মুখ দেখে নয়, কফিন ছুঁয়েই জানাতে হলো শেষ বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
ছবি: সংগৃহীত
সবার ইচ্ছে থাকে পরিজনের অন্তিম যাত্রায় মুখখানা দেখে শেষ বিদায় জানাতে। তবে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বেলায় ঘটলো মর্মস্পর্শী ঘটনা। যেখানে তার মুখ দেখে নয়, কফিন ছুঁয়েই জানাতে হলো শেষ বিদায়। তার এমন বিদায় বেলায় যেন থমকে গেছে সময়, কেদে মরছে গাছেরাও।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়।
এর আগে শনিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একটি সাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সমাহিতের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে।
এরপর বৃষ্টির ক্ষতবিক্ষত মরদেহটি কফিনে বন্দি থাকায় স্বজনরা কফিন ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানায়।
মাদারীপুর শহরের বাসিন্দা নঈমুল হক এসেছেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিদায় বেলায়। তার ইচ্ছে ছিলো বৃষ্টির মুখখানা শেষ বারের মতো দেখতে। তবে সেই ভাগ্য আর হলো কই? কারো কফিন খুলে দেখার সাহস হয়নি মুখখানাও। তিনি বলেন, আমাদের সকলের ইচ্ছে থাকে কাছের কেউ মারা গেলে তার মুখ দেখে শেষ বিদায় জানাতে। কিন্তু এখানে আমরা তা পারলাম না। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ ওকে বেহেশত নসিব করুক। পাশাপাশি যারা ওকে এভাবে হত্যা করেছে তার আমরা বিচার চাই।
মুখ দেখে নয়, কফিন ছুঁয়ে বৃষ্টিকে বিদায় দিলেন প্রিয়জনরা। ছবি: খবরের কাগজ
প্রতিবেশী রোজিনা আক্তার বলেন, আমরা আশা করেছিলাম বৃষ্টির মুখ দেখে শেষ বিদায় জানাতে সেটা ভাগ্য হয়নি। শুনেছি তার চেহারা নাকি দেখার মতো অবস্থায় নেই। তাই তার চেহেরা দেখানো হয়নি। বড় আফসোস রইলো। কফিন ছুঁয়ে তাকে বিদায় জানিয়েছি।
জানা যায়, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করতে যাওয়া নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও তার সহপাঠী লিমনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ হিশাম নামের এক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।
জনতার আওয়াজ/আ আ