কক্সবাজারের ৪টি আসনেই সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:২৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কক্সবাজারের ৪টি আসনেই সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের চারটি নির্বাচনী আসনেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে জামায়াত প্রার্থীরাও বসে নেই, তারা মরিয়া হয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া), কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর রামু), কক্সবাজার-৪ (উখিয়া টেকনাফ) আসনে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থীদের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ভোটের মাঠে নতুন ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তবে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপি-জামায়াতের লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। এ আসনে সাবেক দুই সংসদ সদস্যদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। এ আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সঙ্গে লড়বেন বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। এ আসনটিতে দুই দলের প্রার্থীরই জয়ের সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি।
কক্সবাজার-১: চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার ১ আসনে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে লড়বেন জামায়াতের তরুণ নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। সালাহউদ্দিন আহমেদ এ আসনে তিনবার এমপি ছিলেন। উনার স্ত্রী হাসিনা আহমেদও একবার সংসদ সদস্য ছিলেন। একজন গৃহিণী হয়েও শুধুমাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থা এবার আরও সুসংহত বলে দাবি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। তাদের মতে, সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপি’র শুধু স্থানীয় নেতা নন, তিনি ন্যাশনাল ফিগার। তিনি জাতীয় সম্পদ, তাই চকরিয়া পেকুয়ার জনগণ তাকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক কক্সবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও কক্সবাজার শহর জামায়াতের সাবেক আমীর ছিলেন। তিনি ভোটের মাঠে নতুন। এটিই তার জীবনে প্রথম নির্বাচন। ফলে ধানের শীষের অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে জামায়াত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক ভোটের মাঠে কতোটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সরওয়ার আলম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
কক্সবাজার-২: মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক দুবারের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। জামায়াতের হয়ে লড়ছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে মাঠে আছেন অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক। ইসলামী আন্দোলনের এ প্রার্থীর বাক্সেও কিছু ভোট জমা হবে বলে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ২০০৮ সালে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে এ আসনে জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ বিজয়ী হলেও এ আসনটিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা এ পর্যন্ত তিনবার বিজয়ী হয়েছে। তাই এই আসনটি বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু দলীয় কোন্দলের কারণে কিছুটা বেকায়দায় আছে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। এ সুযোগটি নিতে চায় হামিদুর রহমান আযাদ। এ আসনে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ও ড. এইচএম হামিদুর রহমান আযাদের মধ্যে জমজমাট লড়াই হবে।
কক্সবাজার-৩: কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার ৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। বিনয় ভদ্রতা এবং সর্ব মহলে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে তিনি বেশ প্রশংসিত। ব্যক্তি ইমেজই তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর। তিনি কক্সবাজার কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও সদর উপজেলার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তিনি নিজেকে নিশ্চিত এমপি দাবি করে বেশ সমালোচিত হন। তিনিই বলেছিলেন, ‘ইয়ান তো সিল মারা অইগেইয়ু, আই এমপি অইয়ুম হনো সন্দেহ নাই ইনশাআল্লাহ’, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলা এ কথার শুদ্ধ বাংলা হলো ‘এটাতো সিল মারা হয়ে গেছে, আমি এমপি হবো কোনো সন্দেহ নেই ইনশাআল্লাহ।’ এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম। তবে বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে লুৎফর রহমান কাজল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
কক্সবাজার-৪: উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসনটিতে এবার বিএনপি’র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সভাপতিও। তিনি এ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি অবশ্যই হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সর্বশেষ তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রথমবারের মতো এমপি প্রার্থী হন। তিনি ভোটের মাঠে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে, বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী অপর শক্তিশালী প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, টেকনাফ আওয়ামী বলয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদের পরিবারসহ বিভিন্ন সময় বিএনপি থেকে ছিটকে পড়া সাবেক নেতাদের দলে ফিরিয়ে নেয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর অবস্থান অনেকটা সুসংহত। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নুরুল হক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ