এক এগারোতে কারা কারা পালিয়েছিল সবাই জানে : মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৩ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৩ ৯:০৪ অপরাহ্ণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘গতকাল রোববার রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নাকি পালায় না। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র) আছেন ভালো বলতে পারবেন। এক এগারোতে কারা কারা পালিয়েছিল সবাই জানে। কিন্তু পালায়নি একজন তিনি হলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।’
‘তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, বিদেশে আমার কোনো জায়গা নেই। এই দেশ আমার, এই মাটি আমার। আমার জন্ম এখানে মরলেও এখানে মরব।’ কিন্তু এই দেশের মানুষ সব জানে। কে কখন কোথায় পালায়, কেমন করে পালায় সবাই জানে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত পদযাত্রাকে গণতন্ত্রের জয়যাত্রা দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের এই পদযাত্রা গণতন্ত্রের জয়যাত্রা, আমাদের এই পদযাত্রা সভ্যতার জয়যাত্রা, এই পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায় করার জয়যাত্রা, আমাদের এই পদযাত্রা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জয়যাত্রা, এই পদযাত্রা আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জয়যাত্রা।’
আজ সোমবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলের সামনে থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে। তারা এখন প্রমাদ গুনছে। তারা প্রতিদিন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আজকে চালের দাম কত হয়েছে? দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে বলেছিল না? এখন কত খাচ্ছেন? ডালের দাম কত, লবণের দাম কত, আটার দাম কতো? পুরান ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাস নেই। সব খেয়ে ফেলেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়েছে। দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে। আর সেই টাকা তারা লুট করে বিদেশে পাচার করছে।’
তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে গত ১৪/১৫ বছর ধরে এদেশের মানুষের ওপরে যে অত্যাচার করছেন সেই অত্যাচারে মানুষের পিঠ এমনভাবে দেয়ালে ঠেকে গেছে আপনারা আর কোনো রাস্তা খুঁজে পাবেন না। ওবায়দুল কাদের সাহেব পালাবেন কোন দিকে।’
‘একটা কবিতা আছে—কোন দিকে পালাবে তুমি। কোনো দিকে পালাবার পথ নাই। উত্তরে উত্তর পর্বতমালা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। কোনদিকে পালাবে তুমি? তাই এখনো বলছি সময় আছে, আমাদের যে দশ দফা দাবি এই দাবি মানে মানে মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। সংসদ বাতিল করুন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আবার চালু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে, নতুন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন করুন যে নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারবে, ভোট দিতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘গত দুইটা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন? কেউ ভোট দেয়নি। নিজেরা ভোট করেছে। একটা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরেকটা করেছে আগের রাতে। এই ভোট আর জনগণ চায় না।’
‘আপনাদের হাতে ভোট নিরাপদ কেমন করে? এই যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমাদের এমপি সাত্তার সাহেব পদত্যাগ করলেন। তারপর তিনি নিজে ভোট করতে গেলেন। আমরা তাকে বহিষ্কার করলাম। এখন তাকে জয়লাভ করানোর জন্য সমস্ত নীতি নৈতিকতা বাদ দিয়ে আপনারা আপনাদের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে দুদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, গুম। অর্থাৎ সাত্তারকে জেতানোর জন্য এখন সমস্ত নির্বাচন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছেন।’
‘আপনারা মাগুরার কথা বলেন? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাচনকে মাগুরার দাদা বানিয়েছেন। সুতরাং এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আজিজুল বারী হেলাল, নবী উল্লাহ নবী, ইশরাক হোসেন, সাইফুল আলম নীরব, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, তানভীর আহমেদ রবিন প্রমুখ।
পরে ২টা ৫০ মিনিটের দিকে জুড়াইন রেল গেটের দিকে পদযাত্রা শুরু হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ