সিরাজগঞ্জ ৪ -বিএনপি’র শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৫ ১:০১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৫ ১:০১ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে। আসনটি দীর্ঘ দুই যুগ আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ আব্দুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফিক, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তানভীর ইমাম আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। এ ছাড়া ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এম. আকবর আলী ও ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল আলম নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। আর এ অবস্থায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, বিএনপি’র প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক ভরসা করছেন। বসে নেই জুলাই এনসিপিও।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ইসলামি জলসা, খেলাধুলাসহ সব অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিটি গ্রাম, পাড়া-মহল্লা। থেমে নেই অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমের প্রচারও। তারা নিজেদের প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। এ আসনে বিএনপি’র একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জেলার একমাত্র এ আসনে ভোটের মাঠে বিএনপি’র শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি নির্বাচনী মাঠেও বেশ সক্রিয়। সড়ক ও হাটবাজারে ফেস্টুন-ব্যানার এবং পোস্টার সাঁটিয়েছেন। আসনটিতে এবার জামায়াত চমক দেখাতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের। এ আসনে বিএনপি’র সাংগঠনিক অবস্থান মজবুত। দলটির শক্তি বিশাল জনগণ। এজন্য দল থেকে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দিলে সহজে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী বিএনপি’র মনোনয়ন পেলে রফিকুল ইসলাম খানকে পরাজিত করা সম্ভব। তা না হলে তিনি সহজেই বিজয়ী হবেন।
বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট সিমকী ইমাম, জেলা সহ-সভাপতি কেএম শরফুদ্দিন মঞ্জু, উপজেলার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিয়ামুল হাকিম সাজু, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান। আসনটিতে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মূল আলোচনায় সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম. আকবর আলী। তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। এরপর এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ কাজ করেছেন। যার প্রতিদান হিসেবে ভোটাররা তাকে আবারো মূল্যায়িত করবেন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, উল্লাপাড়ায় যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা বিগত বিএনপি সরকারের আমলে আমি করেছি। উল্লাপাড়াকে শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এলাকায় উন্নয়নের কাজ করবো। নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। মনোনয়ন পেলে উল্লাপাড়াকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট সিমকী ইমাম বলেন, একজন নারী হয়ে রাজপথে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। সবসময় দলের নির্দেশনা মেনে চলেছি। দল যখন যে অবস্থায় যেখানে দায়িত্ব দেবে আমি সেটিই করবো। তবে আগামীতে মনোনয়ন পাবো বলে আমি আশা করছি। অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি খান সাঈদ হাসান জ্যোতি বলেন, ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করি। ১৯৮৮ সালে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যুক্ত হই। তারপর রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু ২০১১ সালে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় আসামি করা হয়। তিনি বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি করায় আমাকে আসামি করা হয়েছিল। সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাও আশাবাদী দল তাকে অবশ্যই উল্লাপাড়ার উন্নয়নে মনোনীত করবেন।
উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করবো এবং উল্লাপাড়া উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। ইতিমধ্যে আমার এলাকার ভোটাররা আমাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে।
এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি) বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে এনসিপি সিরাজগঞ্জে পদযাত্রা করেছিল। সেখানে প্রার্থী হিসেবে দলের শীর্ষ নেতারা আমার নাম ঘোষণা করেছিলেন। ওটা অবশ্য চূড়ান্ত নয়। দল এখনো কাউকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেনি। তবে আমি আমার নিজ এলাকার (উল্লাপাড়া) মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আসনটিতে এবার জামায়াত চমক দেখাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
জনতার আওয়াজ/আ আ