খুনী শেখ হাসিনাকে আইনের মুখোমুখী হতে হবে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:০০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

খুনী শেখ হাসিনাকে আইনের মুখোমুখী হতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৪ ২:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৪ ২:৪৭ অপরাহ্ণ

 

মো মঞ্জুর হোসেন ঈসা , বিশেষ প্রতিনিধি
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থা বিলোপ, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তির লক্ষ্যে, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়েঅন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের ধ্বংসাবশেষ ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে এখনো সক্রিয়। এই অভ্যুত্থানকে সফল করতে হলে ফ্যাসিবাদকে সমূলে উৎখাত করতে হবে।

আজ বুধবার সকালে‘কাউন্সিল এগেইনস্ট্ ইনজাস্টিস’ ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গুমের শিকার ব্যক্তিগণ ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর উত্তরাস্থ সদর দপ্তরের সামনে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে এ দাবী জানান।
এ সময় স্মারকলিপি পাঠ করে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিবাদি অপশক্তির ছত্রচ্ছায়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। বিশেষ করে র‌্যাবের মাধ্যমে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আটকে রেখে নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশে^র বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘণের অভিযোগ করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও অন্যায় আচরণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। গুমসেল ও আয়নাঘরগুলি এখনো জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হয়নি। অনতিবিলম্বে সকল গুমসেল ও আয়নাঘর জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে এগুলোকে জাদুঘরে রূপান্তর করতে হবে। এবং দোষীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান ও মায়ের ডাক এর প্রতিনিধি মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, আয়নাঘর থেকে বন্দী যারা রয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা গত ১৬ বছর গুম ও খুনের সাথে জড়িত এবং যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। খুনী হাসিনা গুম-খুনের প্রধান আসামী হিসেবে তাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। তিনি আরো বলেন, গুম তদন্ত কমিশনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সকলে গিয়ে লিখিতভাবে তাদের অভিযোগ প্রেরণ করতে পারেন। এছাড়াও মায়ের ডাক ৫৫৪ শাহীন বাগে এসেও আপনাদের লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচার শক্তি র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন করতে বিভিন্ন জঙ্গি নাটক সাজিয়ে আসছে। বিনাবিচারে দিনের পর দিন গুম রেখে কোনো অভিযোগ না পেয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে জঙ্গি জঙ্গি খেলায় মেতে উঠেছে। ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে ন্যায়-ইনসাফের যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে সফল করতে হলে জঙ্গি প্রহসন বন্ধ করে সকল আয়নাঘর মুক্ত করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে পুনর্বাসনের দাবি জানান তাঁরা।

সমাবেশ শেষে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি র‌্যাবের ডিজি বরাবর পেশ করেন। প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন, সিএআই-এর আহ্বায়ক শের মুহাম্মাদ সাঈদ, মায়ের ডাকের মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল ইসলাম ও সিয়ান পাবলিকেশন্স-এর প্রকাশক আহমদ রফিক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ