রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য সে দেশের সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। চিঠিতে রাশিয়া থেকে প্রয়োজনীয় ৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছে, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
বৈশ্বিকসংকট শুরু হওয়ার পর জ্বালানি তেল সংগ্রহের কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ভারতকে একটা স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছিল (যুক্তরাষ্ট্র)।
গত ঈদের আগের দিন আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে সরকারের এ যুগ্ম সচিব বলেন, আলোচনাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে অন্তত দুই মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল অথবা ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রাশিয়া থেকে আমদানির জন্য তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে অথবা বাংলাদেশকে এ বিষয়ে বিশেষ ছাড় দেয়।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে বাংলাদেশকে চিঠি দিতে। বাংলাদেশ সেই চিঠি দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন জবাবের অপেক্ষায় আছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ছিল। এরই আলোকে ভারত থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে পরে দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে ভারত থেকে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পেয়েছে। তিন থেকে চার ধাপে এসব ডিজেল ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এর বাইরে অন্য উৎস্য থেকেও জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে সরকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি কার্গো পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।
তবে বিকল্প আরও উৎস্য খোঁজা হচ্ছে। আরও জ্বালানি সংগ্রহের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে একটি, এঙ্গোলা থেকে একটি এলএনজি আমদানি করেছে বাংলাদেশ জানিয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত। বিশেষ করে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
জনতার আওয়াজ/আ আ