খরচ বাড়ায় দুর্বিষহ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মেস জীবন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

খরচ বাড়ায় দুর্বিষহ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মেস জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩ ২:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩ ২:৫৮ অপরাহ্ণ

 

আগে মাসে জনপ্রতি বাজার করতাম ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দাম বাড়ায় এ খরচ বেড়ে দাড়িয়েছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা। অনেক সময় তা ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। আগে মাস শেষে নিজ হাত খরচের জন্য কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকলেও এখন চলতে হচ্ছে ঋণ করে। আলাপচারিতার ফাকে এমনটাই বলছিলেন দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান।

সম্প্রতি দেশের বাজারে বেড়েছে মাছ-মাংস থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কিছুর দাম। এই দাম বাড়ার ফলে খরচের চাপ বেড়েছে শিক্ষার্থীদের। যার ফলে মেস জীবন অনেকটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘আগে আমরা মাসের চার শুক্রবারে এক বেলা ভাল খাবারের আয়োজন করতাম। কিন্তু দাম বৃদ্ধির ফলে তা এখন মাসের এক শুক্রবারে আমরা করতে পারি। অনেক সময় তাও পারি না।’

টিউশনি করে নিজ খরচ চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অনাবাসিক ছাত্রদের বাসা ভাড়া ও খাওয়ার খরচের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াতে সকল ক্ষেত্রেই আর্থিক চাপে পড়ছেন সকল স্তরের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে তোহা ইসলাম নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সম্প্রতি সারাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান টিউশনি করে নিজের থাকা খাওয়ার খরচ চালাতে হয় তারা খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি। পুরান ঢাকায় টিউশনির সম্মানি যেমন কম তেমনি খরচও বেশি হয়। এদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে মাস শেষে কোনো টাকা থাকেনা বরং ধারদেনা করে চলতে হয়।’

জাহিদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একজন অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে আমার আয় সীমিত। টিউশনি থেকে প্রতিমাসে আমার আয় ৭ হাজার টাকা। যেই টাকা দিয়ে গত কয়েক বছর আমার পড়াশোনাসহ সকল খরচ টেনেটুনে হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্বগতিতে আমার পক্ষে পড়াশোনাসহ অন্যান্য খরচগুলো মিটানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিমাসে আমার বাড়িভাড়া, খাবার খরচ, সকল বিলসহ পূর্বে যেখানে ৪ হাজার টাকায় হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সেটা ৬ হাজারেরও বেশি দিয়ে হয় না।’

এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘যেখানে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ৫ টাকা দামের চা পান করতাম। আজ তার মূল্য ৮/১০ টাকা। ৫ টাকার একটি পরোটা আজ ১০ টাকা। ৩০ টাকা দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে ক্লাস করতে যেতাম। কিন্তু আজ সেটা ৫০/৬০ টাকা। তাই এখন আমাকে না খেয়েও ক্লাস করতে হয়। আমি যে বইগুলো ১৫০-২০০ টাকায় পেয়ে যেতাম। বর্তমানে তার মূল্য ৩০০-৩৫০ টাকা। একদিকে দ্রব্যমূল্যের এই চড়া দাম। অন্যদিকে আমার আয় সেই ৭০০০ টাকাই। বর্তমানের দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্বগতি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার জন্য খুবই ভয়াবহ। প্রতি মাসের টাকা ম্যানেজ করার চিন্তায় একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত টেনশনে আবদ্ধ করে রাখে। পড়াশোনায় সে মনোযোগী হতে পারে না।’

অনার্স পড়ুয়া সোহান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছয় মাস আগেও যেখানে ৮/৯ হাজার টাকায় একজন ব্যাচেলরের এক মাসের খরচ হয়ে যেত। এখন এটি মাসে ১৪/১৫ হাজার টাকা হয়ে গেছে। মাসিক খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রয়লার মুরগী, শাক-সবজি সবকিছুর দামই বেড়েছে। খাতার দামও বেড়েছে। কিন্তু আমাদের আয় বাড়েনি। টিউশনির বেতনও বাড়েনি। ছয় মাস আগে যা ছিল এখনও তাই আছে।’

এদিকে সাংসারিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় টিউশনি থেকে কোচিং এর দিকে ঝুকছেন অভিভাবকেরা। কাজেই কমেছে শিক্ষার্থীদের টিউশনি পাওয়ার প্রবণতা। টিউশনির কমে যাওয়া, খাবার খরচ বৃদ্ধি, বাসা ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে শিক্ষা উপকরণের দাম। সব কিছুর সাথে শিক্ষা উপকরণে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি চাপে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাগজের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে বই ও খাতার দাম। পাশাপাশি বেড়েছে অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রীর দাম।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যে খাতা আগে ছিল ৫৫-৬০ টাকা, এখন সেটা বিক্রি করছি ৭৫-৮০ টাকায়। সাধারণ জ্যামিতি বক্সের দাম ছিল আগে ৬০ টাকা, এখন তা দোকানদারেরই কিনতেই হচ্ছে ৯০ টাকায়।

সরেজমিনে নীলক্ষেত বইয়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক রিম সাদা কাগজের মূল্য ছিল কয়েক মাস আগে ৩২০ টাকা। এখন কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর বিক্রি হচ্ছে ১,২০০-১,৪০০ টাকায়, আগের দাম ছিল ৭০০-৮০০ টাকা। বাঁধাই করা ৪০ টাকার কাগজের খাতা ৬৫-৭০ টাকা। সাধারণ জ্যামিতি বক্স যেটির দাম ছিল ৬০ টাকা, সেটি এখন ১২০-১৩০ টাকা। কলমের ডজন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা; পেনসিল ও রং-পেনসিলের দাম গড়ে ৫ টাকা বেড়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনায় শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি মেস জীবনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রুতই দামের উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান শিক্ষার্থীদের।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ