‘৩০ বা ২০ শতাংশ লোপাট হয়ে গেলে বড় বাজেট করেও কোনো লাভ নেই’ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪৪, শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

‘৩০ বা ২০ শতাংশ লোপাট হয়ে গেলে বড় বাজেট করেও কোনো লাভ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬ ৬:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬ ৬:৪১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, খুব বড় বাজেট প্রণয়ন করা হলেও যদি কোনো কারণে ২০ বা ৩০ শতাংশ অর্থ লোপাট হয়ে যায়, তাহলে সেই বাজেটের আকার যত বড়ই হোক না কেন, তার কোনো লাভ নেই।

তিনি জানান, জাতীয় বাজেটের আকার বাড়ানোর চেয়ে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজ কার্যালয়ে মিতব্যয়িতা ও সততার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাজেট যে উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সততার সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক ততটুকুই ব্যয় করতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমি নিজেও তো অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে এর প্রয়োজন অনুভব করছি। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আমাদের আনুষঙ্গিক যে সমস্ত খরচ, এমনকি মামলা করা, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের আইন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পকেট থেকে করতে হয়। কিন্তু আমরা এত সত্ত্বেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজ করে থাকি।

‘জুন ক্লোজিং’-এর নামে দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেয়। আমাদের অফিসেও আসবাবপত্র কেনার জন্য একটি খাত রয়েছে। বাজেট ক্লোজিং হয় জুন মাসের ৩০শে জুনের পর, অর্থাৎ যে প্রয়োজনীয় টাকা আপনি খরচ করবেন, সেই টাকাটি খরচ করবেন আপনার ৩০ জুনের মধ্যে, তা না হলে এই বাজেটটা ল্যাপস হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, স্যার, ৩০ জুনের মধ্যে টাকা খরচ না করলে বরাদ্দ ফেরত চলে যাবে।’ আমি বলেছি, যাক। এতে সমস্যা কী? শুধু বরাদ্দ নষ্ট হবে বলে আমি কি নয়-ছয় করে আসবাবপত্র কিনব? আমি ১৯ লাখ টাকা ফেরত দিচ্ছি। আইনগতভাবে চাইলে হয়তো এই অর্থ বিভিন্নভাবে খরচ করা যেত। কিন্তু আমি দেখেছি, এই মুহূর্তে অফিসে ১৯ লাখ টাকার আসবাবপত্র কেনার প্রয়োজন নেই।

সরকারি অর্থের অপচয় রোধে নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি যে চেয়ারটিতে বসি, সেটি কেনার সময় নিজেই দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। আমি নিজে তাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছি এবং পাবলিশড প্রাইজ রিডিউস করাইছি। পরে অফিসকে বলেছি, কমানো দামে যেন চেয়ারটি কেনা হয়।

রাষ্ট্রীয় অর্থের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের এই টাকা আকাশ থেকে আসে না। এটি জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ, ঘামের টাকা। প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে দেশের জন্য, মানুষের জন্য এবং জনকল্যাণের জন্য।

রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের মিতব্যয়িতার উদাহরণ তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপনারা দেখছেন, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই ৮০ থেকে ৯০ টাকা খরচ করে দুপুরের খাবার খান। আমারও দুই দিন সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে।

অতীতের অনিয়মের সমালোচনা করে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমি চাই না দেশের টাকা অতীতের মতো নানা উপায়ে নয়-ছয় হোক। বাংলাদেশের মানুষও প্রত্যাশা করে না যে রাষ্ট্রের একটি কানাকড়িও কেউ আত্মসাৎ করবে। আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে তা প্রতিরোধে কাজ করতে চাই। আমি আমার অফিসে অন্তত এটি নিশ্চিত করতে চাই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ