মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ওমর হউক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৫ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৫ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
সাবেক সভাপতি ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
পর্র৷ ২.
এ দেশের গৌরবময় সেনাবাহিনী ধংস করে বাংলাদেশকে নব্য হায়নার নিয়ন্ত্রিত কলনীতে রুপান্তরিত করে পরা শক্তির রিমোর্ট কন্ট্রোলের স্থায়ী সরকার হবার দেশদ্রোহীরা কি বসে আছে ?
না – – – না – – – না, পািলখানায় বিডিয়ার হত্যা কান্ডের মধ্যদিয়ে তার প্রমান দেশ জাতীর নিকট স্পষ্ট । সেই দেশ দ্রোহী আর দাদাবাবুদের দাস দাসী মহল গং এখনো স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার জন্য সদা জাগ্রত আছে। সত্যিকার অর্থে বিডআর হত্যা কান্ডের নামে দেশের গর্বিত সেনাবাহিনী জাতীর গর্বিত” চীর উন্নত মমশীর” দেশের গর্বিত সেনা বাহিনী কে সমুলে ধংশ করার সড়যন্ত্র নয় কি ? বিডিআর হেড কোয়াটারে মানুষ নামের আজরাইলের হাত থেকে বাঁচার জন্য দেশের চৌখুশ সেনা কর্মকর্তা গং সরকার প্রধানের কাছে টেলিফোনে প্রান ভিক্ষা চেয়েও ভিক্ষা পায়নি। শুধু আমার নয় দেশের সকল দেশ প্রেমিক নাগরীকদের মনের আদালতে কে বা কারা দায়ী এবং কোন অপ শক্তির এ্যাজেন্ডা ওরা বাস্তবায়ন করেছে তা নক্ষত্রের মত স্পষ্ট । একটু পেচনে না গেলে নয় — কারা এই পথ সৃষ্টি করেছে? দেশের তখনকার সেনা প্রধান কে কারা আমন্ত্রণ করে লাল গালিচা বিচিয়ে উষ্ঞ সংবর্ধনা দিলেছিল ? কারা ঘোড়া উপঢৌকন দিয়েছিল? যে উপঢৌকন নিয়ে দেশে ফিরেই সেই সেনা প্রধান মইন ইউ আহমেদ মহান বিপ্লব ও সংহতি দিবস কে পদদলিত করেন । রক্ষক যদি বক্ষক হয় তা হবার তাই হয়। মনে পড়ে সেই বাংলার নবাব সিরাজ উদদৌলার আমলের কথা । হায় রে মীর্জাফর! তুই এখনো ইবলিশ শয়তানের মতই আমাদের কারো কারো শিরায় উপশিরায় মিশে আছিস। বড়ই পরিতাপর বিষয় যে দেশের রাজনীতিক গং তা অনুধাবন কতখানি করে তা আমার প্রশ্ন ????? একটি প্রবোধ নিয়ে বেচে আছি – আমাকে আপনাকে এবং সবাইকে দেশের দেশাত্মবোধ জাগ্রত রেখে যুগ যুগ ধরে সতর্কতার সাথে কোন রাজনীকদের দিকে তাকিয়ে না থেকে স্ব স্ব চোখ – কান খোলা রেখে দেশের অর্যিত স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার মরনপণ অতন্দ্র প্রহরীর মতই থাকতে হবে। নচেৎ পরাশক্তির থাবা থেকে দেশ জাতী বাঁচতে পারবে না।
সেই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমন একদল এক নেতার শাষন ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করার পর পরই ১৫ অগাষ্ট তাঁর হত্যার গঠনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশর রাজনীতি আরেকটি অন্ধকার গহব্বরে প্রবেশ করেছিল। ওটা ছিল একটি পরা শক্তির পরিকল্পিত সেনা অভ্যুত্থান। দেশের সেনাবাহিনী ও দেশের মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ বিষয়ে মনে হয় আমার সাথে কারোই দ্বীমত পোষন হবেনা। কোনই সন্ধেহ নেই যে , ৭ ই নভেম্বর দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা সংগঠিত। শুধু মাত্র ৭ই নবেম্বর ও ৩রা নভেম্বর অভ্যুত্থান নয় ১৫ অগাষ্টের নির্মম দুর্ঘটনার নায়কও ছিলেন দেশের মুক্তিকামী যোয়ানরা। ১৫ অগাষ্ট এর হত্যাকান্ডের পেচনে কিছু মুক্তিযুদ্ধা ছাড়াও তখনকার দেশ প্রেমিক ক্ষমতাধর রাজনীতিক মহলের অনেক নেতারাই জড়িত ছিল। বংগবন্ধুর মত জন নন্দিত নেতার নির্মম মৃত্যুর পর শুধু তাঁর দাফনের পুর্বেই লাস ডিংগিয়ে আওয়ামীলীগের অনেক নেতা রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় শপথ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ছুটে গিয়েছিল। আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা খন্দকার মোস্তাকের গঠিত সরককরে মন্ত্রী পরিষদে শপথ নিয়েনিয়েছিল। শেখ মজিবুর রহমনের মন্ত্রী পরিষদের ১৯ জন মন্ত্রীর মাঝে ১১ জন মন্ত্রী ও ৯ জন প্রতি মন্ত্রীর মাঝে ৮ জন প্রতি মন্ত্রী মোস্তাকের পরিষদে শপথ নিয়েছিল । খন্দকার মোস্তাক আহাম্মদ সরকারের পক্ষে তখন অনেক আওয়ামীলীগ নেতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে সোবিয়েত ও ইউরোপ ইউনিয়নের কাছে কম ছুটাছুটি করেননি। কি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল? ১৫ ই অগাষ্ট থেকে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। খালেদ মোশারফ ছিলেন একজন কৃতিমান মুক্তিযোদ্ধা । যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের ২ নং সেক্টরের যুদ্ধে সাহসী ভুমিকার জন্য বীর উত্তম খ্যাতি অর্যন করেছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন কর্নেল শাফায়াত জামিল। ৩রা নভেম্বর ঢাকা ব্রিগেডের ছায়াতে বংগভবন ব্যাতিত প্রতিটি গুরুত্বপুর্ন স্থানে অবস্থান গ্রহন করেছিলেন। বড়ই পরিতাপর বিষয় ছিল যে , ১৯৭১ এর ক্লান্তিকালে দেশের আরেক অপোষহীন অকুতোভয় সাহসী মুক্তিযোদ্ধা তদকালিন মেজর জিয়া পাকিস্থানিদের সাথে রিভোল্ট ঘোষনা দিয়ে চট্রগ্রাম কালুরঘাট অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধের সুচনা করেছিলেন। তাঁর অসাধারন কৃতিত্বের জন্য স্বাধীনতা পরবর্তি জাতি তাকে “বীর উত্তমে” ভুষিত করেছিলেন। পরবর্তিতে সেনাবাহীনির প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে চীফ অফ আর্মি ষ্টাফ পদ থেকে পদচ্যুত করে ৩রা নভেম্বর রাত ১টায় গৃহ বন্ধী করে ব্রিগিডিয়ার খালেদ মোশাররফ নিজেকে জেনারেল পদে উন্নীত করে সামরীক প্রধানের দায়াত্বভার ঘোষনা করেন। খন্দকার মোস্তাক কে পদত্যাগ করিয়ে ব্রিগিডিয়ার খালেদ মোশারফ বিচারপতি এ এম সায়েমকে রাস্ট্রপতি নিয়োগ দেন ও মন্ত্রীসভা বাতিল করেন। দেশে খালেদ মোশাররফ প্রথম সামরীক আইন জারি করেন এবং ঐ সময়ে সড়যন্ত্রের রোশানল অসহায় কারাবন্ধী দেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ সহ চার নেতার আরেক নির্মম হত্যা ঘটায়। ঐ সময় খালেদ মোশাররফ ১৫ই অগাষ্ট অভ্যুত্থানকারীদের দেশ ত্যাগ করার সুযোগ করে দেন। ব্রিগিডিয়ার খালেদ মোশারফের অভ্যুত্থান টি ছিল খুবেই স্বল্পদিনের স্থায়ী। যে অভ্যুত্থান টি আরোপিত হয়েছিল ভারত পন্থী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল। ৫ ই নভেম্বর দেশে অনেক সেনানিবাসে লিপলেট বিতরন করে সৈনিকদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করেন। কেননা সামরীক কর্মকর্তদের অভ্যুত্থানে সাধারন সৈনিকরা মোটেই আগ্রহ ছিলনা। তাই কাল খেপন না করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সাধারন সৈনিকরা বিন্দুমাত্র পিচ পা হয়নি। আলোচনা সমালোচনার উর্ধ্বে ঐ সময়ের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কর্নেল তাহেরর ভুমিকা শিকার না করলে সত্য কে লুকিয়ে রাখা হবে। কর্নেল তাহের ১১ নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে অসাধারন কৃতিত্ব অর্যন করেন । কমলাপুর মুক্তিযুদ্ধে তিঁনি পাঁহারিয়ে পংগু হয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাসে তিনি ও একজন খ্যাতিনামা মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন । কর্নেল তাহেরের বিচক্ষণতায় ঐ সময়ের দ্রুত পদক্ষেপের কারনেই বন্ধী জেনারেল জিয়া মুক্তি লাভ করেছিলেন। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে , কর্নেল তাহেরের সেই বিচক্ষণতা ও সাহসী পদক্ষেপ সত্বেও তাঁর পরিকল্পনা কেন সফল হয়নি তা নূতন প্রজন্মের আজো অজানা। এই ক্ষুদ্র পরিসরে সেই ব্যাখ্যা দেয়া খুবেই দরুহের। ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতার বিল্ববের ফলে ব্রিগিডিয়ার খালেদ মোশারফ দিক বিদিক জ্ঞান শুন্যতায় হচলিত হয়ে পড়েন। ——- চলবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ