ইসলামী শিক্ষায় ভারতীয় থাবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিচ্ছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:০৫, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৪শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইসলামী শিক্ষায় ভারতীয় থাবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৪ ১১:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৪ ১১:২৯ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজ প্রশ্নবিদ্ধ। আমারা দেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সীমান্তে বিএসএফ যেভাবে বিজিবিসহ বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করছে এবং বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ হুমকির মুখে। ইসলামী শিক্ষার ওপর ভারতীয় থাবা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। ইসলাম, দেশ ও মানবতার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে।

আজ বুধবার সকালে রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বহুমুখি সংকট উদঘাটন ও নিরসনকল্পে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক গোলবেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও সহকারী মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানি, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এবি পার্টির মহাসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কর্নেল অব. মশিউজ্জামান, এনডিএম ববি হাজ্জাজ, সাবেক সচিব ও বালাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ইয়াকুব হোসেন, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ফারুক হাসান প্রমুখ।

এ সময় চরমোনাই পীর বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাসমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্রই সকল শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের রাজনৈতিক, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। মানুষের জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করে গড়ে তুলতে পারে। তাই সময়ের একান্ত প্রয়োজন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য ঘোষণা করল সরকারটাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য ঘোষণা করল সরকার
বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন আমির বলেন, বাইরে থেকে আনা মূলনীতি, অসৎ লোভী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সহিংস দমন-পীড়নমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী আর লুটেরাদের কবলে পড়ে বাংলাদেশ সমস্যার অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। মানুষের যাবতীয় অধিকার গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই হত্যা করা হয়েছে। রাজনীতিকে সহিংসতা ও নোংরামির চূড়ান্ত স্তরে নিয়ে রাজনীতিকে দূষিত ও বিষাক্ত করা হয়েছে।

তিনি সিন্ডিকেট ব্যবসা সম্পর্কে বলেন, দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে প্রতিহত করতে পারলে চালের দাম কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৪০ টাকা করা যাবে। একই ধারাবাহিকতায় ডাল, তেল ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য ৩০% কমিয়ে আনা যাবে। সকল পরিবহনের যাত্রী ভাড়া ৩০% কমানো যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলও ৩০% কমানো যাবে। উৎপাদন মুখী শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা যাবে।

গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, পীর সাহেব চরমোনাই’র বক্তব্যে দেশের মানুষের কথা, দেশের কথা বলা হয়েছে। কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সকল অকল্যাণকর ও ধ্বংসাত্মক কাজ বাদ দিতে হবে। দেশের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। পাকিস্তানিদের আমরা যে জন্য পরিত্যাগ করেছি, তার চেয়ে ভয়াবহ দেশের অবস্থা বর্তশান সরকার করেছে। নারী অপহরণ ধর্ষণ, খুন-খারাপী, গুম, দুর্নীতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমতাবস্থায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ ছাড়া ছাড়া বিকল্প নেই।

মোস্তফা জামান হায়দার বলেন, দেশের এই দুর্দিনে পীর সাহেব চরমোনাই সকল মত ও পথের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই। প্রহসনের ডামি নির্বাচন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন দেশকে ভয়াবহ সংকটে ফেলে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

‘পদ্মা সেতুতে দৈনিক আয় সোয়া ২ কোটি টাকা’‘পদ্মা সেতুতে দৈনিক আয় সোয়া ২ কোটি টাকা’
মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতা শুধু ইসলামেই নয়, অন্যান্য ধর্মেও বৈধ নয়। খ্রিস্টধর্মে বলা হয়েছে, সমকামীরা ঈশ্বরের গজবপ্রাপ্ত। হিন্দুধর্মে বলা হয়েছে সমকামী মহিলা হলে আগুল কেটে বা মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া এবং ২০০ রুপি জরিমানা করা। সমকামী পুরুষ হলে পানিতে ডুবিয়ে মারা। বাংলাদেশে সংবিধানে সমকামীদের ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধানও আছে। ইসলামে সমকামিতার স্থান নেই। শিক্ষা নিয়ে সরকারকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশ এখন ইবলিসের হাতে বন্দি। এই ইবলিসের সাথে নেই দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ। এখন একটি ধাক্কা দিতে পারলে ইবলিস সরকার, ডামি সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য। পীর সাহেব চরমোনাইর ডাকে দেশের সব ঘরনার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়েছে। পীর সাহেব চরমোনাই নেতৃত্বে একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ