ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি বইমেলায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩ ১:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩ ১:৪৮ অপরাহ্ণ

বইমেলা এদেশের মানুষের জন্য এক আবেগের বিষয়। নতুন বছরে নতুন বইয়ের গন্ধে মাতবে, ভর্তি করবে সাধের বুকশেলফ, কতো কী চিন্তা। প্রকাশনাগুলোও পুরো উদ্যেমে বইয়ের জোগান দেয়। হাসি হাসি মুখ নিয়ে অপেক্ষায় থাকে ক্রেতাদের জন্য। ক্রেতারা স্টলে যাবে, কিছু বই হাতে নিয়ে দেখবে। এরপর পছন্দের এক বা একাধিক বই কিনে নিয়ে যাবে।
তবে এবারের মেলায় কিন্তু তা ঘটছে না। মেলার ১৩তম দিনের চিত্রটা বেশ অন্যরকম। মেলায় ঘুরে বেশ কিছু স্টলে গিয়ে জানা গেছে তা। মেলায় আসা লোকদের সংখ্যা বহুল। তবে সকলে কিন্তু ক্রেতা নয়। বই কেনার উদ্দেশ্য এখানে মুখ্য নয়। বরং অবসর সময় কাটানো, ছবি কিংবা ভিডিও করাই প্রধান লক্ষ্য।
পুথিনিলয় প্রকাশনে কথা বলতে গেলে একজন কর্মী জানান, বই পড়তে যারা সত্যি আগ্রহী তারা ঠিকই বই কিনেন। তবে ক্রেতার সংখ্যাটা কম।
ধারণা করা হচ্ছে বইয়ের দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে ক্রেতারা বই কিনছে, তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। জনপ্রিয় স্টলগুলো ছাড়া মেলার বাকি অংশে তেমন ভিড় নেই। বেশিরভাগ দর্শনার্থীর আকর্ষণ কারুকার্যময় স্টলগুলো।
মেলায় ঘুরতে আসে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী লিজা। তিনি বলেন, বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগছিল না। বিকেলে বান্ধবীরা প্ল্যান করে বইমেলায় ঘুরতে আসবে। তাই আমিও ওদের সাথে চলে আসলাম।
মেলায় টিভি চ্যানেলের প্যাভিনিয়নগুলোতেও তেমন রমরমা অবস্থা নেই। গুটি কয়েক নবীন লেখকের সাক্ষাৎকার নিতে দেখা গেছে। আর ক্যামেরাম্যানরা কাঠের উচু টুলের উপরে দাঁড়িয়ে মেলার দৃশ্য ধারন করছে।
মেলায় কথা হয় একজন নবীন লেখকের সাথে। তার নাম মেহেদী হাসান মেঘ। তিনি বলেন, আমি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বই প্রকাশ করি না। আমার লেখা যাদের ভালো লাগে তারা খুবই জোর করল। তাদের জোরাজুরিতেই এবারে ২টি বই বের করলাম।
দর্শনার্থীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেকের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছে। একদল তরুণ গিটারের তালে সমস্বরে গেয়ে যাচ্ছে ‘ফাগুনেরও মোহনায়’ গানটি। কেউ কেউ আবার মেলায় বসা খাবারের স্টলে গিয়ে ভুরিভোজ করছে।
তবে এই প্রাঙ্গনের প্রবেশ পথে সন্ধ্যা নামলে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো থাকে না। এ যাবত কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা কানে আসেনি। তবুও দর্শনার্থীরা বেশ অস্বস্তির শিকার হন। এ ছাড়াও মেলায় ধূলো বালির কারণে দর্শনার্থীদের মাক্স পরে থাকতে হয়। এতে মাক্সের বিক্রি বাড়লেও অস্বস্তিতে থাকছেন দর্শনার্থীরা।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের অধিকাংশই তরুন-তরুনী। বেশ কিছু দম্পতি দেখতে পাওয়া যায়। তবে শিশুদের সংখ্যা খুবই কম।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে সেই তুলনায় ভিড় নেই বললেই চলে। এখানে দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছে সরকারি প্রযুক্তিগত উদ্যেগের স্টলগুলোতে। সেখানে গিয়ে বিনামূল্যে প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন। অনেকেই গ্রহণ করছেন সৌজন্যমূলক উপহার। তবে বইয়ের স্টলগুলোয় কর্মীদের উদাস দেখা গেছে। কারণ সেখানে ক্রেতাদের আনাগোনা নেই। এখানেও দৃশ্য একই রকম। তরুন-তরুনী ঝা চকচকে স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। কিংবা হাত ধরে হেঁটে বেড়াচ্ছে।
গেট ব্যবস্থাপনায় দেখা গেছে দুর্বলতা। মেলা প্রাঙ্গনে দুটো প্রবেশ পথ থাকলেও, বের হওয়ার রাস্তা একটিই। ফলে দর্শনার্থীদের অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ