অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ৬ ব্যাংকের ১০ হাজার কর্মীর পুনর্বহাল দাবি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৪৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ৬ ব্যাংকের ১০ হাজার কর্মীর পুনর্বহাল দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ৪:০৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ৪:০৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়া ইসলামী ধারার ছয়টি ব্যাংকের ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করছেনে ভূক্তভোগীরা।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই দাবি জানান।

ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

‘ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শীর্ষক এই মানববন্ধনে ওই ছয় ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের স্বপদে অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানান।

একইসঙ্গে তারা মিথ্যা অভিযোগ, হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করা, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এছাড়া দলীয় কর্মীদের অবৈধ নিয়োগ, অবৈধ চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান, এমডি, এডিশনাল এমডি, ডিএমডিসহ জুলুমবাজ ম্যানেজমেন্ট ও পর্ষদের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, ‘গত কয়েক মাসে দেশের ছয়টি ইসলামি ধারার ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত, বৈষম্যমূলক ও প্রতিহিংসামূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। অযৌক্তিক বদলি, মানসিক ও শারীরিক হয়রানি চালানো হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের অনেককেই অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন।

শুধু তাই নয়, মানবসম্পদ নীতিমালা লঙ্ঘন করে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত দক্ষ ও অভিজ্ঞদের অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের জীবনের সঞ্চয়, আমাদের পরিবারের স্বপ্ন, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ-সবকিছুই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিমজ্জিত।’

তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির না করার অপরাধে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা জামায়াত-শিবির সমর্থক হলে আজ আমাদের এই দুরবস্থায় পড়তে হতো না। শুধুমাত্র দলীয় ব্যানার না থাকায় যদি আমাদের চাকরিচ্যুত হতে হয়, সেটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’

তারা আরও বলেন, ‘‘৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী কুচক্রী গোষ্ঠীর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি ইনঅ্যাকটিভ করা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং তথাকথিত ‘দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন, যা হাজারো পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।’’

তারা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা বিশৃঙ্খলা চাই না, আমরা সুশাসন চাই। আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।

মানববন্ধন থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম স্লেগান ছিল- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে দফা এক-দাবি এক, অবৈধ ম্যানেজমেন্টের পদত্যাগ’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘তুমি কে, আমি কে, মজলুম, মজলুম।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ