হাসিনাকে কেন ভারত সমর্থন দিয়েছে জানালেন রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

হাসিনাকে কেন ভারত সমর্থন দিয়েছে জানালেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৪ ২:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৪ ২:০৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের দরকার নেই, একটাই অস্তিত্ব দরকার শেখ হাসিনার অস্তিত্ব, এই কারণেই তাকে ভারত সমর্থন দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের উদ্যোগে দ্বিতীয় ধাপে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিবেশী দেশের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অনেকেই বলে আপনারা ভারতের এত সমালোচনা করেন কেন, সমালোচনা তো তারাই সৃষ্টি করেছে। যে ব্যক্তিটা গণশত্রু, যে ব্যক্তি নিজের দেশের শিশু-কিশোরদের হত্যা করেছে, তাকে ভারত সমর্থন করছেন। তাহলে দেশের মানুষ কীভাবে ভাববে যে আপনারা বাংলাদেশের বন্ধু? আপনারা তো বাংলাদেশের মানুষকে ভালবাসেন না, ভালবাসেন মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনাকে।

ভারতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা তো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। শেখ হাসিনা তার নিজের দেশের গণতন্ত্রকামী শিশু-কিশোরদের হত্যা করেছে তারপরও তাকে সমর্থন দিয়ে গেলেন। যে ব্যক্তি দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, তারপরও তাকে সমর্থন দিয়ে গেলেন। ওরা নির্বাচন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বাড়িতে পোষা নিজেদের লোককে বিচার বিভাগে দিয়েছিলেন, এই ধরনের ব্যক্তিকে আপনারা আশ্রয় দিলেন, সমর্থন দিয়ে গেলেন। তারমানে আপনারা গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষা করতে আপনাদের যে মানবতাবোধ সেটা জাগ্রত হয়নি। সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের শেখ হাসিনাকেই দরকার ছিল?

তিনি আরও বলেন, জনগণের বাঁচা-মরার অধিকারকে আপনারা থোড়াই কেয়ার করে আপনারা হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। হাসিনা থাকলে ভারত বাংলাদেশের উপর খবরদারি করতে পারবে। বাংলাদেশকে ভারত মনে করবে শেখ হাসিনা আমাদের প্রতিভু, বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের দরকার নেই, একটাই অস্তিত্ব দরকার শেখ হাসিনার অস্তিত্ব। এ কারণেই শেখ হাসিনাকে ভারত সমর্থন দিয়ে গেছে। এই জিনিসগুলো তো মানুষ ভুলতে পারে না।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, পদ্মাসেতু, ফ্লাইওভার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার রাষ্ট্রনীতি ছিল না শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার। এই যে এস আলমসহ নানানে আলম, এমপি-মন্ত্রী, ঠিকাদাররা অধিকাংশই ছিল দুর্বৃত্ত।

তিনি বলেন, এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে সালমান এফ রহমান-আনিসুল হকরা বলছেন কে কত টাকা পাচার করেছে। ইন্ডিভিজুয়ালি মানুষকে স্বাবলম্বী না করে যারা ফ্লাইওভার করে তারা ডিক্টেটর। দেশে দেশে এটি দেখা গেছে। ওরা স্কুল বানায় না, ওরা হাসপাতাল বানায় না, ওরা জনগণের যে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সেইটা তারা বৃদ্ধি করে না, তারা ফ্লাইওভার করে টাকা পাচার করার জন্য। তাদের মেগা প্রজেক্ট করতে হয় টাকা পাচারের জন্য।

শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে কি করেন- এমন প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, জয় সাহেব থাকেন এক দেশে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নে-ভাগ্নিরা থাকেন আরেক দেশে। কি করেন তারা? এখন কি বলতে পারবেন জয় কি চাকরি করে? কি ব্যবসা করে? তার নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক দামি বাড়ি ছিল, এখন তিনি কোথায় আছেন জানি না। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে, মেয়ের জামাই তারাও বিদেশে থাকতেন। কিন্তু কোন কোম্পানিতে চাকরি করতেন, কোন প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করতেন? এটা কোনদিনও জনগণকে জানাননি। তার মানে বাংলাদেশের টাকা পাচার হয়ে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো চুপসে যেতো না, এই টাকাটা কোথাও না কোথাও যেত। আর কাদের কাছে যেত এটা সবাই জানে।

তিনি বলেন, একজন ব্যক্তিকে একের পর এক সব ব্যাংক দিয়ে দিয়েছিলেন, সব ব্যবসা দিয়ে দিয়েছিলেন। ইটিভি কেড়ে নিয়ে দিয়ে দিলেন এস আলমকে, একের পর এক টেলিভিশন যারা একটু সরকারের বিরুদ্ধে করেছে সেই টেলিভিশনেই নিজেদের লোককে বসিয়েছেন। আগের মালিককে জেলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এইগুলোই তো আমরা দেখেছি। অর্থাৎ অভিনব পন্থায় বাকশাল টু শেখ হাসিনা কায়েম করেছিলেন।

‘তার বাবা যেমন করেছিলেন একদম প্রকাশ্যে দানবীয় কায়দায় সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে, সমস্ত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে। শেখ হাসিনা ওইভাবে না করে একটু ঘুরিয়ে করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকতে শেখ হাসিনা শিশুদের গুলি করতেও দ্বিধা করেননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা নির্দ্বিধায় হত্যাকাণ্ড করেছে। গণহত্যা চালিয়েছে।

সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপির সৃষ্টি করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অনন্য কমান্ডার। যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপত্তি করেন প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী সপু, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, ডিইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, যুবদলের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহবুব মাসুম শান্ত, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ