রাজনৈতিক সহাবস্থান ছিল না, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের জীবন গিয়েছে নানা হয়রানির ভেতর দিয়ে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে দলের প্যারা মিলিশিয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রভাবে বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালায়। বিরোধী ছাত্রসংগঠন বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীসহ নতুন ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির আন্দোলন করার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের দমন ও পীড়নের সম্মুখীন হয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা নির্বাচন ছাত্রলীগকে আরও বেপরোয়া করে তোলে, যার ফলে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।
জনতার আওয়াজ/আ আ