যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর সর্বশক্তি দেখাতে চায় বিরোধী জোট - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:২২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর সর্বশক্তি দেখাতে চায় বিরোধী জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২২ ৩:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২২ ৩:২১ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিল করবে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘদিন পর বৃহৎ পরিসরে অভিন্ন দাবিতে মাঠে নামবে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে অংশ নেবেন ১২ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও। কর্মসূচিটি পালন করা হবে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনসহ ১০ দফা আদায়ে। রাজধানীতে গণমিছিলের এ কর্মসূচির মাধ্যমেই সর্বশক্তি দেখাতে চায় বিরোধী জোট।

ইতোমধ্যে কর্মসূচি সফল করতে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় প্রস্তুতি বৈঠক করছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায়ও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ জানানো হবে মিছিলের রুট।

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে দশ দফা ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত ২৪ ডিসেম্বর একযোগে সারাদেশে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে গণমিছিল কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন আওয়ামী লীগের সম্মেলন থাকায় ঢাকার কর্মসূচি পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে ঢাকায় গণমিছিলে বড় শোডাউনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব জানিয়েছে।

এদিকে গণমিছিলের পর সারাদেশে যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে দলের হাইকমান্ড। দলের স্থায়ী কমিটি ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজেরা বৈঠক করেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে দশ বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গেও দলের হাইকমান্ডের বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

ঢাকায় বড় শোডাউনের পরিকল্পনা
যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলে বড় আকারের শোডাউন করতে চায় বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। এ বিষয়ে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি প্রায় প্রতিদিনই যৌথ সভা, সমন্বয় সভা, প্রস্তুতি সভা করছে। একইভাবে ছাত্রদল, যুবদলসহ দলটির প্রত্যেক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা শুরু করেছেন।

ঢাকায় গণমিছিলের জন্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিল সফলের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। গণমিছিলের রুট আজ জানানো হবে।’

এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) অবহিত করে চিঠি দেওয়ার কথা রয়েছে। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ জানান, তারা ঢাকার গণমিছিলের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। প্রত্যেক দায়িত্বশীল নেতাকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক জানান, এই লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে এরই মধ্যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। এখন শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ জনগণও ব্যাপক হারে তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিল সফলের লক্ষ্যে গত শনিবার দেশের বিভাগীয় শহর ও ১৯টি বড় জেলায় গিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তন্মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। তারা সেসব জায়গায় গিয়ে গণমিছিলে অংশ নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশি বাধায় গণমিছিল ঠিকমতো করতে পারেনি বিএনপি।

দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা : ঢাকায় গণমিছিলে শোডাউন ও সফলের লক্ষ্যে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছে বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী ছিলেন। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন গয়েশ্বর।

আলাদাভাবে মাঠে থাকবে জামায়াত
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীতে ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের গণমিছিলে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে থাকবে জামায়াত। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি রয়েছে দলটির। ইতোমধ্যে জামায়াতের ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি সভা ও বিভিন্ন জেলা-মহানগরের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের একজন কর্মপরিষদ সদস্য বলেন, আমরা হারিয়ে যাইনি। কথা দিয়েছিলাম, কয়েকগুণ শক্তি নিয়ে আবার রাজপথে ফিরে আসব। শনিবার তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন। সেটি ছিল সামান্য ঝলক মাত্র।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ৩০ ডিসেম্বর জামায়াত স্মরণকালের সেরা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকবে। গত ২৪ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম গণমিছিলে সরকারের সব বাধা উপেক্ষা করে সারাদেশে জামায়াত অনেক বড় বড় শোডাউন করেছে। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা মনোভাব তৈরি হয়েছে।

এদিকে গত রোববার ঢাকা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের ভার্চুয়ালি এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, জুলুম-নির্যাতন অনিবার্য পরিণতি। সব প্রকার ভয়-ভীতি, জুলুম-নির্যাতন মোকাবিলা করেই ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

গণমিছিলে অংশ নেবে ১২ দলীয় জোট
এদিকে বিএনপির গণমিছিলে অংশ নিতে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে ১২ দলীয় জোট। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় সভায় জোটের শীর্ষ নেতারা থাকবেন। ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কির সামনে থেকে ১২ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিএনপির গণমিছিলে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন জোটের নেতা ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা।

বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি
সরকার পতনের ‘যুগপৎ’ আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করতে ৭ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা হলেন—স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। গতকাল সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।

এলডিপির লিয়াজোঁ কমিটি
এদিকে যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে কর্মসূচি সমন্বয়ের জন্য লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদকে আহ্বায়ক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল আলমকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি করেছে এলডিপি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নিয়ামুল বশির, আওরঙ্গজেব বেলাল ও মাহবুব মোর্শেদ। দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান।

গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটি
এ ছাড়াও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক জোট এবং দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন সমন্বয়ের জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ ৭ সদস্যবিশিষ্ট লিয়াজোঁ কমিটি ঘোষণা করেছে। লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা হলেন জেএসডির আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ূম এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। গতকাল গণতন্ত্র মঞ্চের এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ