কী করছেন ঢাকার পরাজিত এমপি প্রার্থীরা? - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:০৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কী করছেন ঢাকার পরাজিত এমপি প্রার্থীরা?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাকার আলোচিত ও পরাজিত বেশিরভাগ প্রার্থীই লাপাত্তা হয়ে গেছেন। ভোটারদের সঙ্গে নেই কোনও সমন্বয়। অথচ গত দেড় মাসে নাগরিক দুর্ভোগসহ নানা ইস্যুতে তারা মাঠে সরব থাকার সুযোগ ছিল। বিশেষ করে যানজট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষাব্যবস্থা, পানি-বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটসহ নানা সমস্যায় তারা সেভাবে মাঠে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রার্থী আসলে কী করছেন? তারা কি জনগণের পাশে আছেন? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। তবে কোনও কোনও প্রার্থীর দাবি— তারা পরাজিত হলেও এক দিনের জন্যও মাঠ ছাড়েননি। বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণের পাশে আছেন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের পরাজিত প্রার্থীরা জানান, তারা সরকারের বিভিন্ন দফতরে সমন্বয় করে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। আর ক্ষমতার বাইরে যারা আছেন, তারা জানান— নিজেদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও জনদুর্ভোগ নিরসনে কাজ করছেন।

অপরদিকে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও তাদের কেউ কেউ কেউ প্রতিমন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। আবার অনেকে সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঢাকায় নির্বাচনে পরাজিত আলোচিত প্রার্থীরা

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বেশিরভাগ প্রার্থীই ছিলেন আলোচিত। বিশেষ করে জাতীয়ভাবে পরিচিত প্রার্থীদের আসনে ছিল সবার নজর। তবে এর মধ্যেও অনেকেই পরাজিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন দলের মহানগর সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা-৫ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা-১১ আসনে এম এ কাইয়ূম, ঢাকা-১২ আসনে যুগপতের সঙ্গী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঢাকা-১৪ আসনে মায়ের ডাক এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, ঢাকা-১৫ আসনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও ঢাকা-১৭ আসনে মহানগর উত্তর এর আহ্বায়ক আমিনুল হক।

প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-৬ আসনে ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে হাজী এনায়েত উল্লাহ, ঢাকা-১০ অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, ঢাকা-১৭ আসনে ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।

অপরদিকে জামায়াতের জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা সিটির ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটি (ঢাকা-১১) আসনে জয় লাভ করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আর ঢাকা-৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-৯ আসনে যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন ও ঢাকা-১৮ আসনে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব পরাজিত হন। এই জোটের অন্যতম আলোচিত আরেক প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

বিএনপি ও জামায়াতসহ দুই দলীয় জোটের বাইরেও বেশ কিছু আলোচিত মুখ নির্বাচনি মাঠ কাঁপিয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকা-৯ এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র, ঢাকা-১৮ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-৮ অভিনেত্রী মেঘনা আলম ও ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তার লিমা।

পরাজিত হলেও সরকারের দুই শীর্ষ পদে যারা

সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও সরকারের দুই শীর্ষ পদে স্থান পেয়েছেন ঢাকার দুই আসনের পরাজিত প্রার্থী। তারা হলেন, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পরাজিত হন বিএনপির শফিকুল ইসলাম মিল্টন। তাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই দল থেকে ঢাকা-১৬ আসনে পরাজিত প্রার্থী আমিনুল হক দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।

সিটি নির্বাচনে আলোচনায় তিন প্রার্থী

ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের ডা. খালিদুজ্জামান। তিনি জানান, পরাজিত হলেও এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন তিনি। এলাকায় সাংগঠনিক কাজও বেগবান করছেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলোচনায় রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটি দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে তার প্রস্তুতি রয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসন থেকে জামায়াত জোটের সমর্থনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব। তিনি জানান, নির্বাচনের পরও তিনি জনগণের পাশে রয়েছেন। তিনি বলেণ, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে দলের পক্ষ থেকেও সমর্থন পেয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা-৮ আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলম।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে কোনও অর্থ ব্যয় করা ছাড়া আমি মানুষের বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। একইসঙ্গে আমার অভিজ্ঞতাও অর্জন হয়েছে। এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিয়ে ভাবছি। তবে এক্ষেত্রে আমার দলীয় প্রধানের উপদেশ বা পরামর্শ ফলো করবো। সিটি নিয়ে আমার অনেকগুলো পরিকল্পনা আছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিধন, পরিবেশ রক্ষায় ফলজ গাছ রোপণ, ডে কেয়ার নির্মাণ, ভবঘুরে ও পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হারিয়ে গেছেন অনেকেই, সক্রিয় থাকার দাবি কয়েকজনের

এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কর পরাজিত মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচনের পরদিন থেকেই মাঠে রয়েছেন।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ভূমিকা রেখেছেন।

বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে এলাকার পানি নিষ্কাশনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তাব আমিই প্রথম দিয়েছিলাম। সম্প্রতি তিতাস, সড়ক ও জনপথ ও ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈঠকে এটিও বাস্তবায়নের পক্ষে। সিটি করপোরেশনের সহায়তায় ধোলাইপাড় চৌরাস্তায় ওভারব্রিজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। ৯টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ নির্মাণ ও একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের প্রক্রিয়াও চলমান। জুরাইন কবরস্থানে দাফন কাজে ১৮০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করা হয়েছে আমার প্রচেষ্টায়। এছাড়া জনগণের যেকোনও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের পাশে থাকছেন।

নির্বাচনের দেড় মাসের মাথায় রাজধানীর বেশিরভাগ পরাজিত প্রার্থীই তেমন সক্রিয় নন। সম্প্রতি ঢাকার বেশ কয়েকটি আসনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউন এর। তারা জানান, নির্বাচন পরাজিত হয়ে অনেক প্রার্থীই হারিয়ে গেছেন। জনবান্ধব কোনও কর্মসূচিতেই তাদের দেখা মিলছে না। অথচ এই সময়ে তাদের সামনে অনেক ইস্যুই ছিল। তারা চাইলে জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারতেন। হয়তো তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিলো নির্বাচন করা। হয়তো তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল নির্বাচন করা।

তবে কোনও কোনও প্রার্থীর দাবি তারা পরাজিত হলেও ভোটের পরদিন থেকেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সব সময়ই পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।

ঢাকা-১২ আসন থেকে বিএনপির সমর্থনে নির্বাচন করে দ্বিতীয় হন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হলেও গত দেড় মাসে কমপক্ষে ১০-১২টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। রমজানে স্থানীয়দের নিয়ে বিভিন্ন ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন।তিনি বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির বিপক্ষে ভূমিকা রেখেছেন। সাইফুল বলেন, পরাজিত হলেও জনগণের একটা বড় অংশ আমাকে ভোট দিয়েছে। তাই তাদের পক্ষে আমার এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের পাশে থাকবো।

ঢাকা-১৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন মায়ের ডাক এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি বলেন, পরাজিত হলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে কাজ করছি। আর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলা অনিয়ম দূর করতে কাজ করছি। এছাড়া সাধারণ মানুষের যেকোনও সমস্যায়ও তিনি পাশে রয়েছেন বলে জানান।

ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন। তিনি জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে রয়েছেন। সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করেন একই দলের সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, তিনিও সাধারণ মানুষের বিভিন্ন খোঁজখবর নিচ্ছেন।

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে নির্বাচন করে পরাজিত হন বিএনপির এম এ কাইয়ুম। তিনি জানান, নির্বাচনে তাকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের পরও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলাকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ