আলী কি মুলী হবে? বিএনপির আলী নিষিদ্ধ করা কি ঠিক হলো?একটি নির্মোহ পর্যবেক্ষণ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:১৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আলী কি মুলী হবে? বিএনপির আলী নিষিদ্ধ করা কি ঠিক হলো?একটি নির্মোহ পর্যবেক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ৪, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ৪, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

 

ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন | ৪ মে ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি টকশোতে অংশগ্রহণকারী বক্তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত লক্ষ করেছি। মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক চর্চার স্বাভাবিক অনুষঙ্গ—এতে আপত্তির কিছু নেই। তবে যারা মনে করেন “আলী” (আওয়ামী লীগ) একসময় স্বাভাবিকভাবেই “মুলী” (মুসলিম লীগ)-এর মতো বিলুপ্ত বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে, তাই নিষিদ্ধের প্রয়োজন নেই—আমি সেই অবস্থানের সাথে সবিনয়ে দ্বিমত পোষণ করছি।

তাত্ত্বিকভাবে বলা যায়, জনগণ ভোট না দিলে যে কোনো রাজনৈতিক দলই সময়ের ব্যবধানে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা প্রায়ই তত্ত্বের চেয়ে ভিন্ন। প্রশ্ন হচ্ছে—একসময় অত্যন্ত জনপ্রিয় দল “মুলী” কেন বিলুপ্তির পথে? এর মূল কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বা শক্তির ধারাবাহিক সমর্থন তারা পায়নি। ফলত সংগঠনগত দুর্বলতা, নেতৃত্বের সংকট এবং রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলা—সব মিলিয়ে তাদের অবক্ষয় দ্রুততর হয়েছে।

অন্যদিকে “আলী”-এর ক্ষেত্রে চিত্রটি আলাদা। এখানে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্র—প্রশাসনিক, আর্থিক ও গোয়েন্দা—নানাভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই সহায়তা কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; বরং কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদি এবং লক্ষ্যভিত্তিক। ফলে “আলী”-এর পক্ষে রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা স্বাভাবিকভাবেই আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়। সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় কখনও কখনও বিভাজনমূলক রাজনীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রশ্ন কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে—যা একটি রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।

গত সময়ে “আলী”-এর শাসনামলে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে—নির্যাতন, সহিংসতা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার—এসব বিষয় জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষ থেকে “আলী”-এর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে প্রতীকী প্রতিরোধ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন। অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—এটি “আলী”-এর পেছনে থাকা শক্তির প্রতি একটি বার্তা বহন করে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়—নিষিদ্ধকরণ কি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান? ইতিহাস বলে, কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রবণতাকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না, যদি তার সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি অটুট থাকে। তাই মূল সমস্যা—ক্ষমতার অপব্যবহার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, এবং জবাবদিহিতার অভাব—এসবের সমাধান না হলে একই চক্র ভিন্ন নামে ফিরে আসার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই বিএনপিকে এব‍্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। সকল মতাদর্শের জন্য কমন একটি প্ল্যাটফর্ম হলো বিএনপি – একথা বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না। যাতে কোনভাবেই দলটি মিসগাইডেড না হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, যারা মনে করেন বিএনপি নিজেও ভবিষ্যতে “আলী”-এর মতো আচরণ করতে পারে—তাদের জন্য সতর্কবার্তা হলো: জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। যদি কোনো দল একই ধরনের কর্তৃত্ববাদী পথ অনুসরণ করে, তবে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। গণতন্ত্রের মূল শক্তি এখানেই।

পরিশেষে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য, সহনশীলতা এবং জবাবদিহিমূলক রাজনীতির চর্চা অপরিহার্য। বিভাজন নয়, বরং সংলাপ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই সময়ের দাবি। সকল পক্ষকে সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ