আ'লীগ জনগণকে জিম্মি করে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে: এ্যানি - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:৪২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আ’লীগ জনগণকে জিম্মি করে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে: এ্যানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৫ ৯:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৫ ৯:৫১ অপরাহ্ণ

 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে পার্থক্য আছে। আওয়ামী লীগ লুটপাট করছে, গুম-খুন করছে, নোংরামি করছে। জীবনে কখনো নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসবে, জনপ্রতিনিধি হয়ে বক্তব্য রাখবে, এটা তারা করার চেষ্টা করে নাই। বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। জনগণকে জিম্মি করেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করেছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জিম্মি করে রেখেছে। জিম্মি করে তারা লুটপাটের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের রামরতন বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এ্যানি বলেন, নেতৃত্বের কাতারে আমাদের একটু স্মরণ রাখতে হবে। আমরা সাধারণ মানুষকে যদি একটু সমীহ করি, সন্মান দিই, তাহলে মানুষ আমাদেরকে সন্মান করবে। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের একটা গভীর সম্পর্ক ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার যে নেতৃত্ব, আপোষহীন, দেশের মানুষের জন্য যে দরদ, তার যে স্বাভাবিক রাজনীতি মানুষের সঙ্গে থেকে। এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাউকে প্রশ্রয় দেন না৷ এখানেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে পার্থক্য। বলেন, তারেক রহমান চাচ্ছে, বিএনপি চাচ্ছে- সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এটা আমাদের পক্ষেই সম্ভব।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের অনেক মানুষ শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন। এ আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক সাধারণ মানুষ, ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের, বিভিন্ন পেশাজীবি ও অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনেকভাবে হয়রানি হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। ৫ তারিখের পর একটা ভিন্ন পরিস্থিতি আমাদের সামনে। এ পরিস্থিতিটা আমার-আপনার জন্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ। যার জন্য আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, সেটা যদি আমরা সবাই ধরে রাখতে পারি, যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, যে শ্রম-ঘাম, রক্ত দিয়েছি, সবকিছু বৃথা যাবে। সুতরাং এটা বৃথা যাবে, সে কথা আমরা বাংলাদেশের মানুষ মানতে রাজি নই। আমরা লক্ষ্মীপুরে যারা বসবাস করি, আমাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছে। গ্রামে-গ্রামে হামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে। গুম-খুন হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়েছি।

এ্যানি বলেন, আমরা সারা বংলাদেশের মানুষ অত্যাচারিত ছিলাম, নির্যাতিত ছিলাম, সবাই ত্যাগ স্বীকার করেছি। শুধু কোন রাজনৈতিক দলের একজন ত্যাগ স্বীকার করে নাই। একজন-দুইজন জেলে যায়নি। একেকজন এককভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেই সবাই মিলে আন্দোলন করেছি।

সম্প্রতি সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় সাংবাদিকের উপর দুর্বৃত্ত কর্তৃক হামলা ও গুলির প্রসঙ্গ এনে বিএনপির এই নেতা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হতে হবে। ফাইন্ড আউট করতে হবে, কারা জড়িত। সাংবাদিকদের পথিমধ্যেই হামলা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার নিউজ যদি গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসে, তখন লক্ষ্মীপুরের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না।

দলের কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে এ্যানি বলেন, এ সামজে কেউ যদি দলের বাহিরে হোক আর ভেতরে হোক সমাজকে কলুষিত করার চেষ্টা করে সেটা সালিসের মাধ্যমে করুক, সেটা অন্যায়ভাবে করুক, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে করুক, গুলিগালা করে, চাঁদাবাজি করে, তাদের ক্ষমা লক্ষ্মীপুরের মাটিতে হবে না। দলের নেতা, পোষ্ট-পদবি দিয়ে কিন্তু এ বিচার হবে না। সবাই সমান। আমি মানুষকে সন্মান দিলে নেতৃত্ব আসে। জোর করে সন্মান নেওয়া যাবে না। যেটা আওয়ামী লীগের কাজ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, হেলমেট বাহিনীর কাজ, সেটা বিএনপির কাজ নয়। বিএনপির কাজ হলো মানুষের সেবা করা। বিএনপি গণমানুষের দল। আওয়ামী রক্ষীবাহিনী সৃষ্টি করেছে, তারা দুঃশাসন করেছে, তারা হেলমেট বাহিনী করেছে, অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। আজকে আমরা সবাই মিলে যে নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি, এটা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমরা সবাই মিলে এ প্রজম্মের জন্য, এ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সুন্দর করতে চাই। এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।

ইটভাটা মালিকদের উদ্দেশ্যে এ্যানি বলেন, মাটি কাটবো, জোর করে টাকা দিয়ে আসে এ ক্ষেতের মাটিটা কাটবো। এক কোপের কথা বলে দশ কোপ কাটবে, এটি বিচার নয়, এটা হবে না। ইটভাটার জন্য জমি কিনে মাটি নেন। জমি কিনে ইট বানান। মাটি কেটে পুকুর বানাবেন, সেখানে মাছের চাষ করেন। এক বিনিয়োগে দুটি লাভ হবে। এক কোপের কথা বলে পাঁচ কোপ নেবেন, মাটি কাটা কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া হবে। মাটির ব্যবসা করে চাঁদাবাজি করা যাবে না। কেউ বিল্ডিং বানাবে, উনাকে শ্রমিক, ইট, বালু সিমেন্ট দিতে হবে, এটি আওয়ামী লীগের কাজ। এ বিষয়গুলো আমাদেরকে স্বরণে রাখতে হবে। এটি যে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও নেতা স্বরণে রাখবে না তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।

দত্তপাড়া রাম রতন বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেনের সভাপতিতে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ