আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:১০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০২৪ ১২:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০২৪ ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ (৩০ আগস্ট)। সারা পৃথিবীতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স এগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয় তাতে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস বলে ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ওই সনদে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস ওই সনদে স্বাক্ষর করেন।

এদিকে, গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গতকাল বাণী ও বিবৃতি দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে গুম প্রতিরোধে আইন করব। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আশা করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাদের পরিবার-পরিজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন এবং গুমের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট গুম হওয়া মানুষগুলোকে স্মরণ এবং সেই সাথে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য দিবসটি পালন করা বিশ্বব্যাপী। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি আছেন সাধারণ লোকজনও। আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে দেশে অগণিত মানুষ গুমের শিকার হন। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল মানুষ গুম হলে ভয়ে তার স্বজনরা মুখ খুলতেন না। এমন পরিস্থিতিও ঘটেছে। গুম হওয়া মানুষের স্বজনরা থানায় মামলা অথবা সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে তা গ্রহণ না করে উল্টো মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গুম হওয়া মানুষদের স্বজনরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় পর্যন্ত দাঁড়াতে পারেনি। অনেকে স্বজনের সন্ধান চাইতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। জেল খেটেছেন।

এর মধ্যে অনেককেই বন্দী রাখা হয়েছিল আওয়ামী সরকারের আয়নাঘরে। যে ঘর থেকে মাঝে মধ্যে দু’একজন ছাড়া পেলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত তারা মুখ খোলেননি। এই গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সেনাকর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও রয়েছেন। হাসিনা পালানোর পর আয়নাঘর থেকে বেশ কয়েকজন ছাড়া পেয়েছেন। তারা বর্ণনা করেছেন দিনের পর দিন আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের কথা। ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া অনেক রাজনৈতিক নেতার এখনো কোন্ধোন নেই। এই গুমের সাথে জড়িত ছিলেন সন্দেহে সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক নৌকর্মকর্তা সোহায়েলসহ অনেকেই ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায় আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কিনা তা জানা যায়নি।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসারে আইন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, গুম মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশে নজিরবিহীন গুমের ঘটনায় লাখ লাখ দেশবাসীর মতো আমিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে এটি প্রয়োগ করা হয়। শেখ হাসিনার দুঃশাসনে গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে জনসমাজে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। নির্ভরযোগ্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো একযোগে প্রকাশ করেছে যে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাত শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গুম করেছে। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক, আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে, বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তি যেন গুম না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য, আমরা জাতিসঙ্ঘের গৃহীত গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন (আইসিপিপিইডি) অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করব।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে বিরোধী মতের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার সাত শ’র অধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বাংলাদেশে ‘গুম’ বা ‘নিখোঁজ’ ইস্যুতে বিদেশীদেরও আগ্রহ রয়েছে। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট বাংলাদেশ সফর করেন। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বিভিন্ন সময় গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের একটি তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে হস্তান্তর করেন।

হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের পুত্র সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নির্বাহী পরিষদ সদস্য শহীদ মীর কাসেম আলীর পুত্র সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম দীর্ঘ আট বছর পর গুম অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তবে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ এবং বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু মানুষ এখনো গুম অবস্থায় আছেন। গুম ও অপহরণকৃত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে জীবন-যাপন করছেন। গুম হওয়া ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য হাসিনা সরকারের কাছে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম হওয়া মানুষদের সন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে। ‘কমিশন অব ইনকয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ অনুসারে তদন্তকাজ সম্পন্ন করে কমিশনকে আগামী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ