কিশোরগঞ্জ ৬বিএনপিতে ফ্যাক্টর ‘বিদ্রোহী’ ইকবাল, আশাবাদী জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৩৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ ৬বিএনপিতে ফ্যাক্টর ‘বিদ্রোহী’ ইকবাল, আশাবাদী জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বাজিতপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা। হাওর-সমতলের এ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী বিরোধী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে দলটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি। ৭৯ সালের ৮ই জানুয়ারি, ৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি ও ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি এই তিনটি নির্বাচনে প্রয়াত আমির উদ্দিন আহমেদ এবং ৯৬ সালের ১২ই জুন এবং ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর এই দু’টি নির্বাচনে প্রয়াত মজিবুর রহমান মঞ্জু বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগের পতনের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী বিরোধী শিবিরের দুই প্রধান শক্তি বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী এখানে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাবার হাতে গড়া দল ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী। তবে এই আসনের ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। অনড় বিদ্রোহী এই নেতাকে কোনো হুমকি-ধমকি নির্বাচনী লড়াই থেকে এখন পর্যন্ত নিবৃত্ত করতে পারেনি। যদিও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়ে বিদ্রোহী ইকবাল নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী ইকবাল দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার চেয়েও সংহত অবস্থানে রয়েছেন। এই কারণে ইকবাল সমর্থকরা নির্বাচনী তৎপরতা ও গণসংযোগে বেশ সক্রিয় রয়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিস্থিতি বদলাবে, এমন আশায় বুক বাঁধছেন বিএনপি প্রার্থী হুদা ও তার সমর্থকরা।

তাদের দাবি, দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’কেই বেছে নিবেন দলের সমর্থক, নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটার। এরপরও দলের প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে ‘বিদ্রোহী’ ইকবালই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবেন- এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিএনপি’র এই নির্বাচনী দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে এখানে জয়ের আশা করছে জামায়াত। দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলীর মাধ্যমে এখানে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে চান নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ লক্ষ্যে তারা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক মো. রমজান আলী এই আসনের একজন পরিচিত মুখ। ১৯৭৩ সালে ইসলামী মিশনে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন তিনি। তিনি ১৯৭৮ সালে রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে জামায়াতে যোগদানের পর ১৯৮৪ সালে বাজিতপুর উপজেলা আমীর, ১৯৯৬ সালে জেলা সহকারী সেক্রেটারি, ২০১০ সালে জেলা সেক্রেটারি এবং ২০১৭ সালে জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য নির্বাচিত হন। পাঁচবার জেলা আমীর নির্বাচিত হওয়া অধ্যাপক মো. রমজান আলী বাজিতপুর-নিকলীর সব গ্রামে এনজিও ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজে জড়িত রয়েছেন। তিনি সর্বমহলে একজন গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী মাঠে তিনি মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। স্বভাবতই এ আসনে তার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য দলটি সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এ ছাড়া এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এএইচএম কাইয়ুমকে (হাসনাত কাইয়ুম) নিয়েও আশাবাদী তার কর্মী-সমর্থকরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ