আমরা কোনো রকম সহিংসতা বা উসকানিতে পা দিব না : রুমিন ফারহানা – জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৫৯, শুক্রবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আমরা কোনো রকম সহিংসতা বা উসকানিতে পা দিব না : রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ৪, ২০২৩ ২:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ৪, ২০২৩ ২:০৯ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে আন্দোলনের মধ্যেই আছে। মিথ্যা মামলায় আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবরণ করেছেন। সরকার পরিকল্পিতভাবে তাকে পাঁচ বছর ধরে রাজনীতি থেকে বাইরে রেখেছে। অ্যাক্টিং চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। মহাসচিবের বিরুদ্ধে শখানেক মামলা। স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন করা হচ্ছে। সুতরাং অত্যন্ত বৈরী পরিবেশে আমাদের আন্দোলন চালাতে হচ্ছে। বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। এসময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও কথা বলেন।

অনেক বছর পরে আপনাদের আন্দোলনে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে এবং কয়েক মাস ধরে গুছিয়ে আন্দোলন করতে দেখা যাচ্ছে বিএনপিকে। এর রহস্যটা কী?

রুমিন ফারহানা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৭ বছর ধরে আন্দোলনের মধ্যেই আছে। মিথ্যা মামলায় আমাদের চেয়ারপারসন কারাবরণ করেছেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে তাকে পাঁচ বছর ধরে রাজনীতি থেকে বাইরে রেখেছে। মিথ্যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ৭৫ বছর বয়সে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। অ্যাক্টিং চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। মহাসচিবের বিরুদ্ধে প্রায় শখানেক মামলা। স্ট্যাডিং কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। নানাভাবে আমাদের দমানোর চেষ্টা হয়েছে। আমাদের দল ভাঙার বহু চেষ্টা হয়েছে। সেসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেই আমরা ১৭ বছর ধরে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় আছি। অত্যন্ত শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় আছি। যেটা আওয়ামী লীগ চিন্তাও করেনি। এর মধ্যে কয়েক মাস ধরে আমাদের আন্দোলন একটা ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। আন্দোলনের শুরু থেকে একটা বিষয় মতৈক্য ছিল। আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, আন্দোলন হবে ভীষণভাবে গণতান্ত্রিক। আমরা কোনো রকম সহিংসতা বা উসকানিতে পা দিব না। অতীতে সরকারের নানা ফাঁদ ছিল। ২০১৩-১৪ সালে তারা সহিংসতা করেছে। তারা বাসে আগুন দিয়ে নাম দিয়েছে বিএনপির। কিন্তু যখন পত্রিকা রিপোর্ট করছে তখন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নাম এসেছে। এমনকি আমরা এটাও দেখেছি, এখন পর্যন্ত একটা মামলারও ফায়সালা হয়নি। মামলাগুলো ফয়সালা করলে দেখা যেত সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজনের নাম আসছে। তারপরও আমাদের নামে তারা অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে আপনারা দেখেছেন যে, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। ১৭ জন কর্মীকে তারা স্রেফ গুলি করে হত্যা করেছে। সুতরাং অত্যন্ত বৈরী একটা পরিবেশে আমাদের আন্দোলন চালাতে হচ্ছে। আমাদের কর্মসূচিগুলো চলছে। আমি আসলে ধন্যবাদ দেব আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তৃণমূলকে। তারা যদি শক্তভাবে না দাঁড়াত, তাহলে সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যেভাবে ১৫ বছর সহিংসতা চালিয়েছে তাতে বিএনপির পক্ষে টিকে থাকা দায় হতো।

বিএনপি এখন কীসের জন্যে আন্দোলন করছে?

রুমিন ফারহানা: আন্দোলনের উদ্দেশ্য যদি আমাকে এক কথায় বলতে হয়, তাহলে বলব বিএনপি ভোটের অধিকার মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন করছে। দেশের মালিকানা দেশের মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন করছে। বিএনপি মানুষের মানবাধিকার রক্ষা, কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন করছে। আমরা যে সরকার গত ১০ বছর দেখছি; বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে, এই সরকার একেবারেই অনির্বাচিত’। অনির্বাচিত সরকার থাকার নানা কুফল এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। একটা কূটনৈতিক অস্থিরতা আছে চারপাশে, একটা রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে, একটা অর্থনৈতিক অস্থিরতা আছে। নানামুখী অস্থিরতার গোড়ার কারণ যদি অনুসন্ধান করেন, দেখবেন ‘অনির্বাচিত সরকার’। আমরা একটা নির্বাচিত সরকার চাই, সেটা যেই আসুক।

আপনারা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। সরকার বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সমাধান আসবে কীভাবে?

রুমিন ফারহানা: রাজনীতিতে আসলে শেষ কথা বলে কিছু নেই। পরিস্থিতি যদি আমরা সে রকম তৈরি করতে পারি, তাহলে এই প্রধানমন্ত্রীই আমাদের আবার আলোচনার জন্য ডাকবেন। আমরা বিশ্বাস করি, পরিস্থিতি সেভাবে তৈরি করতে পারব এবং এটা আমাদের জীবন-মরণের একটা লড়াই। আমরা হয় জিতব, না হয় মরতে হবে। সুতরাং এই আন্দোলনে পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। এখনো নির্বাচনের ছয়-সাত মাস বাকি। এত আগে থেকে অলআউট আন্দোলনে আমরা যাব না, নির্বাচনের আগে আগেই সেটা দেখতে পাবেন। আমরা বর্তমানে বিভাগ ও জেলাগুলোতে ওয়ার্ম আপ কর্মসূচি করছি। মানুষ আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এটাই আমরা কয়েক মাস ধরে রাখতে চাই। নির্বাচনের আগেই এর ফল দেখবেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন নিয়ে কথা হচ্ছে। এর আগে দেশের কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যদের ওপর স্যাংশন দেওয়া হয়েছে। এবার বলা হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে বা বাধা প্রদানকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

রুমিন ফারহানা: আমি আমার ব্যক্তিগত মত বলি, র‌্যাবের ওপর ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর স্যাংশন এসেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য মূলত এই স্যাংশন দেওয়া হয়েছে। একটি রিপোর্ট বলছে, ২০১৮ সালে যেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে ৪৬৬টি, ২০১৯ সালে হয়েছে ৩৭৭টি, ২০২০ সালে হয়েছে ১৮৮টি। সেটা স্যাংশনের পরে কমে গিয়ে ১৫টিতে দাঁড়িয়েছে। তাহলে স্যাংশন কাজ করে কি করে না, সেটা তো দেখাই যাচ্ছে। নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়াতে স্যাংশন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা নির্বাচনে কারচুপিতে সম্পৃক্ত তাদের স্যাংশন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনে নয়-ছয় কী? ‘নির্বাচনের তো বারোটাই বেজে গেছে।’ এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নীতির আওতায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে আছে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, সরকার সমর্থক ও বিরোধী দলের কর্মী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কাজের মধ্যে আছে ভোট কারচুপি, ভোটারকে ভয় দেখানো, মানুষের সংগঠিত হওয়া ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার যে অধিকার তাতে সহিংসতার মাধ্যমে বাধাদান। এর বাইরে মানুষের মত প্রকাশে বাধাদানও এর মধ্যে পড়বে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ভিসা নীতির কথা ৩ মে তারিখেই সরকারকে জানিয়েছে তারা। কিন্তু ২৫ তারিখ মার্কিন প্রশাসন এটি না বলা পর্যন্ত চুপ ছিল সরকার। মজার কথা হলো ৩ তারিখে এ বিষয়ে জানার পর থেকেই সরকারের আচরণ হয়েছে অভূতপূর্ব। কখনো বলছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না, কখনো বলছে স্যাংশন দেওয়া দেশ থেকে কিছু কিনবে না বাংলাদেশ, কখনো প্রত্যাহার করছে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পুলিশি প্রহরা ও পতাকা ব্যবহার। এতে মনে হচ্ছে সরকার যথেষ্ট ভীত। আসলে সরকার খুব ভালো করে জানে দেশে মোটামুটি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও তারা ১৫টির বেশি সিট পাবে না। এই ভিসা নীতির পরপরই গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ আজমত উল্লা হেরে গেলেন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এক ব্যক্তি জাহেদা খাতুনের কাছে। উগান্ডা নিয়ে ফেসবুকে আমরা অনেক ট্রোল করি। বলে রাখি এমন ভিসা নীতি এর আগে হয়েছে শুধু উগান্ডা আর নাইজেরিয়াতে।

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বিঘ্নে মানুষের ভোট প্রদান একটি বিষয়। তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো—সরকারের সঙ্গে যুক্ত নানা রকম সুবিধাভোগী গোষ্ঠী। তারা কি চাইবে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হোক আর তারা চুরি-দুর্নীতির জন্য বিচারের আওতায় আসুক?

রুমিন ফারহানা: এজন্য আমাদের যুদ্ধটা অনেক বেশি কঠিন। অনেকেই বলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল, তোমরা পার না কেন? ১৯৯৬ সালে একটা গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় ছিল। ১৯৯৬ সালে কোনো গোষ্ঠীতন্ত্র তৈরি হয়নি দেশে। বর্তমানে সুবিধাভোগী একটা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, একটা আমলা গোষ্ঠী, একটা প্রশাসন গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তারা কোনোভাবেই চাইবে না এই সরকার ক্ষমতা থেকে যাক, কারণ তার পিঠের চামড়া বাঁচানোর জন্য। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে সে জবাবদিহি ছাড়াই হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করতে পারছে, অনুপার্জিত টাকা ভোগ করতে পারছে। বিদেশে টাকা পাচার করতে পারছে। বিদেশে সেকেন্ড হোম বানাতে পারছে, কোথাও তাকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। যদি সরকার পরিবর্তন হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যদি বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন হয়, তাদের জবাব দিতে হবে। আমি বলছি না সরকারে বিএনপিকে আসতে হবে, সরকারে যেই আসুক, যদি একটা জবাবদিহিমূলক সরকার ক্ষমতায় আসে, তাহলেই তাদের জবাব দিতে হবে। সেটা তারা কেউ-ই চাইবে না।

বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে কী কী সংস্কার করবে?

রুমিন ফারহানা: আমরা অতীতে আমাদের মতো করে চেষ্টা করেছি। আমাদের সময়ে ১৯৯০ সালের পর যে চারটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো মোটা দাগে সুষ্ঠু হয়েছে। সে সময়কার নির্বাচন কমিশন কিন্তু আজকের মতো নতজানু ছিল না। সরকারও সেভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে তারা তাদের মতো করে প্রশাসনে রদবদল করেছে, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনতা দিয়েছে। ফলে চারটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। এরপর যখন নির্বাচন ছাড়া সরকার ক্ষমতায় থাকা শুরু করল, তখন সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। আমাদের ২৭ দফাতে পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমরা বিভিন্ন কমিশন করে দেব—নির্বাচন কমিশন, সংবিধান সংস্কার কমিশন, মিডিয়া কমিশন, বিচার বিভাগ কমিশনসহ অনেক কমিশন করব। যারা অভিজ্ঞ রয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যারা কাজ করতে পারবেন, তাদের দিয়ে আমরা কাজ করাব। আমি মনে করি পুরো কাঠামো ভেঙেচুরে নতুন করে সাজাতে হবে। এটা ফোকলা হয়ে গেছে, ভেতরে আর কিছু নেই। বাংলাদেশ একটা সার্কাসে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে আবার তার সঠিক পথে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সব জায়গায় কাজ করতে হবে। যেই ক্ষমতায় আসুক, তাদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ বলে আমি মনে করি।

সামনের নির্বাচনে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?

রুমিন ফারহানা: বিএনপি বড় একটি দল এবং নির্বাচনমুখী একটি দল; আমাদের সবসময়ে প্রস্তুতি আছে। যে কোনো আসনে খবর নেন, চার-পাঁচজন যোগ্য প্রার্থী পাবেন। যারা যোগ্য, যারা কাজ করছে, যাদের মানুষ ভোট দেবে। ওয়ার্ড লেভেল পর্যন্ত আমাদের কমিটি গোছানো রয়েছে। সুতরাং কালকে ভোট হলেও আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু ভোটের পরিবেশটা ঠিক থাকতে হবে। হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দিলে তো আর সাঁতার কাটা যায় না।

এই পরিস্থিতিতে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?

রুমিন ফারহানা: এটা কোনো সরকার না, এই সরকারের প্রতি পরামর্শ দেওয়ার কিছু নেই। এই সরকারে কিছু ব্যবসায়ী আর আমলা মিলে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। এদের কাছে পরামর্শ বলে কিছু নেই। তবে, মানুষকে আমার বলার আছে—আশাহত হওয়ার কিছু নেই, আমাদের রক্তে লড়াই, আমরা লড়াই করে সব অধিকার ফিরিয়ে এনেছি। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই, দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আমাদের সেই লড়াইয়ে জিততে হয়েছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনে গিয়েছিল। বৈধতা দিয়েছিল স্বৈরশাসককে। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও আওয়ামী লীগ বলেছিল, আমাদের আন্দোলনের ফসল। এখন পর্যন্ত ওয়ান-ইলেভেনের কারও বিচার হয়নি। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। কেন আনবে? কারণ ওয়ান-ইলেভেন তো তাদের আন্দোলনের ফসল। সেই ফসল তারা এখন ভোগ করছে। ওয়ান-ইলেভেনের সেই ষড়যন্ত্রের ফলে তারা এখনো ক্ষমতায় টিকে আছে। সুতরাং লড়াইয়ের মধ্যে আমরা আছি, এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই আমরা জিতব। আমি বলি না আগামীতে আমরা ক্ষমতায় আসব। আমি বলি, আগামীতে একটি জাবাবদিহিমূলক সরকার ক্ষমতায় আসবে। আগামীতে মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার আসবে। তবে এটা করা খুবই কঠিন হবে। নির্বাচিত হয়ে যেই ক্ষমতায় আসবে, তাকে সব জায়গায় হাত দিতে হবে। ঢাবি শিক্ষকের মতো লোক থেকে শুরু করে একদম পিএসসি পর্যন্ত। সব জায়গায় তাকে হাত দিতে হবে। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে একদম জাতীয় সংসদ পর্যন্ত হাত দিতে হবে। সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অতএব সহজ কাজ এটা নয়, খুবই কঠিন কাজ। যে ক্ষমতায় আসবে, যদি না করতে পারে তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে আবারও তার পরিবর্তন আসবে। লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।কালবেলা

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ