কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী বদল, নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:০০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী বদল, নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ১০:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার পর মনোনয়ন বদল করার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তার সমর্থক নেতা-কর্মীরা।

গত ২২ ডিসেম্বর নিজের বাবার গড়া দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। এরপর এ আসনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের পরিবর্তে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন ইকবাল সমর্থকরা। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এ আসনের রাজনৈতিক মাঠ।

প্রাথমিক মনোনয়ন পরিবর্তনের ঘোষণা আসার পরই গত ২৪ ডিসেম্বর রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ইকবাল সমর্থকরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কারণে একদিন বিরতি দিয়ে ফের মাঠে নেমেছেন তারা।

সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বাজিতপুর-নিকলীতে আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইকবাল সমর্থক নেতা-কর্মীরা। বাজিতপুর উপজেলার সরারচরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে বাজিতপুর ও নিকলী দুই উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এই মনোনয়নে তৃণমূলের নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছিল। স্বভাবতই এ আসনের আপামর জনতা উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন। কিন্তু জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে মনোনয়ন পরিবর্তন করে সৈয়দ এহসানুল হুদার মতো একজন গণবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া এ সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীসহ নির্যাতিতদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

বাজিতপুর-নিকলীর তৃণমূল নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত মানবে না। রাজপথেই তারা মনোনয়নের ফয়সালা করবে। ইকবালকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পেতে নেতা-কর্মীরা প্রয়োজনে রক্ত দিবে, এরপরও রাজপথ ছাড়বে না। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দলীয় ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপির ভিত্তি দুর্বল করা হচ্ছে। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বাবার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেই এহসানুল হুদার সস্তা মনোনয়ন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে বাজিতপুর-নিকলির রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে যাবে। তাই দলের স্বার্থে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দিতে হবে।

কর্মসূচিতে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির দুর্দিনের নেতা। তিনি বাজিতপুর-নিকলীর বিএনপির প্রাণভোমরা। দুই যুগেরও বেশি সময় তিনি বাজিতপুর-নিকলীর গণমানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে ছাড়া বাজিতপুর-নিকলীর মানুষ কাউকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেনে নিবে না।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা প্রত্যাশা করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেবেন।

কর্মসূচিতে বাজিতপুরের সরারচর রেল লাইন ও মূল সড়কে দুই ঘণ্টা নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। মনোনয়ন পুনর্বহাল না হলে রেলপথ, সড়কপথ, নৌপথ বন্ধ করার হুশিয়ারি দেন ইকবাল সমর্থিত নেতা-কর্মীরা।

এদিকে লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বাজিতপুর বাজারে জনসভা ও জনসভা শেষে মশাল মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী নেতা-কর্মীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ