যশোর-৬ আসনে পরিবারচ্যুত ধানের শীষের প্রার্থী শ্রাবণ থাকেন ‘রেস্ট হাউসে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:২৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যশোর-৬ আসনে পরিবারচ্যুত ধানের শীষের প্রার্থী শ্রাবণ থাকেন ‘রেস্ট হাউসে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৬, ২০২৫ ১১:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৬, ২০২৫ ১১:০৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে। ছাত্রদল করায় শ্রাবণকে পরিবারচ্যুত করা হয় অনেক আগেই। তার তিন ভাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্রোতের বাইরে এসে শ্রাবণ উচ্চমাধ্যমিক থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। এ কারণে তাকে ছাড়তে হয়েছে পরিবার-স্বজনদের। গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এখনো পরিবারচ্যুত তিনি। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে শ্রাবণকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে কেশবপুরে অবস্থান করলেও তিনি বাড়িতে যান না। রাতে থাকেন স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার রেস্ট হাউসে। পরিবারের কারোর সঙ্গে শ্রাবণের যোগাযোগ নেই বলে জানান তার বাবা।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন শ্রাবণ। ওই সময় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ওই সম্মেলনে ভোটে হেরে তিনি সিনিয়র সহসভাপতি পদে মনোনীত হন। পরে ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতির দায়িত্ব পান শ্রাবণ। কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে বিষয়টি আলোচিত হয়। কিন্তু ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার আগে পরিবার ছাড়তে হয় শ্রাবণকে। রাজনীতি চালিয়ে যেতে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রাবণ ছাত্রদল করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার পরিবার। এমনকি ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শুধু ছোট ছেলে শ্রাবণ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে আমার ছেলে হলেও রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে পরিবারের কারোর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো যোগাযোগও নেই। নিজের আয়ে সে চলে। পারিবারিক বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠানেও আসে না। আমরাও তার কাছে যাই না।’
রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে শ্রাবণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৩ সালে ভর্তি হয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে আসে। বারবার আমি এবং আমার পরিবারের সবাই অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রদল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করাতে ব্যর্থ হই। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রাবণকে পরিবারচ্যুত করা হয়। এখনো একই অবস্থায় আছে। আগে থেকেই সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। এখনো রাখে না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজী রফিকুল ইসলাম ৫ আগস্ট পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক, কেশবপুর উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। তার বড় ছেলে কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্তা কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। মেজো ছেলে কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং সেজো ছেলে কাজী মাযাহারুল ইসলাম সোনা যশোর জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

এ দিকে গত ২০ সেপ্টেম্বর একযুগ পর কেশবপুরে যান শ্রাবণ। তার আসার খবরে মোড়ে মোড়ে ফুল নিয়ে অবস্থান নেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তার এ বহরে কেশবপুর থেকে প্রায় দেড় হাজার মোটরসাইকেল ও শতাধিক মাইক্রোবাসে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
শ্রাবণ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি কেশবপুর কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক আদর্শের কারণে আমি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি না। তারাও আমার সঙ্গে রাখেন না। এক যুগ পর কেশবপুরে এসেছি। একটি
এনজিওর রেস্ট হাউসে রাতে থাকি। আর একটা অফিস নিয়েছি। সেখান থেকে নির্বাচনি কাজকর্ম পরিচালনা করছি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের ৩১ দফা ভূমিকা রাখবে। কেশবপুরে চাঁদাবাজদের আশ্রয় হবে না। এখানে এসে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। দীর্ঘদিন অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছি। আওয়ামী লীগের সময় ৮৭টি মামলার আসামি হয়েছি।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ