ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে সতর্ক হোন! প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে সতর্ক হোন! প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ ১:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ ১:৪৬ অপরাহ্ণ

 

নিজ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ফুটবল খেলার মাঠে কিন্তু আত্মঘাতী গোলও আছে। অর্থাৎ নিজেদের প্লেয়ার নিজেদের গোল পোস্টেই গোল করে দেয়। ওবায়দুল কাদেররা কিন্তু সেই ধরনের আত্মঘাতী খেলোয়ার। ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদ যখন বিপদে পড়বে তখন সে বলবে ঋণ খেলাপির টাকা। উন্নয়নের বুলি বলে লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাচারের সাথে শেখ হাসিনা ওয়াজেদ জড়িত। যেমন ওয়ান ইলিভেনে ওবায়দুল কাদের, জড়িত। শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম বলেছিলেন ‘‘শেখ হাসিনা কার কার কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে।’’ তাই ওবায়দুল কাদের যখন খেলার কথা বলবে তখন শেখ হাসিনা আপনিও সাবধান হয়ে যান কারণ সে বিপদে পড়লে আপনার সব কথা কিন্তু বলে দিবে।’

বৃহস্পতিবার(১৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনের মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘এই অবৈধ সরকারের একজন মন্ত্রী আপনারা সবাই তাকে চেনেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উনি প্রতিদিন বলে খেলা হবে। এটাতো ফিউচার টেন্সে বলেছে, প্রেজেন্ট টেন্সে তো খেলা চলছে। আপনি কামরুজ্জামান রতন কে গ্রেপ্তার করেছেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছেন। এটা কি খেলার অংশ না? সারাদেশে সমাবেশ যাতে না হয় তার জন্য অনেকেই গ্রেপ্তার করেছেন। এটা কি খেলার অংশ নয়? বিএনপির সমাবেশের ২ দিন আগে বাস মালিক ধর্মঘট ডাকে এটাও তো আপনার খেলার অংশ। কারণ আপনার নির্দেশ ছাড়া এই বাস মালিক সমিতি ধর্মঘট ডাকার কথা না। বিএনপি’র সমাবেশ শেষে তাদের ধর্মঘটও শেষ হয়। এটা তো ওবায়দুল কাদের ও শেখ হাসিনার খেলার অংশ।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘খেলা দেখাচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে। বিদ্যুতের নাকি বন্যা বয়ে গেছে। হাইওয়ে, বড় বড় ফ্লাইওভার উন্নয়নে গোটা দেশ ছড়িয়ে গেছে। দেশের মানুষের আয় বেড়েছে ২ হাজার ১৩৪ ডলার। আবার প্রধানমন্ত্রী একবার বলছে দুর্ভিক্ষ হবে আবার বলছে হবে না। এই যে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী। মানুষের যদি এত আয় বেড়ে থাকে তাহলে দুর্ভিক্ষ হবে কেন? কিন্তু দুর্ভিক্ষ চলছে। সরকারি চাল ৩০ টাকা কেজি যে ট্রাক গুলোতে দেবে সেই ট্রাকগুলোর পিছনে ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ দাঁড়িয়ে থাকছে চাউলের জন্য। এটাই তো দুর্ভিক্ষের আলামত। ওবায়দুল কাদের ফিউচার টেন্সে বলে খেলা হবে। কিন্তু খেলা তো চলছে মানুষের আহার নিয়ে খাদ্য নিয়ে ভোগান্তি নিয়ে। এসব দেশের জনগণ দেখছে এর হিসাব কিন্তু আপনাকে একদিন দিতে হবে।’

ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলে রিজার্ভে নাকি এখনো ৩৫ বিলিয়ন ডলার আছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে ২৪ বিলিয়ন ডলার। হঠাৎ করে কমে গেল কেন? বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কি বলবেন সেটা? কিন্তু বাতাসে অনেক কথা বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত রিজার্ভ তার চেয়েও কম। রাজকোষ শূন্য অবস্থায় এসে পড়েছে। আওয়ামী লীগ বলছে ৩৫ বিলিয়ন বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে ২৪ বিলিয়ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তো আপনাদেরই লোক। যেই আইএমএফ জানতে চেয়েছে তখনই রিজার্ভ কমে গেছে। এই দেশের পরিস্থিতি খুবই ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক গুলোতে কোনো টাকা পয়সা নেই। সব শূন্য অবস্থায়। এরা আওয়ামী লীগ কত লুটপাট করেছে যে আজ খেলাপি ঋণ ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। আর বিএনপি যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন ঋণ খেলাপ ছিল শুধু চার হাজার কয়েকশো কোটি টাকা। এই ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে এই টাকা কে নিয়েছে। এই টাকা সব আওয়ামী লীগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজনেরা নিয়েছে। আজ বলছেন ব্যাংকের টাকা শেষ হয়ে আসছে। দেশের ঋণ খেলাপি কে কে তার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যারা যারা ঋণ খেলাপি তারাই সেই কমিটির সদস্য।’

শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিচ্ছেন। গ্রেপ্তার করছেন মারধর করছেন। নিউটনের তিনটা সূত্র তৃতীয় নাম্বারটা হল আপনি যেভাবে আঘাত করবেন তার বিপরীত সমান প্রতিঘাত হবে। যে অন্যায় করছেন বিএনপির সাথে, হত্যা নির্যাতন গ্রেপ্তার করছেন। খুলনা বরিশাল বিএনপির বড় বড় সমাবেশগুলোর আগে যেভাবে বিএনপি নেতাগুলোর উপর হামলা করছেন রক্তাক্ত করছেন, সমানভাবে এর প্রতিঘাত জনগণকে সাথে নিয়ে দেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে ও আবদুল কুদ্দুস ধীরেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আ ক ম মোজাম্মেল হক, আলী আজগর রিপন মল্লিক, শহীদুল ইসলাম শহীদ, যুবদলের সোহেল আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল সহ মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। এসময় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, মহিউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, শাহ আলম, এসএম জাহাঙ্গীর সহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ