কোরবানির ঈদের পর বিএনপির কাউন্সিল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কোরবানির ঈদের পর বিএনপির কাউন্সিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
দলের সাংগঠনিক বিস্তৃতি জোরদার করতে কোরবানি ঈদের পর দ্রুত সময়ে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এছাড়া বাকি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে উদোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এবার দল পুনর্গঠন এবং সাংগঠনিক ভিত্তি চাঙ্গা করতে মনোযোগ দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড। শিগগিরই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব পুনর্গঠন আনতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

পাশাপাশি স্বল্প সময়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।

প্রায় তিন মাস পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জাতীয় নির্বাচনের পর এটিই প্রথম বৈঠক।

সবশেষ নির্বাচনের আগে গত ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র খবরের কাজকে জানায়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকার ৪৭ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক কার্ডসহ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এগুলো পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ সময় তারা নির্বাচনের বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুতই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে মতামত দেন সদস্যরা।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির তিন সদস্য বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনের কিছু কমিমেন্ট বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের ওপর জনগণের বিশ্বাস আরও বাড়বে। এছাড়া দলের কাউন্সিলের পাশাপাশি সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা জরুরি। এতে দলের কার্যক্রম ঠিকঠাক মতো চলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, দল ও সংগঠনের পুনর্গঠন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকটের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কোরবানি ঈদের আগে বিএনপি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই বলে বৈঠকে বেশিরভাগ সদস্য মতামত দেন।

পরে কোরবানি ঈদের পর দ্রুত কাউন্সিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে সুনির্দিষ্ট মাস নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সূত্র আরও জানায়, দলের কাউন্সিল অক্টোবর বা নভেম্বরে হতে পারে। সবশেষ বিএনপির কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এর আগে সংগঠন ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতেও এই কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সদস্য বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্ব পুনর্গঠন, নতুন কৌশল নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেই এই কাউন্সিল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্যদের বিষয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তফসিলের পর এই বিষয়টি আবার আলোচনা হবে।

এছাড়া দেশে এপ্রিল পর্যন্ত কোনো জ্বালানিসংকট নেই বলে বৈঠকে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ৪৭ দিনের কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে। কিছু সদস্য কয়েকটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে।

কোরবানি ঈদের আগে কাউন্সিল সম্ভব হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে কোনো ভাবেই সম্ভব হবে না। কয়েক মাস সময় লাগবে।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় ১১টার দিকে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়াল), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চুয়াল), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে গুলশান কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্যে স্বাক্ষাত করেন নবনিযুক্ত ১৪ জেলার পরিষদের প্রশাসকরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ