১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে একটি চক্র গুজব ছড়াচ্ছে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে একটি চক্র গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ‘কেন ভোট হবে না? সরকার প্রস্তুত, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত, রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত এবং ভোটাররাও প্রস্তুত। দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত ছিল। এখন কিছু লোক ফিসফিস করে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এবার আর সেই সুযোগ নেই। দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে যারা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে তারা ফ্যাসিস্টের পচে যাওয়া প্রেতাত্মারা। তারা যাতে ভোটারদেরকে নিরুৎসাহিত ও বাধা প্রধান না করতে পারে সেজন্যই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গণভোটের গাড়ি ক্যারাভান উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ উপলক্ষে শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলের মাঠে গণভোটে প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও উপস্থিত সাধারণ মানুষ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপদেষ্টা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। যা পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও সমাজে কাঙ্খিত পরিবর্তন আনা। আর সেই পরিবর্তনের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন ঘটবে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয়ের মধ্য দিয়ে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশে আর কখনো স্বৈরাচার ফিরে আসতে পারবে না। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই। নির্বাচন যথা সময়েই হবে।
হ্যাঁ ভোট দিলে সাধারণ মানুষদের ভাগ্যেরে পরিবর্তন হবে মন্তব্য করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এবার ভোট দিতে যেতে হবে। হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে। যেমন ২০ বছর পর মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে, মানুষ ভোট দিতে যাবেন। আগামী যাতে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরে না আসে তার জন্য হ্যাঁ ভোট দিবেন।
সভায় তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। অনেক সময় দেখা যায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো না কোনো পক্ষের থাকে। তারা কোনো পক্ষের হতে পারে না তারা হবে জনগণের। এই ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব যদি গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না চার মিনিটে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাক। আর যাতে দানবীয় সরকার ক্ষমতায় না যেতে পারে সেজন্য ক্ষমতায় পরিবর্তন এর জন্যই হ্যাঁ চিহ্নে ভোট দিতে হবে। আমরা দেখেছি দেশের নির্বাচন হাইজ্যাক করা হয়েছে, দিনের ভোট রাতে নেওয়া হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরকারও গঠন করা হয়েছে। ব্যালট বাক্সের সিল মেরে আগেই ভোট ভরে রাখা হয়েছে। আবার আমরা ভালো নির্বাচনও দেখেছি। সেই ভালো নির্বাচন অনুসরণ করেই আমরা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ সুন্দর ভোট অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বাড়তি একটি প্রস্তুতি হচ্ছে লুট হয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা।
ভারত নির্বাচনের আগে কূটনৈতিক পরিবারের লোকজনকে ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত কেন এটা করছে সেটা আমরা বলতে পারব না। তবে ভারত তাদের কূটনীতিক পরিবারগুলোকে নিয়ে যাচ্ছে এটা আমিও দেখেছি। এটা ভারত তাদের নিজস্ব বিবেচনায় করেছে। বাংলাদেশের সরকার সব সময় সবাইকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।
সভা ও কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি-সহ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ